Ads-Top-1
Ads-Top-2

স্বামীর নির্যাতনের প্রতিবাদে ওরোমো নারীদের লাঠির ব্যবহার

রকমারি ডেস্ক
২ জুলাই ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 07:35:00 আপডেট: 11:06:00
স্বামীর নির্যাতনের প্রতিবাদে ওরোমো নারীদের লাঠির ব্যবহার
ছবি: ওয়েবসাইট

উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। উঁচু পর্বত আর অনুর্বর মরুভূমির এই রুক্ষ দেশটিতে ৭০টিরও বেশি জাতি ও ভাষার মানুষের বাস।

দেশটির প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি। আজ আমরা ওরোমো নামের একটি জাতিগোষ্ঠীর বেশ পুরনো একটি ইতিহাস জানবো। 

ওরোমো জাতিগোষ্ঠীর নারীরা তাদের বিয়ের সময় বাবা-মার কাছ থেকে সিনকিউ নামের একটি কাঠের লাঠি পেয়ে থাকেন। লাঠিটিকে তার রক্ষাকবচ হিসেবে ধরা হয়। সিনকিউ তৈরি করেন মেয়ের বাবা। আর মেয়ের মা সেটা মেয়ের হাতে তুলে দেন।

স্বামী মারতে এলে নারীরা এই লাঠির ব্যবহার করে থাকেন। হয়তো ভাবছেন স্ত্রী তার স্বামীর ওপর পাল্টা আঘাত করেন কিনা। ব্যাপারটি আসলে তা নয়।

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ, সারা ডুবে বলছিলেন ‘এখানকার ঐতিহ্যবাহী যে আইন আছে তাতে বলা হয়েছে, একজন বিবাহিত নারীকে অপমান, বা কোন ধরণের নির্যাতন করা যাবে না। এটা একটা অপরাধ’।

বিষয়টা আসলে কেমন হয় সেটা বোঝাতে পূর্বপরিকল্পিত একটা পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে।

এখানে দেখানো হচ্ছে একজন পুরুষ লাঠি হাতে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকছে, উদ্দেশ্য তার স্ত্রীকে মারবেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তে মহিলাটি তার শিশুকে কোলে নিয়ে হাতে সেই সিনকিউ নিয়ে বের হয়ে আসছেন। আর মুখে উচ্চারণ করছেন এই শব্দ।

এই শব্দ করার উদ্দেশ্য যাতে করে আশেপাশের অন্যান্য নারীরাও জানতে পারে যে তার উপর নির্যাতন হয়েছে।

সাথে সাথে পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা নারী রয়েছেন তারা তাদের সিনকিউ নিয়ে দৌঁড়ে চলে আসলেন। মহিলাটা মাঝখানে বসে পরলেন। আর তাকে ঘিরে এই নারীরা ঘুরতে থাকলো- যেন তাকে রক্ষা করা হচ্ছে সব বিপদ থেকে।

সারা ডুবে  আরো বলেছেন, ‘মেয়েদের হাতে দেয়া হয় সিনকিউ, যাতে তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করতে পারে’।

এদিকে নারীদের এই শব্দ শুনে গ্রামের মুরুব্বিরা চলে আসেন একটা বিচার বসানোর জন্য।

চলতে থাকে শুনানি। নারীরা বলেন ‘তাকে মারা মোটেই উচিত হয়নি। তার স্বামীর বিচার না করা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না’।

শুনানির পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাদের রায় শোনালেন। রায় অনুযায়ী মহিলার স্বামী সবার সামনে ঐ নারীর কাছে মাফ চাইলেন। একই সাথে সবার সামনেই প্রতিজ্ঞা করলেন আর কখনো তাকে মারবেন না। রায়ে আরো বলা হল যদি সে এর ব্যতিক্রম করে তার জন্য ভবিষ্যতে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। সূত্র-বিবিসি।

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2