Ads-Top-1
Ads-Top-2

কেমন মানুষ ছিলেন ফ্রিদা কাহলো?

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
১৭ জুন ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 03:46:00 আপডেট: 03:54:00
কেমন মানুষ ছিলেন ফ্রিদা কাহলো?

ফ্রিদা কাহলো। বিশ শতকের প্রথম ভোরে (১৯০৭ সালে) তাঁর জন্ম। মেক্সিকোর আধুনিক চিত্রকলার সবচেয়ে মেধাবী এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী বলা হয় তাকে। সম্প্রতি লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে প্রথমবারের মত নারীবাদী ফ্রিদা’র ব্যবহার্য জিনিসপত্রের একটি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। মেক্সিকোর বাইরে এই প্রথম সেখানে তাঁর পোশাক এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। 

ফ্রিদা’র জীবন অতিবাহিত হয় মেক্সিকো শহরে, তার বাড়িতে, যেটি "লা কাসা আসুল" বা নীল ঘর নামে পরিচিত। তার কাজ আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত মেক্সিকোর জাতীয় ও দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতীকস্বরূপ, এবং নারীবাদীদের কাছে তার চিত্রকর্ম খ্যাতি পেয়েছে নারীর অভিজ্ঞতা ও রুপের আপোষহীন প্রকাশের জন্য।.তিনি যথেষ্ট বিতর্কিতও ছিলেন। প্রদর্শনীর কো-কিউরেটর সির্সে হেনেসত্রোসা, যিনি বলছেন ফ্রিদার যে বিভিন্ন পরিচয় আছে, তার সবগুলোই হাজির করতে চান তারা।

ফ্রিদা কাহলোর কাজে মেক্সিক্যান সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বেশ গুরুত্ব পেয়েছে, যার কারণে তার চিত্রকর্ম কখনো কখনো অর্বাচীন শিল্প বা লোকশিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার কাজকে পরাবাস্তববাদ এর অন্তর্গতও করা হয়েছে, এবং ১৯৩৮ সালে পরাবাস্তববাদী আন্দোলনের প্রধান আঁদ্রে ব্রেটন, ফ্রিদার কাজকে "রিবন অ্যারাউন্ড এ বোম্ব" আখ্যা দিয়েছিলেন। ফ্রিদা, ব্রেটন এর দেওয়া পরাবাস্তববাদী আখ্যা অস্বীকার করেন, কেননা তার মতে, তার চিত্রকর্মে পরাবাস্তবের চেয়ে তার বাস্তব অবস্থার প্রতিফলনই প্রবল।

ফ্রিদা কাহলো বিখ্যাত মেক্সিকান চিত্রকর দিয়েগো রিভেরা এর সঙ্গে এক অস্থিতিশীল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ফ্রিদা আজীবন বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ভুগেছে, যার বেশিরভাগই তাঁর শৈশবের এক সড়ক দুর্ঘটনায় হয়েছিলো। অসুস্থতার কারণে সে প্রায়ই অন্যান্যদের থেকে দূরে একাকিত্বে থাকতো এবং এটি তার কাজে বেশ প্রভাব ফেলে।

নারীবাদী এই শিল্পী ছিলেন বিপ্লবী, তীব্র বোধসম্পন্ন, খামখেয়ালি, প্যাশনেট, কখনো খুবই বিপরীতমুখী অবস্থানের, ভীষণ শক্ত মনের। আবার একই সাথে তিনি ছিলেন খুবই যত্নশীল, স্নেহময় আর একেবারেই অনন্য। দুটি ঘটনা তার জীবনে গভীরভাবে ছাপ ফেলেছিল।

তার বয়স তখন ছয় বছর। পোলিওতে তার একটি পা খাটো হয়ে যায়। ১৮ বছর বয়সে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনায় তাকে প্রায় ৩০টি অপারেশন করাতে হয়েছিল। এই সময়টি ছিল বস্তুত একজন অসাধারণ শিল্পীর ক্যারিয়ার শুরুর সময়, কিন্তু এই সময়টাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল ক্রমে। এক পর্যায়ে ১৯৫৩ সালে তার পা দুটি কেটে ফেলতে হয়।

কয়েক বছর আগে ফ্রিদা কাহলোর ওপর একটি গবেষণা শুরু করেন হেনেসত্রোসা, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এই শিল্পীকে মেক্সিকোর বাইরে নতুন করে পরিচয় করানো। সেই সঙ্গে তাঁর ব্যতিক্রমী জীবনের প্রেক্ষাপট কিছুটা বিশ্লেষণ করে দেখা। লন্ডনের এই প্রদর্শনীটি সেজন্যই হয়েছে।

ফ্রিদা ছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার, নারীবাদী আন্দোলনকারী, শিল্পী, সংস্কৃতিবান। সকলেই তাকে নিজেদের মানুষ ভাবতো, ভাবে। মানুষ তার কাজের সঙ্গে দ্রুতই নিজেদের মেলাতে পারে। সেকারণেই তার জিনিসপত্রের প্রদর্শনী আজকের দিনেও খুবই সঙ্গত।

মেক্সিকোতে ফ্রিদা কাহলোর বাড়িটির নাম ছিল 'লা কাসা আসুল' বা নীল বাড়ি। প্রদর্শনীতে সেই বাড়িটির বিভিন্ন ঘরের আদল তৈরি করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালে তার মৃত্যুর পর তার জিনিসপত্র এখানেই আটকানো অবস্থায় ছিল। কারণ বাড়িটির মালিক সেটি বন্ধ করে রেখেছিলেন। প্রায় ৫০ বছর বন্ধ থাকার পর, ২০০২ সালে বাড়ি মালিক মারা যাবার পর সেই বাড়ি খোলা হয়।

"আমরা ছয় হাজার ফটো, বারো হাজার বিভিন্ন ধরণের দলিলপত্র, আর প্রায় তিন শো ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র পেয়েছি।

তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র দিয়ে তাকে নতুন করে প্রথমবারের মত চিনতে পারবে কেউ। আমি এমন একজন নারীকে চিনলাম যিনি ভীষণ রকম বিশুদ্ধ, যিনি সাজতে ভালবাসতেন। এমন এক সময়ে যখন সাজপোশাকের বিষয়ে সবাই হলিউডকে অনুকরণ করত, তখন তিনি দেশীয় পোশাক পড়াকে নিজের লোগো বানিয়ে ফেলেছিলেন।

হেনেসত্রোসা বলছেন, ফ্রিদা তেহুয়ানা নামে এক বিশেষ ধরনের পোশাক পরতেন, মেক্সিকোর একটি মাতৃতান্ত্রিক আদিবাসী গোষ্ঠীর নারীরা সে রকম পোশাক পরতেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং নারীর নিজস্ব শক্তির একটি প্রতীক ফুটিয়ে তুলতেন।

‘ফ্রিদা’র এই জীবন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিশেষত নারীদের সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করবে। চিন্তাশীল নারী ও শিল্পীকে নিজের ভেতর আবিষ্কারের প্রয়াসে তারা শুদ্ধ-মার্গ খুঁজে পাবে’ ভাষ্য হেনেসত্রোসার।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2