Ads-Top-1
Ads-Top-2

মাদক সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নয়া কমিশনারের হুঁশিয়ারি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম
১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 08:14:00

মাদক নিয়ন্ত্রণ যাদের দায়িত্ব তারাই যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সে অপরাধী পুলিশ পরিচয়েও মাফ পাবে না। তারা সিএমপিতে চাকরি করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করা কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমান। 

তিনি মাদক সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ সদস্যদের হুঁশিয়ারি করে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আমার কোন পুলিশ সদস্য যদি সখ্যতা তৈরি করে বা তাদের সহায়তা করছে এমন প্রমাণ পাই তাহলে সাথে সাথেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধের মান অনুযায়ী জড়িত পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করাসহ কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

এছাড়া মাদক নিয়ে কোন সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর অভিযোগ পেলেও জড়িত সদস্যকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন নয় কমিশনার। 

বুধবার (১৩ জুন) দুপুরে পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মঙ্গলবার (১২ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাহাবুবুর রহমান। 

মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘চলমান মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা, জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে চট্টগ্রাম নগরীকে বাসযোগ্য পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার ভিশন নিয়েই আমি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সুতরাং কোন অপরাধীর হয়ে সহানুভুতি কিংবা তদবির গ্রহণ করবো না।’ 

চট্টগ্রাম নগরীর সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেসব মামলা তদন্তের পর্যায়ে আছে, সেগুলোর তদন্ত যাতে দ্রুত শেষ হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঞ্চল্যকর পুলিশ স্ত্রী মিতু হত্যার চুড়ান্ত প্রতিবেদন শীঘ্রই দেওয়া হবে। অন্যদিকে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই ৯ম শ্রেণীর স্কুল শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিন হত্যাকান্ডের চুড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে।’ 

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই উৎসব শুধু শুধু মুসলমান নয় বাঙ্গালি জাতির জীবনে একটি বিরাট আনন্দময় উৎসব। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এবারও সেরকমই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাস টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনে যাতে যাত্রী ভোগান্তি না হয় বা কালোবাজারি না থাকে সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পাশাপাশি সিএমপির উদ্দ্যোগে এবার বাস টার্মিনাল ও রেল ষ্টেশনে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ বক্স।’

‘এছাড়া ঈদের সময় যারা বাসা বাড়ি ফেলে বাড়ি যান তাদের বিষয়েও রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরী ফাঁকা হলে নগরবাসীর বাসা রক্ষার দায়িত্বে মোবাইল পার্টি, টহল পার্টিসহ প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি প্রত্যাশা করেন ঈদের আনন্দ আনন্দময় হবে। কোন ধরনের বিষাদের ঘটনা ঘটবে না। সবাইকে নিয়ে আনন্দঘন ঈদ উৎযাপন করার সর্ব্বোচ্চ নিশ্চয়তা সিএমপির পক্ষ থেকে থাকবে। 

চট্টগ্রাম নগরী তথাকথিত গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও যেমন ভাল ও মন্দের কর্মকর্তা আছেন ঠিক গণমাধ্যমেও কিছু অপসাংবাদিক রয়েছে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মূল ধারার সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া সাংবাদিক প্রেস ও স্টিকার যুক্ত পরিবহনে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন নতুন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান।’
   
সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ-উল-হাসান, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/জেএম/এইচএ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2