Ads-Top-1
Ads-Top-2

সস্তার ফোনে ভয়ঙ্কর প্রতারণা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 12:25:00 আপডেট: 02:34:00
সস্তার ফোনে ভয়ঙ্কর প্রতারণা

সময়ের সাথে বাড়ছে প্রতারণার ধরন, বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা। এবার ইন্টারনেট কিংবা ফেসবুকে নয় গাঁটের পয়সা খরচ করে থ্রিজি/ফোরজি ফোন কিনতে গিয়ে ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ে গচ্ছা দিচ্ছে কষ্টার্জিত অর্থ। 

হ্যান্ডসেটের ডিজিটাল প্রতারণার শিকার রাজধানীর জুরাইনের বাসিন্দা মনির হোসাইন জানান, সম্প্রতি বিক্রমপুর প্লাজার একটি দোকান থেকে হটওয়েভ ব্র্যান্ডের আর৯ মডেলের একটি হ্যান্ডসেট কিনেন তিনি। কেনার পর থেকেই সেটটি তার পুরোনো সেটের চেয়েও ধীর গতিতে কাজ করতে শুরু করে। থ্রিজি নেটওয়ার্ক সুবিধার জন্য ফোনটি কিনলেও তা যেন টুজি’র চেয়ে স্লো।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম এটি নেটওয়ার্কের সমস্যা। অপারেটর বদল করেও দেখি সমস্যার কোনো হের-ফের হয়নি। আমার বন্ধুরা তাদের সেটে দুর্দান্ত গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। আর আমার ফোন গরম হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।’

‘বিরক্ত হয়ে ফোনটি মোবাইলটি ঠিক করার দোকানে দেই। তিনি জানালেন এতে তো র‌্যাম কম। মাত্র ৫১২ এমবি। আমি তো তার কথায় মহাবিরক্ত। আমি কিনলাম ২জিবি র‌্যামের ফোন। আর সে কি না বলে ৫১২ এমবি?’

এক পর্যায়ে তিনি ফোনটি একটি ল্যাবে নিয়ে টেস্ট করান। ল্যাব প্রতিবেদন হাতে পেয়ে তিনি জানতে পারলেন সেটের মোড়কে মুদ্রিত স্পেকের সঙ্গে ফোনটির অরিজিনাল স্পেকের মধ্যে গড়মিল রয়েছে। প্যাকেটে প্রসেসর ১.৩ গিগা হার্ডজ লেখা থাকলেও এতে রয়েছে ১.২ গিগা; র‍্যাম ২জিবির পরিবর্তে আছে ৫১২ এমবি, রম ১৬ জিবির বদলে পাওয়া গেছে ২ জিবি।

প্রতারণার শিকার সবুজবাগ থানার অধিবাসী একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরিরত হাসিবুর রহমানও জানান তিনি রাজধানীর মোতালেব প্লাজা থেকে বাইটুএনথ্রি৬০ মডেলের হ্যান্ডসেট কিনে এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি তার ফোনটি দেশের একটি নামকরা ব্র্যান্ডের মোবাইল ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন, সেটটির প্যাকেটে ৫ মেগা পিক্সেল লেখা থাকলেও সেখানে মূলত ১.৯ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ৩২০০ এমএএইচ এর বদলে ১৯৫৮ এমএএইচ ব্যাটারি দেয়া হয়েছে।

আল আমিন ও হাসিবের মতো এমন অনেক ক্রেতাই প্রতিনিয়ত মোবাইল হ্যান্ডসেটের এই ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নাকের ডগার ওপর দিয়েই মোতালেব প্লাজা, স্টার্ন প্লাসসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল মার্কেটে প্রকাশ্যেই চলছে এমন ডিজিটাল প্রতারণা। 

প্রতারণার শিকার এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুসন্ধান করে দেখা গেছে হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার মেসার্স আনিরা ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ হটওয়েভ ব্র্যান্ডের এবং সাহাবা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাইটু ব্র্যান্ডের আমদানিকারক। স্পেক প্রতারণা করে প্রচলিত ব্র্যান্ডের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রির অফার দিয়ে তারা অনলাইন-অফলাইনে এবং এজেন্টদের মধ্যেও রমরমা ব্যবসা করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মোবাইল ইম্পোর্টার্স অ্যসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ‘অভিযুক্ত আমদানিকারক বর্তমানে আমাদের সক্রিয় সদস্য নয়। তাই আমরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। তবে এ ধরনের প্রতারণা যেন না হয় সে জন্য অ্যাসোসিয়েশন সবসময় সোচ্চার থেকেছে।’

‘সংগঠন বা কমিউনিটির বাইরে থেকে যারা এই ব্যবসায় করছেন তারাই মূলত এ ধরনের অপকর্ম করছেন। এতে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রেতা ও সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।’ আমরা মনে করি, সুনির্দিষ্ট মান নির্ধারণ ও তা যাচাই পূর্বক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করে অবৈধ পথে দেশে মোবাইলফোন আমদানি রুদ্ধ করা না গেলে এ পরিত্রাণ দুরূহ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করবো সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্রেতাদের এই ডিজিটাল প্রতারণা থেকে রক্ষা করবেন।’

ব্রেকিংনিউজ/ ইহক/ এসএ 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2