Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘ওমর ফারুকের কারণেই বিএফইউজের নির্বাচন স্থগিত’

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 04:25:00
‘ওমর ফারুকের কারণেই বিএফইউজের নির্বাচন স্থগিত’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সদ্য বিদায়ী মহাসচিবের (ওমর ফারুকের) কারণেই নির্বাচন স্থগিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জলিল-কাজল-মধু পরিষদ।

রবিবার (৮ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (‌ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের পক্ষে বিএফইউজে নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী আবদুল জলিল ভূঁইয়া, মহাসচিব প্রার্থী জাকারিয়া কাজল ও কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী মধুসূদন মন্ডল, যুগ্ম-মহাসচিব প্রার্থী নাসিমা সোমা, সদস্য জহুরুল ইসলাম টুকু, খায়রুজ্জামান কামাল ও শেখ মামুনুর রশীদ।

মহাসচিব প্রার্থী জাকারিয়া কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী মহাসচিব অজ্ঞতাবশত অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন স্থগিত করেছেন। শ্রম আদালত থেকে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে আপনারা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) অপরিবর্তিত, পূর্ণাঙ্গ ও সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ করবেন। সেই প্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই বিএফইউজে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক ঢাকা সাংবাদিক ইউনয়ন নির্বাচন কমিশনকে তালিকা দিয়েছে। এরপরে এই তালিকা অনুযায়ী ভোটগ্রহণে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। রহস্যজনক কারণে বিদায়ী মহাসচিব আপত্তি জানালেন, তিনি বললেন, ওই ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন হবে না। তিনি যে ভোটার তালিকা দিয়েছেন, সেই তালিকা অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হবে।’

কাজল বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনে শ্রম অধিদফতরের একজন প্রতিনিধি থাকার কথা। এটা আইন। কমিটি এটা পাত্তা দেয়নি। প্রতি পদক্ষেপে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রতি পদক্ষেপে অজ্ঞতাপ্রসূত অবহেলা অথবা ইচ্ছাকৃত অবহেলা, দুটোই সমান অপরাধ। যাদের কারণে এটি হয়েছে তাদের ব্যাপারে আপনারা (সাংবাদিক) সিদ্ধান্ত নেবেন। যাদের ভোটার স্থগিত করা হয়েছে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নিয়েই নির্বাচন করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণ জানতে চাইলে সভাপতি প্রার্থী আবদুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন ব্যক্তি হলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি যারা করেছেন। তিনি মহাসচিব, প্রধান নির্বাহী। তিনি তখন বলেছেন তার দেয়া তালিকাতেই নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে তিনি আদালতে যাবেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশন আর এগুতে পারেনি।’

এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া কাজল বলেন, ‘এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বলেছে আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে আমরা নির্বাচন করবো না। তখন আমাদের আর কিছু বলার ছিলো না। বিগত নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে, আমরা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে চাই। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেই ভাবমূর্তিটা ফিরিয়ে আনতে চাই।’

বিগত কমিটির মাধ্যমে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘিত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘গত নভেম্বরের ২৯ তারিখে নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিলো। কী কারণে হয়নি? গঠনতন্ত্রে আছে নির্বাচন পেছানো যায়, যদি দেশে কোনও জরুরি অবস্থা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, দুর্ভিক্ষ হয়। কিন্তু এ বছর নির্বাচন পেছানো হয়েছে কারণ ছাড়া। এর বিচারের দায়িত্ব আপনাদের।’ 

অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচন পেছানো হয়েছে কিনা এমন প্রসঙ্গে কোষাধক্ষ্য প্রার্থী সদ্য বিদায়ী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মধুসূদন মন্ডল বলেন, ‘আমি ওই কমিটির ট্রেজারার ছিলাম। এটা দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়ের তিন মাস আগেই নির্বাচন চেয়ে আন্দোলন করেছি। সভা-সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনও কোনও নেতা আমি নাম বলতে চাই না তারা এটা দীর্ঘস্থায়ী করেছেন। এটা গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এখন রেজিস্ট্রার্ড হয়েছে। রেজিস্ট্রার্ড সংগঠনের মেয়াদ তিন বছর। আমি বার বার বলেছি নির্বাচন করেন, ম্যান্ডেড নিয়ে তিন বছর থাকেন। কিন্তু এই কমিটি ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এই চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। তবে এই অশুভ শক্তিকে আমরা বিতাড়িত করতে সক্ষম হবো।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া কাজল বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু আপনারা জানেন ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে কী হচ্ছে। মানুষ সেখানেই বিনিয়োগ করে, যেখানে মুনাফা পায়। এখানে যখন বিপুল বিনিয়োগ করবো, তখন মুনাফা তুলে নেয়ার অসৎ উদ্দেশ্য থাকবে। আপনার সবাই সাংবাদিক বিষয়টি মাথায় রাখবেন, সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৬ জুলাই শুক্রবার বিএফইউজে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ছিলো। প্রার্থী হিসেবে সব প্রচারণা শেষ করা করেছি। শেষ সময় জানতে পারি নির্বাচন দুইজন প্রার্থীর মামলায় প্রথম শ্রম আদালত স্থগিত করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রার্থীদের কাছে করণীয় জানতে চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি, সহসভাপতি, মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচন লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ৫ জুলাইয়ের সভায় স্থগিত করা ভোটারদের ভোটাধিকার বিষয়ে আপত্তি করেন মহাসচি (ওমর ফারুক)।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘যাদের স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয়নি, নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং গতিশীল সাংবাদিক স্বার্থ সংরক্ষণকারী বিএফইউজে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মহাসচিব প্রার্থী জাকারিয়া কাজল।

‌ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/ এসএ 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2