শিরোনাম:

কারাগারকেই ‘নিরাপদ’ ভাবছে মাদকের আসামিরা

খাদেমুল ইসলাম
১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 4:36 আপডেট: 6:15
কারাগারকেই ‘নিরাপদ’ ভাবছে মাদকের আসামিরা

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে জামিনের হিসাব পাল্টে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রায় দেড় শ’ সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় আগে থেকে মাদক মামলায় যারা কারাগারে আছে বা অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা এখন কারাগারকেই নিরাপদ ভাবছেন। কারণ আদালতে মাদক মামলায় জামিন আবেদনের পরিমাণ কমে গেছে।

সাধারণত ঈদ বা অন্য কোনও অবকাশের সময়ে আদালতে জামিন আবেদনের পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়, তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। অনেক ক্ষেত্রে ঈদকে সামনে রেখে আদালতও জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব দেখান।

তবে উচ্চ আদালতে এবার মাদক মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সাধারণত জামিন নিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন মাদক ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণত হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোতে জামিন আবেদনের শতকরা ২০ শতাংশই থাকে মাদক মামলার। আদালতে অবকাশ শুরুর আগে এর পরিমান ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু মাদক বিরোধী চলমান অভিযানে হতাহতের ঘটনার পর এর পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৫ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন অবকাশের সময় হাইকোর্টে মাদক মামলায় জামিন আবেদন করা হয়। এর মধ্যে ২০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ইয়াবা টেবলেডের মামলায় জামিন মঞ্জুর করা হয়। ১৭ এপ্রিল হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে ৪৬৪টি জামিন আবেদন তালিকায় ছিল। যার মধ্যে ৩০ শতাংশ ছিল মাদক সংক্রান্ত। তবে সেই তুলনায় রমজান ও ঈদের অবকাশকালীন বেঞ্চে মাদক মামলায় জামিন আবেদনের সংখ্যা কমে গেছে।

গত ৩ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ঈদের ছুটি বাদে হাইকোর্টে অবকাশকালীন বেঞ্চ চলমান রয়েছে। অথচ এই সময়ে অবকাশকালীন বেঞ্চে মাদক মামলায় কোন জামিন আবেদন করা হয়নি। গত ৬ জুন হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চে যথাক্রমে ১৯৮ ও ১৫০টি জামিনের আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু এর মধ্যে কোনও মাদক সংক্রান্ত মামলার আবেদন ছিল না।

অবশ্য, মাদক মামলায় জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে আদালত এবার কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিচারপতিগণ আগেই বলে দিয়েছেন তারা মাদক বা ইয়াবা সংক্রান্ত মামলা শুনানি নেবেন না। বেঞ্চ অফিসারদের কাছ থেকে জানা যায়, কয়েকজন আইনজীবী দুই-একটি বেঞ্চে মাদক মামলায় জামিন আবেদনের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ আবেদনের অনুমতি দেননি।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে অলআউট অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৪৬ জন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। একই অভিযোগে এ সময়ে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১২ হাজার মানুষকে আটকও করা হয়েছে।

যদিও এই অভিযান নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিরোধী দলও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। তারা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমকে/এইচএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2