শিরোনাম:

ভবিষ্যৎ লেনদেন বিটকয়েন-নির্ভর হবে না

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
৯ জুন ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 1:38
ভবিষ্যৎ লেনদেন বিটকয়েন-নির্ভর হবে না<br />

 বিটকয়েন কি বিশ্বটাকে পাল্টে দিতে যাচ্ছে- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়ার সময় হয়তো এখনও আসেনি। তবে চালু হওয়ার দশ বছরের মাথায় এটাকে নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবা হচ্ছে। অবশ্য, তার আগে এটার ভবিষ্যত কেমন হতে পারে, সেটাও বোঝার চেষ্টা হচ্ছে।
 
অনেকে এটাকে ‘ডিজিটাল গোল্ড’ আখ্যা দিচ্ছেন। মাদক অথবা অস্ত্রসহ যে কোনো দামি জিনিস কিনতে পশ্চিমা বিশ্বে নগদ ডলার বা ইউরোর চেয়ে বিটকয়েনই এখন বেশি নিরাপদ বিবেচিত হচ্ছে। তারপরও বিনিময়ের নতুন মাধ্যম হিসাবে আবির্ভূত ডলারের এ ভার্চুয়াল প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাংকসহ সরকারগুলোকে। তাদেরও প্রশ্ন, বিটকয়েনের ভবিষ্যত কি?
 
বিটকয়েন হল ওপেন সোর্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রোটোকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মুদ্রা। এটা লেনদেনে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বা নিকাশ ঘর লাগে না। ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো নামের এক বিজ্ঞানী এ মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি এ মুদ্রাব্যবস্থাকে ‘পিয়ার-টু-পিয়ার লেনদেন’ নাম দেন।
বিটকয়েনের লেনদেন ‘বিটকয়েন মাইনার’ নামে একটি সার্ভারে সুরক্ষিত থাকে। পিয়ার-টু-পিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকা একাধিক কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মধ্যে বিটকয়েন লেনদেন হলে এর কেন্দ্রীয় সার্ভার ব্যবহারকারীর লেজার হালনাগাদ করে দেয়। একটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিটকয়েন উৎপন্ন হয়। ২১৪০ সাল পর্যন্ত নতুন সৃষ্ট বিটকয়েনগুলো প্রতি চার বছর পরপর অর্ধেকে নেমে আসবে। ২১৪০ সালের পর ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরি হয়ে গেলে আর কোনো নতুন বিটকয়েন তৈরি করা হবে না।
বিটকয়েন ডিজিটাল কারেন্সি হিসাবে ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এর দর মারাত্মক ওঠানামা, দুষ্প্রাপ্যতা এবং ব্যবসায়িক কর্মকা-ে সীমিত ব্যবহারের কারণে এটা নিয়ে নানা শঙ্কাও কাজ করে। তবে বিটকয়েনকে বিভিন্ন দেশ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও বাণিজ্যিক মহাকাশ পর্যটক প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্যালাক্টিকের ফ্লাইটের মূল্য হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে। স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন তার বাণিজ্যিক স্পেস ফ্লাইট ভার্জিন গ্যালাক্টিকের মূল্য পরিশোধে মুদ্রাটি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে জার্মানিই বিটকয়েনকে ব্যক্তিগত মুদ্রা বা ‘প্রাইভেট কারেন্সি’ ঘোষণা করেছে। সান ফ্রান্সিসকো, বার্লিন ও আর্জেন্টিনায় ব্যাপক জনপ্রিয় এ বিটকয়েন।
 
সম্প্রতি কানাডার ভ্যানকুভারে বিটকয়েনের প্রথম এটিএম মেশিন চালু হয়। ধারণা করা হচ্ছে মুদ্রা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি বিটকয়েনকে আরও এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে মাদক, চোরাচালান অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও অন্যান্য বেআইনি ব্যবহার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সরকার বিটকয়েন গ্রাহকদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা করছে।
 
২০০৯ সালের শুরুতে ভার্চুয়াল এ মুদ্রার ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল প্রযুক্তিপাগলদের মধ্যে। হঠাৎ করে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে মুদ্রাটির দাম ১০ গুণ বেড়ে যায়। তাতে এ মুদ্রাব্যবস্থার দিকে নজর দিতে বাধ্য হন নিয়ন্ত্রক, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণ।
 
বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মাধ্যমে বিটকয়েন একটি বিকল্প মুদ্রার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অ্যামাজনের মতো শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানও বিটকয়েনে তাদের পণ্যের মূল্য পরিশোধের সুযোগ করে দিয়েছে। অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অনেক অ-অনলাইন প্রতিষ্ঠানও বিটকয়েন মেনে নিয়েছে। অবশ্য বিটকয়েন নিয়ে নানা ধরনের ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক সংবাদ প্রায় আলোচনায় আসছে।
 
অবশ্য বর্তমানে বিটকয়েনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেভাবে কথাবার্তা হচ্ছে, তাতে তারাই হতাশ হচ্ছেন, যারা ভেবেছিলেন কোনো অবস্থাতেই বিটকয়েন কোনো ধরনের পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে না। কিন্তু বিশ্বের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে।
 
তাদের মতে, একটি পরিষ্কার আইনি সংজ্ঞায়ন বিটকয়েনের চলার পথকে আরও মসৃণ করবে। এ মুদ্রাসংশ্লিষ্ট আইনগুলো যত দ্রুত পরিষ্কার হবে, ততই ভালো হবে।
 
এটা ঠিক, অনলাইন ‘কালোবাজার’ হিসাবে পরিচিত ‘সিল্ক রোড ওয়েবসাইট’ বন্ধের সময় সেখানে লেনদেনে ব্যবহৃত বিটকয়েন বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে। ইতিমধ্যে সিল্ক রোডের ঘটনায় বিটকয়েন আইনি ব্যবস্থার দিক থেকেও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে।
 
তবে বিশেষজ্ঞরা এটা জোর গলায় দাবি করছেন, যদি প্রশ্ন করা হয়, বিটকয়েন প্রযুক্তি কি আগামীদিনের লেনদেনের সর্বোত্তম মাধ্যম, তাহলে উত্তরটি হবে ‘হ্যাঁ’। আর যদি প্রশ্ন করা হয়, লেনদেনের ভবিষ্যত কি বিটকয়েনের উপর নির্ভর করবে? উত্তরটি হবে ‘না’।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2