Ads-Top-1
Ads-Top-2

লাকীর বাসা থেকে কোটা আন্দোলনের নেতা আটক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 02:00:00 আপডেট: 02:25:00
লাকীর বাসা থেকে কোটা আন্দোলনের নেতা আটক

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা এবিএম সুহেলকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তারের বাসা থেকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুহেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গত এপ্রিলে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামার পর তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী তার ফেসবুকে এই ঘটনাটি তুলে ধরেছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ‘আটকের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বলতে পারছি না। আমি খোঁজ নিছি এই রকম কেউ বলতে পারছে না। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে অ্যারেস্ট করা হয়নি।’ 

ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানকে কয়েকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

লাকী আক্তার ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমার বাসা শান্তিনগর। ভোরে বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে ৮-১০ জনের একটি দল তাকে নিয়ে গেছে। কিন্তু ডিবির কোন বিভাগ, সেটা জানায়নি। বলে গেছে সকালে ডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করে সফল হইনি।’

লাকী ফেসবুকে স্টাটাসে লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক সুহেল আমার বাসায় ছিল। তারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। ভোর সোয়া ৪টা নাগাদ বাসায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়।’ শুরুতে তারা বেশ উত্তেজিত ছিলেন বলেও জানান ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী।

এত রাতে কোন অভিযোগে আমার বাসায় তল্লাশি করবেন-এমন প্রশ্নও করেন লাকি। ‘আর তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। আমি বললাম আপনারা সকালে আসেন। অনেকক্ষণ বাক-বিতণ্ডার পর অবশেষে তারা বাড়িওয়ালা আংকেলকে নিয়ে আসলে সাড়ে চারটার দিকে আমি দরজা খুলি’-লেখেন লাকি।

‘যাওয়ার আগে বাসার কম্পিউটারের হিস্ট্রি চেক করেন। এছাড়া সুহেল যে রুমে ছিল সেখানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। সুহেলের ব্যবহৃত একটি ফোন ছাড়া আর কিছুই তারা পাননি। প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা আমার বাসায় অবস্থানকালে সুহেলকে আলাদা রুমে হাতকড়া পরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় আমাদের সব ফোনগুলো তারা জব্দ করে রাখেন। আমার ফোনও তারা চেক করেন। যদিও ঘরে প্রবেশ করার পর আমাদের কারও সাথে উত্তেজিত আচরণ করেননি তারা।’

লাকী আরও জানান, ‘সুহেলকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি জানতে চাইলাম ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী। তারা বললেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বাসায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের লিফলেট-পোস্টার আছে কি না জানতে চান। বাসায় সেরকম কোনো কিছু না থাকায় আমি তাদের দেখাতে পারিনি। তবে সেজন্য তারা বাড়তি কোনো তল্লাশিও করেননি।’

লাকী জানান, ‘যাওয়ার আগে সুহেল তার মাকে কিছু না জানাতে অনুরোধ করেছেন। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেছেন। তাই এই ঘটনা জানতে পারলে তারা মা আরও ভেঙে পড়তে পারেন।’

গোয়েন্দাদের এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘যখন তখন সাদা পোশাকে নাগরিকদের ঘরে হানা দেয়ার এই সংস্কৃতি একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে শঙ্কিত করে। তবে কি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত থাকলে মানুষকে এভাবে আতঙ্ক নিয়ে রাত কাটাতে হবে?’

ব্রেকিংনিউজ/ টিটি/ এসএ 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2