Ads-Top-1
Ads-Top-2

কালো রঙ কর্তৃত্ববাদী ও শক্তিশালী

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
১০ জুন ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 09:30:00 আপডেট: 01:00:00

 অমর শিল্পী বব মারলি বলতেন, ‘আমি কালো-ধলোর পক্ষে নই, ঈশ্বরের পক্ষে।’ আর বিখ্যাত ফ্রেঞ্চ শিল্পী পিয়ারে অগাস্তো রেনে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বলতেন, ‘রঙের রাজা যে কালো, সেটা আবিষ্কার করতেই আমার চল্লিশ বছর লেগে গেছে।’ 
 
তবে আমার মনে হয়, কালো রঙ নিয়ে সবচেয়ে খাঁটি কথাটি বলতে পেরেছেন বাংলা ভাষার অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি তার ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে লিখেছেন, ‘কালোকে কেউ চায় না। সুন্দরকে সবাই চায়। যে বলে আমি কালোকে ভালোবাসি, হয় সে কখনও সুন্দর দেখেনি অথবা তার ভালোবাসা মৌখিক।’
 
যা-ই হোক, বিজ্ঞান বলে, যখন কোনো দৃশ্যমান রঙ আমাদের চোখে পৌঁছে না, তখনই আমরা কালো রঙ দেখি। 
 
রঙ নিয়ে বিশ্বের সব সংস্কৃতির প্রতিক্রিয়া একই ধরনের নয়। কালো রঙ কর্তৃত্ববাদী ও শক্তিশালী। কারণ এ রঙ এতটাই আবেগ সৃষ্টি করতে পারে, যা দেখে বিস্মিত হতে হয়। এটা ঠিক, সাদার বিপরীত রঙ কালো আর এটা অন্ধকার ও অজ্ঞতার প্রতীক।
 
চীনা সংস্কৃতিতে কালো রঙ শীতকাল, পানি ও উত্তর দিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর পশ্চিমা সংস্কৃতিতে কালো শোকের রঙ। ব্রিটেনের ট্যাক্সিক্যাব ঐতিহ্যগতভাবে কালো রঙের হয়। আর চীনে বালকদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কালো রঙের।
 
হাঁটার সময় সামনে দিয়ে কোনো কালো বেড়াল চলে যাওয়াকে বিশ্বের অনেক সংস্কৃতি অশুভ জ্ঞান করে। তবে ইংল্যান্ডে কালো বেড়াল সৌভাগ্যের প্রতীক।
 
কালো রঙ হচ্ছে সৌরজগতের সব রঙের সমন্বয়, যা আমাদের চোখে কালো ঠেকে। আবার এটাও ঠিক, কালো রঙ থেকেই বাকি সব রঙের জন্ম। কালো রঙ ছাড়া অন্য কোনো রঙ পূর্ণতাও পায় না। মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্টের অর্থ হচ্ছে ‘যোগ্যতা অর্জন, বোধগম্যতা, জ্ঞানের সূচনা।’ তবে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ‘সব রঙের মিলনে তৈরি হয় সাদা রঙ আর কালো রঙ হচ্ছে সব রঙের অনুপস্থিতি।’
 
শিল্পকলার প্রাথমিক রঙ কালো। কালো রঙেই বিশ্বের প্রাচীন সব শিল্পকলা রচিত হয়েছে।
 
প্রাচীন মিসরীয় দেবতা আনুবিসের রঙ কালো। নীলনদে ভয়াবহ বন্যার পর জমিতে কালো রঙের পলি জমত।
 
গ্রিক সংস্কৃতিতেও কালো রঙের দাপট দেখা যায়। পরকালের নদী একিরনের পানি দেখতে বেজায় কালো। তারা বিশ্বাস করত, পাপীরা টার্টারাস নামে ভয়াবহ কালো স্তরে ঠাঁই পাবে। সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপ ও আমেরিকায় ডাকিনীবিদ্যার জোয়ার বয়ে যায়। অধিকাংশ মানুষ এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত, ব্ল্যাক সাবাত অনুষ্ঠানে শয়তান প্রায় কালো রঙের কোনো প্রাণীর বেশ ধরে হাজির হয়। কালো বেড়াল আর কালো প্রাণী সম্পর্কে কুসংস্কারের যাত্রা শুরু এখান থেকে।
 
আর বিংশ শতকে কালো রঙ হয়ে ওঠে ইতালীয় ও জার্মান ফ্যাসিবাদের প্রতীক। শিল্পকলায়ও কিছুটা হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেল কালো রঙ। এ সময় অভিজাত অনুষ্ঠানের সমাদৃত পোশাকের রঙ হয়ে যায় কালো।
 
খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব মতে, ঈশ্বর আলো তৈরির আগে মহাবিশ্বের রঙ ছিল কালো। খ্রিস্টানদের মতে, শয়তান হচ্ছে ‘অন্ধকারের রাজপুত্র’।
কালো রঙ শক্তি, কর্তৃত্ব ও গাম্ভীর্যের প্রতীক। এখনও অনেক দেশের বিচারক ও আইনজীবীরা কালো জোব্বা পরিধান করেন। মধ্যযুগে ইউরোপে এ প্রথা চালু হয়।
 
শুধু তাই নয়, ঊনবিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকের রঙ ছিল কালো। বাংলাদেশের র‌্যাবের পোশাকও কালো। তবে বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রঙ কালো।  
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2