Ads-Top-1
Ads-Top-2

হালি শহরে পানিবাহিত রোগে ১০ জনের মৃত্যু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 11:44:00 আপডেট: 03:21:00
হালি শহরে পানিবাহিত রোগে ১০ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের হালিশহরে জন্ডিসসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১ মাসের ব্যবধানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় মারাত্মকভাবে নানা ধরনের পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জন্ডিসসহ হেপাটাইটিস-ই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে সরকারিভাবে ৩ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে।

এরই মধ্যে পরপর ইয়াসির আরাফাত (২৮), শাহেদা মিলি (৪০) ও আশিকুল রিসাত (১৮) নামের তিন জনের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম আতঙ্ক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা.আজিজুর রহমান জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক্ষেত্রে ওয়াসার দূষিত পানি সেবন করে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলেও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। ওয়াসা এমডির দাবি, টানা জলাবদ্ধতার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির টাংকি ডুবে যাওয়ায় সেখানকার পানি দূষিত হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা.আজিজুর রহমান। 

নগরীর হালিশহরে হেপাটাইটিস-ই এর প্রকোপ ধরা পড়ে গত দেড় মাস আগে। এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ সময় জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল সে সময় জন্ডিস আক্রান্ত কয়েক শত মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

রমজানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজনের মৃত্যু হলেও এটিকে স্বাভাবিক মনে করে কোনো আলোচনায় আসেনি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে এই এলাকায় আবারো হেপাটাইটিস ই এর প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধরা দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হালিশহরের সবুজবাগ এলাকার অধিকাংশ ঘরে জন্ডিস ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কালিবাড়িতে ১১ জন এবং বড় মসজিদ এলাকায় ১৪ জন জন্ডিস রোগী শনাক্ত করা হয়। তাছাড়া গত এপ্রিল–মে মাসে ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকসার্স ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে হালিশহর এলাকা থেকে ৩০২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নেন। দুটোই পানিবাহিত রোগ হওয়ায় তা ওইসব এলাকার পানি থেকে ছড়ানোর আশঙ্কা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় অনেকে ওয়াসার পানি থেকে পানিবাহিত এ রোগ ছড়ানোর অভিযোগও আনেন।

তবে ওয়াসার পানি থেকে রোগের প্রার্দুভাবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয় বলে সে সময় জানিয়েছিলেন ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ। এমডির দাবি– ‘আমরা ওই এলাকার পানি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেছি। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা কোন জীবানু পাওয়া যায়নি। ওরাও (গবেষক দল) একই জায়গা থেকে পানির স্যাম্পল নিয়েছে।’

স্থানীয়রা জানায়, এপ্রিলের শেষদিকে হালিশহরের ঘরে ঘরে জন্ডিস ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ স্বাস্থ্য সেবাদাতা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা বাড়ে। মে মাসের শুরুতে ওই এলাকার ৩১ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) নিয়ে যাওয়া হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা ৩১ জনের শরীরেই জন্ডিস (হেপাটাইটিস–ই) ধরা পড়ে আইইডিসিআর’র রিপোর্টে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ‘জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ওয়াসার পানি থেকেই পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ থাকলেও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তা মানছেন না। তার দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের সবগুলো ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাঙ্কি ডুবে থাকে। আর সেখান থেকেই রোগ ছড়াচ্ছে।’

একদিকে জলাবদ্ধতা অন্যদিকে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি ও পানির লাইন লিকেজ হয়ে ময়লা আবর্জনা প্রবেশ করায় হালিশহর এলাকায় এ রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

এতে গত এক মাসে অন্তত ১০ জন নারী পুরুষ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেন স্থানীয় এলাকাবাসী জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে এসব মৃত্যুকে অনেক স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করে প্রথমে এতোটা গুরুত্ব দেয়নি।

জানা গেছে, নগরীর হালিশহর এলাকায় অন্তত ৫ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে। আর পুরো বর্ষা মৌসুমে এখানে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আর সারা বছরই জোয়ারের পানিতে এখানকার বেশ কিছু এলাকা ডুবে থাকে।

ব্রেকিংনিউজ/ জেএম/ এসএ 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2