শিরোনাম:
Ads-Top-1
Ads-Top-2

কারাগারে খালেদা, বিএনপি নেতাদের ‘নিরানন্দ ঈদ’

এস এম আতিক হাসান
১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 07:51:00 আপডেট: 09:08:00

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারান্তরীণ। দেশের বাইরে আছেন দলের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের আবেগ-অনুভূতির জায়গা হচ্ছে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। তাঁকে কারাগারে রেখে নেতাকর্মীরা ঈদ-আনন্দ করতে পারবেন না। তারা বলছেন, দেশের গণতন্ত্র পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দীন রোডে (কারাগারে) রেখে আনন্দ কীভাবে হবে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঈদুল ফিতর নিয়ে তাদের এমন অভিব্যক্তিই পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবিক কারণে ঈদের আগে নেত্রীকে প্যারোলে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবছর ঈদের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কূটনীতিকসহ দলীয় নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদ আনন্দ শুরু হয় দলীয় নেতাকর্মীদের। এবার আর তা হচ্ছে না। তবে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে এবার ঈদের নামাজের পরপরই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এরপর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা পুরানো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে যাবেন। যেখানে নেত্রী খালেদা জিয়া বন্দি আছেন। তারা চেষ্টা করবেন নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের। এজন্য আগেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ঈদের নামাজের পরপরই জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা। মাজার জিয়ারত শেষে ওখান থেকে মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতা কারা ফটকে যাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আসলে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে ঈদে কোনো আনন্দ নেই। এজন্য নেত্রী যে কারাগারে আছেন সেই কারা ফটকের সামনে একটু সময় কাটানো ঈদের সান্ত্বনা। এদিকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনেই সপরিবারে ঈদ করবেন। প্রতিবছরই ওখানে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। লন্ডনেই রয়েছেন তার ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ওখানেই তারা ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জে (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান রাজধানী ঢাকায় ঈদ করবেন বলে ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী, স্থায়ী কমিটির আরেক সিনিয়র সদস্য তরিকুল ইসলাম নিজ এলাকা যশোরে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন সকালে তার নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ঢাকায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কারা ফটকের সামনে যাবেন বলে ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবার ঈদ করবেন ভারতে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বরিশালে এবং শামসুজ্জামান দুদু নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গায় ঈদ করবেন। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বেগম সেলিমা রহমান, শওকত মাহমুদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঢাকায় ঈদ করবেন। আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজ এলাকা পটুয়াখালীতে, এম মোর্শেদ খান ও মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন তাদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এ মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আছেন। সপরিবারে তিনি সেখানেই ঈদ করবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী থাকবেন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে। যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঢাকায়, মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশালে, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকাতেই ঈদ করবেন। খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী ও হারুন-অর রশিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঈদ করবেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহে এবং ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ফরিদপুরে ঈদ করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে ঈদ করবেন। বিলকিস জাহান শিরিন, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে শরিফুল আলম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান শামীম তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বিএনপির কারাবন্দি নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন— দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, বিএনপি নেতা অনিদ্য ইসলাম অমিত, আজিজুল বারি হেলাল, লুৎফুজ্জামান বাবর, হাবীবুর রশিদ হাবীব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান।

এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস কারাগারে আছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ঢাকাতেই ঈদ করবেন।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল ঢাকাতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম মালয়েশিয়াতে ঈদ করবেন। একাধিক মামলায় আসামি থাকায় তিনি দেশে ফিরছেন না।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ অনেকেই ঢাকায় ঈদ করে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন।

এছাড়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকায় ঈদ করবেন বলে মুঠোফোনে ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছেন।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2