Ads-Top-1
Ads-Top-2

কয়েদী নম্বর ‘২৫০২৭’ জানালেন জেলখানার অভিজ্ঞতা

বিনোদন ডেস্ক
১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 03:31:00 আপডেট: 04:39:00

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা মামলায় গত সোমবার জামিন পেয়েছেন আসিফ আকবর। গীতিকার ও সুরকার শফিক তুহিনের করা মামলায় তাকে ৫ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচ দিন কারাবাস শেষে আসিফ এখন আবার মনোযোগী হয়েছেন গানে। আর জামিনে মুক্ত হয়েই এবার জেলখানার অভিজ্ঞতার কথা লিখতে শুরু করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে নিজের ফেসবুকে লিখতে শুরু করেছেন জেলখানার অভিজ্ঞতার কথা। প্রথমবার কারাগারে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে আসিফ লিখলেন,

‘‘আমি কয়েদী নাম্বার ২৫০২৭। কারাগারের উঁচু প্রাচীরগুলো ভয় জাগানিয়া। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢুকলাম কারা হাসপাতালের কেবিনে । একজন মুরুব্বীর নেতৃত্বে মাগরিবের নামাজের জামাত চলছে । বাইরে ঝোলানো ভয়ানক তালা, ঢুকতে হলো চার দেয়াল আর লোহার গরাদ বেষ্টিত কক্ষটিতে। মনে হচ্ছিলো- বাবা মা হারিয়ে ফেলা অনাথ আশ্রমে আশ্রয় পাওয়া এক এতিম আমি। নামাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে চারিদিকের মাপ নিচ্ছিলাম। নামাজ শেষে মাথা নীচু করে হেঁটে গেলাম আমার জন্য রাখা নির্ধারিত বিছানায়। শত সহস্র অনুসন্ধিৎসু চোখের আড়ালে নিজেকে লুকানো অসম্ভব। চোখ ভিজে আসতে চাইছে। দৃঢ়তা আর সততার ট্যাবলেট খাওয়া সিদ্ধান্ত – নাহ… পানি বের হতে দেয়া যাবেনা, শুধু রক্তই বেরুতে পারে।



ব্যাগটা রেখে গোসলে গেলাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাড়াহুড়োয় আনা হয়নি, এগিয়ে এলো আরেক কয়েদী প্লাস রাইটার- শাওন। তার অধীনেই চলে এই অবরুদ্ধ কক্ষটি। সবাই তাকাচ্ছে আমার দিকে, আমি কুঁকড়ে আছি নতুন পরিচয় হজমের আতঙ্কে। কবে আসবে রুপকথার ফিনিক্স পাখীটা !! আর কতদিন গল্প শুনে যেতে হবে!! আমিই তো ফিনিক্স, আজন্ম এক যোদ্ধা, আমার অদম্য অগ্রযাত্রা থামবে শুধু মৃত্যুতেই …

মুহূর্তেই ঝেড়ে ফেললাম অতীত, মুখে নিয়ে আসলাম বিজয়ীর হাসি। সবার সাথে হাত আর বুক মেলানো শুরু করলাম। কিছু কয়েদী এগিয়ে এলেন, আর কিছু আছেন অব্জারভেশনে। এর মধ্যে খুনে চোখ, অসহায় চোখ, ভালবাসার চোখ, সন্দেহের চোখ, করুণার চোখ, নেশার চোখ, বন্ধুত্বের চোখ- সবই আছে। নানান চোখের নানান ভাষা, ওগুলো পরেও পড়া যাবে। সারাদিন কিছু খাইনি, আগে একটু খেয়ে নেই, অনেক ক্ষুধা পেয়েছে…’’

এদিকে কারাগারে তৃতীয় দিন আসিফ অন্য কয়েদিদের কাচ্চি বিরিয়ানি খাইয়েছেন বলেও জানান। বললেন, ‘আমরা পার্টি করেছি। সবাই মিলে কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়েছি। কারাগারে তো কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যায় না, বহু কষ্ট করে বানানো হয়। সবাই খুব সহযোগিতাও করেছেন।’

আসিফ জানান, তিনি কাপড় ধুতে পারতেন না, এ কথা জানার পর অন্য কয়েদিরা তার কাপড় ধুয়ে দিতেন। ব্রাশে টুথপেস্টও লাগিয়ে দিতেন। শেভ করার রেজার পর্যন্ত এনে দিতেন। কয়েদিরা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা ভোলার নয়।

ব্রেকিংনিউজ/অমৃ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2