Ads-Top-1
Ads-Top-2

বিখ্যাতদের মজার ঘটনা

রকমারি ডেস্ক
১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 02:26:00 আপডেট: 02:31:00
ফাইল ছবি

প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছু না কিছু মজার ঘটনা থাকে। তবে সেই মজার ঘটনাগুলো যদি বিখ্যাত মানুষের হয় তাহলেতো কথাই নেই। কেননা সেই মজার ঘটনা জানতে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। 

আসুন জেনে নেই বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তির মজার ঘটনা: 

টমাস আলভা অ্যাডিসন:

টমাস আলভা অ্যাডিসনের গ্রামোফোন আবিষ্কার উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এক তরুণী তাঁর বক্তৃতায় অ্যাডিসনকে অযথাই আক্রমন করে বসল, ‘কী এক ঘোড়ার ডিমের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকে। আর তাই নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না…।’

তরুণী বলেই যাচ্ছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। অ্যাডিসন চুপ করে শুনে গেলেন। বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনি ভুল করছেন। আসলে সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ঈশ্বর। আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটি ইচ্ছেমতো থামানো যায়।’

সারা বার্নার্ড:

ফ্রান্সের সারা বার্নার্ড এক নাটকে ভিখারিণীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। ক্ষুধার্ত, অবসন্ন, অসহায় ভাব চোখমুখে এবং সমস্ত ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘হা ঈশ্বর! আর তো এক পাও চলতে পারছি না, তিন দিন পেটে কিছু পড়েনি। আঃ মরে গেলাম…।’

হঠাৎ দু-একজন দর্শকের কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টি লক্ষ করে তাঁর খেয়াল হলো, আরে! হাতের সোনার বালা দুটো খুলে রাখতে ভুল হয়ে গেছে। স্পটলাইট পড়ে সেগুলো ঝিলিক মারছে। সঙ্গে সঙ্গে বালা দুটো খুলে মনগড়া সংলাপ বললেন, ‘এই গিল্টি করা দুই পয়সার গয়নায় আমার একটা রুটিও জুটবে না।’ বলেই উইংসের এক নিরাপদ কোণে ছুড়ে দিলেন বালা জোড়া।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর খদ্দরের চাদর পরতেন।শীত বা গ্রীষ্ম যাই হোক না কেন গায়ে শুধু চাদর আর কাঠের খড়ম পরেই সংস্কৃত কলেজে ক্লাস নিতে যেতেন। মাঘ মাসের শীতের সময় প্রতিদিন সকালে এভাবে ঈশ্বর চন্দ্রকে ক্লাস নিতে যেতে দেখে প্রায়ই হিন্দু কলেজের এক ইংরেজ সাহেব যাওয়ার পথে বিদ্যাসাগরকে ক্ষ্যাপানোর জন্য বলতেন, “কি হে,বিদ্যার সাগর, বিদ্যার ভারে বুঝি ঠান্ডা লাগে না তোমার?” বিদ্যাসাগর প্রতিদিন কথা শুনতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না। একদিন শীতের সকালে ঠিক একইভাবে তিনি ক্লাস নিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আবার সেই ইংরেজের সাথে দেখা। আবার সেই একই প্রশ্ন। এবার সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বর চন্দ্র তার ট্যামর থেকে একটা কয়েন বের করে বললেন, “ এই যে গুজে রেখেছি, পয়সার গরমে আর ঠান্ডা লাগেনা। এবার হলো তো?”

স্যার আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল:

টেলিফোন আবিষ্কারক স্যার আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটিকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে চাইলেন। সে জন্য তিনি এক কোম্পানি খুললেন। সে সময় অনেক বিখ্যাত ও ধনী ব্যক্তিকে গিয়ে বললেন, তাঁর কোম্পানির শেয়ার কিনতে। সেই শেয়ারের দাম ছিল তখনকার সময়ে ১০০ ডলার। 

একদিন বেল সাহেব মার্ক টোয়েনের কাছে এসে অনুরোধ করলেন, তিনি যেন তাঁর এই টেলিফোন কোম্পানির একটা শেয়ার কেনেন। বেল আরো আশ্বাস দিলেন, যারা এই শেয়ার কিনবে, তারা কিছুদিনের মধ্যেই বড়লোক হয়ে যাবে। কিন্তু বেলের কথায় টোয়েন মোটেও আগ্রহী হলেন না। 

তিনি বেলকে ১০০ ডলার না দিয়ে তাঁর এক প্রকাশক বন্ধুকে ১০০ ডলার ধার দিলেন। কিছুদিনের মধ্যে বেলের কোম্পানির শেয়ারের দাম হয়ে গেল কয়েক গুণ বেশি। আর মার্ক টোয়েনের প্রকাশক বন্ধুটি দেউলিয়া হয়ে গেল। মার্ক টোয়েন পরে আফসোস করেছিলেন এই বলে, বেলের চেহারা দেখে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।

আব্রাহাম লিঙ্কন:

লিঙ্কনের বন্ধুরা তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডগলাসের বিশেষ শারীরিক গড়ন নিয়ে আলাপ করছিলেন। ডগলাস তাঁর প্রায় সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতা নিয়ে গর্বিত ছিলেন। 

কথা প্রসঙ্গে কথা উঠল, মানুষের পা আসলে কত বড় হওয়া উচিত? লিঙ্কনকে প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় শরীর থেকে মাটিতে পৌঁছাতে যতটা দরকার, মানুষের পা ঠিক ততটাই লম্বা হওয়া উচিত।’

বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল একবার বক্তৃতা করছিলেন। বলছিলেন, কীভাবে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এমন সময় এক বৃদ্ধা উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘বললেই হলো? পৃথিবী আসলে গোল নয়, চ্যাপ্টা। আর পৃথিবীটা আছে একটা কচ্ছপের পিঠের ওপর। সে কথা আমরা জানি না ভেবেছ?’

বারট্রান্ড হেসে বললেন, ‘ঠিক আছে ম্যাডাম, আপনার কথাই মানলাম। কিন্তু বলুন তো, যে কচ্ছপটা পিঠের ওপর পৃথিবীটা বয়ে বেড়াচ্ছে, সে কিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে?’

বৃদ্ধা বললেন, ‘তোমার মাথায় এত বুদ্ধি, আর এটা জানো না? কচ্ছপটার নিচে আছে আরেকটা কচ্ছপ। তার নিচে আরেকটা কচ্ছপ, তার নিচে আরেকটা...!’

জন ড্রাইডেন:

বিখ্যাত ইংরেজ কবি সমালোচক জন ড্রাইডেন প্রায় সারাক্ষণই পড়াশোনা আর সাহিত্যচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন; স্ত্রীর প্রতি খুব একটা মনোযোগ দিতেন না। 

একদিন স্ত্রী লেডি এলিজাবেথ তার পড়ার ঘরে ঢুকে রেগে গিয়ে বললেন, ‘তুমি সারা দিন যেভাবে বইয়ের ওপর মুখ গুঁজে পড়ে থাকো তাতে মনে হয় তোমার স্ত্রী না হয়ে বই হলে বোধ হয় তোমার সান্নিধ্য একটু বেশি পেতাম। ড্রাইডেন বইয়ের ওপর মুখে গুঁজে রেখেই বললেন, ‘সে ক্ষেত্রে বর্ষপঞ্জি হয়ো, বছর শেষে বদলে নিতে পারব!’

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2