শিরোনাম:

‘মানুষ হত্যা করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলো বিএনপি’

রাহাত হুসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুন ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 11:03 আপডেট: 12:52
‘মানুষ হত্যা করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলো বিএনপি’

৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নকালীন ছাত্রলীগের পক্ষে সূর্যসেন হলের ছাত্র সংসদে ভিপি’র দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব প্রদান করেন। সে সময়  তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় উঠে আসে তার রাজনৈতিক  জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও ব্যক্তি জীবনের নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।

ব্রেকিংনিউজ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে কি ভাবছে আওয়ামী লীগ?

আফজাল হোসেন: ‘বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে দলটির ভাবমূর্তি এতটাই শূন্যর কোটায় নেমে এসেছে যে, শুধু দেশের মাটিতে নয় কানাডার আদালত  পর্যন্ত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করার যথেষ্ট কারণ আছে। গণতন্ত্রকে ব্যাহত করার জন্য সন্ত্রাসের আশ্রয় নেয় এ দলটি। মানুষ হত্যা করে। স্বাধীনতার পর সাধারণ মানুষ হত্যা করে আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে এমন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের ইতিহাস  বাংলাদেশে খুব একটা নেই। কিন্তু সেই কাজটিই করতে চেয়েছে বিএনপি।’

‘নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা ২৩১ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। দেশের কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়ে নষ্ট করেছে। ভবিষ্যতেও এমনটি করলে দেশের জনগণ সেটি কখনোই মেনে নিবে না। একাদশ সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। নির্বাচনে আমরা (আ.লীগ) সকল দলের অংশগ্রহণ চাই। তবে কেউ যদি  নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়ায় তার জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। দেশে একটি নয় অনেকগুলো রাজনৈতিক দল আছে।’

ব্রেকিংনিউজ: বিএনপি একটি বড় দল তারা যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে সে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে কিনা?

আফজাল হোসেন: আমরাও চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আনতে ফোন করেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তাকে ভৎসনা শুনিয়েছেন। বেগম জিয়ার সন্তানের লাশ দেখার জন্য বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন। তাকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল। তারা তাও গ্রহণ করেনি। তারা চেয়েছিলো হত্যা, সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও  করে ক্ষমতায় আসবে। দেশের মানুষ তাদের জালাও-পোড়াওকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করুক। দেশের মানুষ এটা কখনও চাইবে না।’



ব্রেকিংনিউজ: আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় গেলে কোনো কাজকে প্রাধান্য দিব?

আফজাল হোসেন: আমাদের কাছে রাজনৈতিক শত্রুতা বা বিরোধিতা বড় বিষয় নয়। আমাদের বড় শত্রু দারিদ্র্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দারিদ্র্যকে  আমরা দেশ থেকে নির্মূল করতে চাই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো। দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি  পেয়েছে। বিশ্ববাসী এখন বাংলাদের উপর আস্থা রাখে। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সক্ষম হবো। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ জাতিকে উপহার দিতে পারবো। আগামীর প্রজন্ম একটি উন্নত দেশ পাবে এ লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

ব্রেকিংনিউজ: আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান কি?

আফজাল হোসেন: বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। আমি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে চীনে গিয়েছিলাম। সেখানে রোহিঙ্গাদের সমস্যা আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তুলেছিলাম। চীনের পক্ষ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছিলাম। আমি মালয়েশিয়ার একটি রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রণে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেছি। সেখানেও আমাদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

ব্রেকিংনিউজ: আপনার নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-১ আসন নিয়ে কি ভাবছেন?  

আফজাল হোসেন: ‘ঐতিহ্যগতভাবে পটুয়াখালী আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জায়গা। ওখানকার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে অভ্যস্ত। ১৯৭৯ সালে সামরিক শাসনের দুর্দিনেও পটুয়াখালীতে নৌকা মার্কার প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছিল।’

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের জন্য যা করেছেন অতীতের কোনো সরকার তা করেনি। পটুয়াখালী নিয়ে আমার দীর্ঘ স্বপ্ন রয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কর্মী হয়ে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। আমার আগ্রহের কথা আমি নেত্রীকে জানিয়েছি। আমি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে পটুয়াখালীতে অন্য দলের এমপি হওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত হতে পারছে না।’

ব্রেকিংনিউজ: মনোনয়নের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

আফজাল হোসেন: আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে। আমি বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি আমাকে মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন পেলে এ আসনটি আমি নেত্রীকে উপহার দিতে পারবো। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবো। আগামী নির্বাচনে মানুষ এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের এমপিকে দেখতে চায়। তারা পরিবর্তন চায়।’

ব্রেকিংনিউজ: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আফজাল হোসেন: ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/ এসএ 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2