Ads-Top-1
Ads-Top-2

চট্টগ্রামে শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণ

জীবন মুছা, চট্টগ্রাম
২৭ জুন ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 02:43:00 আপডেট: 10:15:00
চট্টগ্রামে শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণ

চট্টগ্রামে শত বছরের পুরনো পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর উত্তর আগ্রাবাদ দাইয়া পাড়া এলাকায় মসজিদের পাশে পুকুরটি ভরাট করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। রাতের অন্ধকারে কৌশলে বেড়া দিয়ে পুকুরটি ভরাটের জন্য বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর পুকুর ভরাট না করতে বাধা দেয়ার পরেও এ চক্রটি তা অব্যাহত রেখেছে। এনিয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই কাউন্সিলর।

পরিবেশ অধিদফতরে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নগরীর উত্তর আগ্রাবাদ দাইয়া পাড়া এলাকায় দাইয়া পাড়া মসজিদের পুকুরটি। মসজিদের দক্ষিণ পাশে এর অবস্থান। বিশাল আকৃতির এ পুকুরটি দখল হতে হতে এখন অনেকটা ছোট হয়ে গেছে। পুকুর পাড়ে একটি বড় গাছ ছিল সেটিও কোনো এক সময় কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। 

পুকুর ভরাটের সুবিধার্থে প্রতিনিয়ত পুকুরের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুকুরের গভীরতাকে সংকুচিত করেছে। স্থানীয় জনৈক নাজির হোসেন গং সংঘবদ্ধ হয়ে শতবর্ষী এ পুকুর ভরাট করছে বলে জানা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মাটি দিয়ে পুকুরটি ভরা করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের জন্য বেড়া দিয়ে বাউন্ডারি তৈরি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে লোক চক্ষুর অন্তরালে দেয়া হয় বেড়ার বাউন্ডারি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, পুকুরটি ভরা করা হলে সেখানে পানির উৎস বিলীন হয়ে যাবে। এলাকায় কোন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আগুন নির্বাপণের জন্য পানি পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া স্থানীয় নিম্ম আয়ের লোকজনও পড়বে পানি সংকটে। অনেকেই এ পুকুরের পানি দৈনন্দিন কাজে এ পুকুরের পানি ব্যবহার করে থাকেন।

এ ছাড়া পুকুরটি ভরাট হয়ে ভবন তৈরি হলে মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্ব অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এতে করে মসজিদের মুসুল্লিরা প্রয়োজনীয় আলো বাতাসসহ অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হবে। এলাকার পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে বলে জানান স্থানীয়রা।

মসজিদের মোতোয়াল্লি ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাবেদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দাদা এ পুকুরটি মসিজদ এবং এলাকাবাসীর ব্যবহারের জন্য দান করেছিলেন।’ বিএস খতিয়ানে এটি মসজিদেও পুকুর হিসেবে উল্লেখ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত প্রায় শত বছর থেকে স্থানীয়রা এ পুকুরটি ব্যবহার করে আসছে। মসজিদের মুসল্লিসহ এলাকাবাসীর ব্যাপক প্রয়োজনে কাজে লেগেছে এ পুকুরটি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে একটি ভূমি দস্যু চক্র পুকুরটি ভরাট করে দখল করে নেয়ার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছে।’

নগরীর ১২, ২৩ ও ২৪ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোছাম্মৎ ফারহানা জাবেদ বলেন, ‘পুকুর ভরাট না করতে মৌখিক ভাবে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় এ সংঘবদ্ধ চক্রটি কোনো বাধাই মানছেনা।’

তিনি বলেন, ‘তার শশুর এবং দাদা শশুর এ পুকুরটি পর্যায়ক্রমে মসজিদের জন্য দিয়েছিলেন। বিগত শত বছর ধরে স্থানীয়রা এ পুকুর ব্যবহার করে আসলেও বর্তমানে এটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়া পথে। পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে এ এলাকার পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।’

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী এ পুকুরটি ভূমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করতে পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/ জেএম/ এসএ 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2