Ads-Top-1
Ads-Top-2

পাটুরিয়ায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি চরমে

শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 10:19:00

পোশাক কারখানাগুলোতে এখনো ছুটি হয়নি, তবুও বুধবার যানবাহন ও যাত্রীর ভিড় ছিল মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটে। এতে বাড়তি যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে কর্তৃপক্ষের অনেকটা হিমশিম অবস্থা।
 
এদিকে, দীর্ঘ সময় যানবাহনগুলো ঘাট এলাকায় আটকে থাকায় প্রচণ্ড গরমে যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদেরও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
 
পোশাকশ্রমিকেরা বাড়ি ফিরতে শুরু করলে এই ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তির মাত্রাটা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যাত্রী, যানবাহন শ্রমিক ও ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
 
পাটুরিয়ায় যানবাহনের চাপ পড়লেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দেখা গেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করছেন।
 
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, সময় যতোই গড়ায়, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ ততোই বাড়ে। তবে দুপুরের পর যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে যাত্রীবাহী বাসগুলো ঘাট এলাকা ছাড়িয়ে আরসিএল মোড় পর্যন্ত পাটুরিয়া-উথলী সড়কের এক কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত ছিল। বেলা ১২ টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়। প্রতিটি বাসকে ফেরিতে ওঠতে দুই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা করে দীর্ঘ সারিতে আটকে থাকতে হয়েছে।
 
বেলা একটার দিকে ফেরির টিকিট কাউন্টারের আগে আটকে থাকা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের যাত্রী মোশাররফ মোল্লাকে (৫৫) সড়কের পাশে শিশুসন্তানকে নিয়ে বাসের কাছে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কথা হলে বললেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ফরিদপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। দুই ঘণআটা ধরে তাদের বাসটি আটকে আছেন।
 
আরসিএল মোড় এলাকায় জে আর পরিবহনের যাত্রী ইয়াসমিন সুলতানার ঘাটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কী এভাবেই যাতায়াত করতে হবে! এই পরিস্থিতির কী পরিবর্তন হবে না?’
 
তিনি স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে যশোরের মনিহার উপজেলার হরিদাসকাটি গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে যাচ্ছেন।
 
এদিকে, ব্যক্তিগত বিভিন্ন গাড়ির (প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, হাইয়েচ) চাপও ছিল প্রচণ্ড। ঘাট এলাকা যানজট এড়াতে এসব গাড়িগুলোকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের টেপড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে টেপড়া-নালী সড়ক হয়ে পাটুরিয়ার পাঁচ নম্বর ঘাটে চলাচল করছে। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে এসব ছোট যানগুলোকে ঘাট ছেড়ে টেপড়া-নালী সড়কের কয়ড়া এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এসব গাড়িগুলোকেও দুই থেকে তিন ঘণ্টা করে দীর্ঘ সারিতে আটকে থাকতে হয়েছে। 
 
কয়েকজন যাত্রী ও যানবাহনের চালক বলেন, বৃহস্পতিবার পোশাককারখানা ছুটি হবে। ঈদে বাড়িতে ফিরতে পাটুরিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের ঢল নামবে। এতে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
 
বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ব্যবস্থাক তানভীর হোসেন বলেন, ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। সকালের দিকে ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়ে। তবে দুপুরের পর তা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। গতকাল রাতে আরেকটি রো রো ফেরি এই নৌপথে আসার কথা ছিল বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন, এই পর্যাপ্তসংখ্য ফেরি দিয়ে ঈদযাত্রায় তেমন কোনো সমস্যা হবে হবে না বলে দাবি করেন।
 
ব্রেকিংনিউজ/আরএ
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2