Ads-Top-1
Ads-Top-2

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে চায় বিএনপি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 12:42:00 আপডেট: 02:41:00

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আবারও দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সকল ব্যয় বহন করা হবে।

মঙ্গলবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তথাকথিত ১/১১ এর সরকারের সময়েও ১ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছিল। আর ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক সেনাবাহিনী প্রধানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি অনুমোদন ও অর্থ সংস্থানের বিষয়ে এতদিনেও সিদ্ধান্ত না হওয়া রহস্যজনক এবং নিন্দনীয়। আমরা দেশনেত্রীর উপযুক্ত চিকিৎসা চাই বলেই আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই যে, প্রয়োজনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমূদয় ব্যয় আমাদের দল বহন করবে। কাজেই কাল বিলম্ব না করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হোক।’

এছাড়া আজকে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করার জন্য একটি আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায়ভাবে এবং তাঁর দেয়া জবানবন্দী বিকৃত করে একটি আদালত তাকে পাঁচ বছরের জেল দিয়ে সরকারের ইচ্ছা পূরণ করেছে। বর্তমানে তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘোষিত নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দী হিসেবে রাখা হয়েছে। ৭৩ বছর বয়স্ক এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে যে পরিবেশে রাখা হয়েছে তা যেকোন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে ফেলার মতো।’

তিনি জানান, ‘খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তার দুই হাঁটু এবং দুই চোখেই অপারেশন করতে হয়েছে। ফলে তাকে সবসময়ই যোগ্য চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। অথচ নির্জন এই কারাগারে তাকে দেখার জন্য জুনিয়র ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ করে সরকার দাবি করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩ বারের নির্বাচিত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের যে অবস্থা তাতে তাকে সর্বক্ষণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা একান্তই জরুরি বলে মতামত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সার্জনগণ।’

দলের পক্ষে থেকে দুইবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা এবং এমআরআই সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর দাবি জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন. ‘স্বরাষ্টমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশনেত্রীর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থাইটিস এর ব্যথা বৃদ্ধির ফলে তিনি চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ছেন এবং পাশাপাশি তার অপারেশন করা চোখ লাল হয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হতে পারে। আমরা এটাও সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু তাঁর সুচিকিৎসার কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি।’

গত ৫ জুন খালেদা জিয়া কারাগারে হঠাৎ করে অচেতন হয়ে পড়েন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের কোন সদস্যকেও জানায়নি এবং কেন তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন তা পরীক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত ৮ জুন তার পরিবারের সদস্যগণ নিয়মিত সাক্ষাতে গিয়ে এই বিষয়টি জানতে পারেন। ৫ দফা আবেদনের পর গত ৯ জুন কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে দেশনেত্রীর চিকিৎসা করতেন এমন ৪ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও ঢাকা সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে তাকে দেখতে গিয়ে এই ঘটনার কথা জানতে পারেন। ৫ জুন দুপুর ১টার দিকে দেশনেত্রীর ৫/৭ মিনিট আনকনশাস থাকা এবং সেসময়ের কোন কিছু মনে করতে না পারার বিষয়টিকে চিকিৎসকগণ মারাত্মক বলে মনে করেন। তাদের মতে এটা ছিল ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক-টিআইএ।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, যেটা সবচেয়ে বিপজ্জনক সেটা হচ্ছে টিআইএ যদি কারও হয়-তাহলে সেটা ইন্ডিকেট করে যে, সামনে তাঁর একটা বড় ধরনের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি’ এই ৪ জন তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত লিখিত ভাবে কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তারা বিশেষ কিছু পরীক্ষা এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়ার জন্য দেশনেত্রীকে অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রেস ব্রিফিংয়ের পর এ বিষয়ে সরকারের আইনমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুখ খোলেন। তারা এখন বলছেন যে, ৫ জুন রোজা রাখার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার সুগার কমে যাওয়ায় তার মাথা ঘুরে গিয়েছিল মাত্র এবং একটা চকলেট খেয়ে তিনি ভাল হয়ে যান। আইজি প্রিজনও একই কথা বললেও স্বীকার করেছেন যে, দেশনেত্রীর আর্থাইটিস সমস্যা বেড়েছে।’

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ-তে নেয়া না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীকে এর আগে সেখানে নেয়া হলে সেখানকার ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং চিকিৎসা সেবার বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আইজি প্রিজন গণমাধ্যমে বলেছেন যে, কারাবিধি অনুযায়ী প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এমন কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় দেশনেত্রীকে ঐ হাসপাতালেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন যে, প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তার এই বক্তব্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত এবং আমাদের বারংবার অনুরোধ সত্বেও ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রীকে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের অনীহার কারণ বোঝা গেল।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। এটা জানার পরেও তাকে আরও অসুস্থ করে ফেলার জন্য পরিত্যক্ত জেলখানার একমাত্র বন্দী হিসেবে নির্জনে রাখা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। তার স্বাস্থ্যের অবনতির কথাও গোপন রাখার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্পষ্টত:ই বোঝা যায় যে, ক্ষমতাসীন সরকার তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে অকালে বিনা চিকিৎসায় জীবনে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে রাজনৈতিক কারণে অবহেলা কিংবা বিলম্ব করা হলে তার পরিণাম সরকারের জন্য শুভ হবে না। দেশবাসী বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের অমানবিক আচরণে ক্ষুদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের পরামর্শ অনুযায়ী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক। একই সাথে আমরা দাবি করছি যে, মূল মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পরেও সরকার নানা অপকৌশলে দেশনেত্রীর মুক্তির পথে যেসব বাধার সৃষ্টি করছে তা বন্ধ করা হোক, যাতে জামিনে মুক্ত হয়ে দেশনেত্রী তাঁর পছন্দের হাসপাতালে নির্ভরযোগ্য ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইজি প্রিজন প্রায় ১ সপ্তাহ পরে ১১ জুন তারিখে মুখ খুললেন কেন? এমন প্রশ্ন রেখে মোশাররফ বলেন, ‘কেন এতদিন ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হলো? কেন ইতোমধ্যে তাঁর হঠাৎ এত বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন যে, ৯ জুন তারিখে ডাক্তারগণ বেগম খালেদা জিয়ার অজ্ঞান হওয়ার কথা বলে নাকি আদালতের সহানুভূতি লাভের চেষ্টা করেছেন। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, ডাক্তারদের সাক্ষাতের দিনক্ষণ স্থির করে সরকার। তারা ৯ তারিখে সাক্ষাতের দিন স্থির করেছে বলেই ঐ দিন ডাক্তারগণ প্রেস ব্রিফিং করেছেন। মামলার দিন তারিখ সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের জানার কথা-ডাক্তারদের নয় ‘

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মরিয়া এই ‘দলবাজ’ অ্যাটর্নি জেনারেল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়েও ‘অশোভন ও অযৌক্তিক’ মন্তব্য করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচ/ এসএ 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2