Ads-Top-1
Ads-Top-2

বিনা চীনাবাদাম-৪ চাষে কৃষকদের আগ্রহ

মোশারফ হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি
১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 09:43:00 আপডেট: 09:53:00

চাষের অনুকূল অবস্থা থাকা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশে খুব অল্প জমিতেই চীনাবাদাম চাষ করা হয়। যদিও খাদ্য-পুষ্টি, তেল, পশুখাদ্য, খইল, সার, শিল্পের কাঁচামাল প্রভৃতি বিবিধ উদ্দেশে চীনাবাদাম ব্যবহৃত হয়। নদীর তীরবর্তী অনুর্বর পতিত জমিতে অন্য ফসল ভাল না হলেও, বাদামের ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় এ ফসল চাষে ঝুঁকছে কৃষক। অনাবাদি জমিতে কম পরিশ্রমে, বেশি উৎপাদন হওয়া ও চাহিদা অনুযায়ী দাম পাওয়া স্বত্ত্বেও কৃষকরা চীনাবাদাম চাষ কম করতেন।

তবে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিউিট (বিনা) কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত বিনা চীনাবাদাম-৪ পরীক্ষামূলক ভাবে চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এই বাদাম চাষে ঝুঁকছেন। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী বিনা উপকেন্দ্রের আওতায় নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষের পরিমাণ ও চাষির সংখ্যা। তারই অংশ হিসেবে এবছর বিনা চীনাবাদাম-৪ চাষে কৃষকদের আগ্রহ লক্ষণীয়।

নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর, পাঠাকাটা, চন্দ্রকোণা, টালকী ও বানেশ্বরদী ইউনিয়নের এবং নালিতাবাড়ীর কলসপার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষক বাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাদের দেখাদেখি অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও চীনাবাদাম চাষে ঝুঁকছেন। তবে বিনা চীনাবাদাম-৪ চাষে কম খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায়, অন্যজাতের পরিবর্তে বিনা চীনাবাদাম-৪ জাতের বাদাম চাষে তাদের আগ্রহ বেশি।

বিনা উপকেন্দ্র অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নকলা উপজেলায় ১৩০ থেকে ১৩৭ একর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আর নালিতাবাড়ীতে বাদাম চাষের পরিমাণ এবছর খুব কম হলেও, আশার বিষয় হল আগামীতে ওই উপজেলায় তিন-চারগুণ বেশি আবাদ হতে পারে বলে তারা আশা করছেন। এরমধ্যে নালিতাবাড়ীর বিনা উপকেন্দ্রের আওতায় নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রথম বারের মত ৩ একর জমিতে ৯ টি প্রদর্শনী দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে ফসল কাটা শুরু হয়েছে। 

সম্প্রতি ফসল কাটা মাঠ দিবসে গিয়ে দেখা যায় একর প্রতি ফলন হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ মণ বাদাম। বর্তমান বাজারে খুচরা প্রতিমন ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। সে হিসাবে, প্রতি একরে এক লাখ ৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকার চীনাবাদাম পাচ্ছেন কৃষকরা। আর পাইকারি বিক্রি কিছু কম হলেও, অন্য ফসল আবাদে এই পরিমাণ আয় করা অসম্ভব।

বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ সামিউল হক জানান, বিনা চীনাবাদাম-৪ জাতটি বছরের রবি এবং খরিপ দুই মৌসুমে আবাদ করা যায়। রবি মৌসুমের জীবন কাল ১৪০ দিন থেকে ১৫০ দিন এবং খরিপ মৌসুমের জীবন কাল ১০০ দিন থেকে ১২০ দিন। 

বিনা উপকেন্দ্র, শেরপুরের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসরীন আখতার ব্রেকিংনিউজকে জানান, বিনা চীনাবাদাম-৪ জাতটি ২০০৮ সালে ঢাকা-১ (মাইচচর) জাতের বীজে গামারশ্মি প্রয়োগ করে উদ্ভাবন করা হয়। এরপর জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। 

এ জাতের বাদামে দানার শতকরা হার ৭৬% থেকে ১০০% এবং মাতৃ জাতের তুলনায় ১৫% থেকে ৩০% ফলন বেশি হয়। বীজ উৎপাদনের হার প্রতি হেক্টরে ১২৫ কেজি থেকে ১৩০ কেজি এবং গড় ফলন রবি মৌসুমে ২.৬ টন ও খরিপ মৌসুমে ২.৪৭ টন। ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক আগ্রহী হয়েছেন বলে তিনি জানান।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এটি তৈলবীজ হিসেবে সুপরিচিত হলেও এর যথেষ্ট ঔষধি গুণ রয়েছে। বাদাম চাষ বাড়াতে পারলে এটি কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। সে লক্ষ্যে নদীর তীরবর্তী ও অনাবাদি জমিতে বাদাম চাষ করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’ 

ব্রেকিংনিউজ/এসএএফ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2