শিরোনাম:

যমুনার চরে কাউন চাষে ভালো উপার্জন করছেন কৃষকরা

কৃষি ডেস্ক
৮ জুন ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 2:47
যমুনার চরে কাউন চাষে ভালো উপার্জন করছেন কৃষকরা

একসময় কাউন চরের মানুষের প্রধান খাদ্য শস্য ছিল। নতুন বাজার সৃষ্টি হওয়ায় কাউন চাষ করে ভালো উপার্জন করছেন যমুনার চরের ভূমিহীন কৃষকরা।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর চরে বেলে-দোআঁশ মাটিতে ব্যাপকভাবে কাউন চাষ শুরু হয়েছে। এ কাউন স্থানীয় বাজারে ‘কাউন চাল’ নামে বিক্রি হলেও নতুন ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্কুট তৈরির কারখানা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সারিয়াকান্দির যমুনা ও বাঙালি নদীর অসমান চরে সেচনির্ভর ফসল করা যায় না। ধু-ধু চরের উত্তপ্ত বালিতে সবজিও হয় না। এ কারণে দুই নদীর হাজার হাজার বিঘা চর পতিত থাকত। নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষেরা এ ঊষর জমিতে শস্য ফলাতে শুরু করেছে। বেলে মাটিতে চাষ হচ্ছে বাদাম, আর বেলে-দোআঁশে চাষ করা হচ্ছে কাউন।

জানা যায়, চাল হিসেবে কাউনের প্রচলন বহু প্রাচীন। বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট অঞ্চলে কাউন চাষ হয় বেশি। এসব অঞ্চলের অভাবী মানুষের ভাতের বিকল্প কাউন। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ব্যাপকভাবে কাউন চাষের জন্যই রংপুর জেলার একটি উপজেলার নাম ‘কাউনিয়া’।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সারিয়াকান্দিতে গত বছর ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা আরো বেশি পরিমাণ জমিতে কাউন চাষ করেছেন। এবার ১ হাজার ৬০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ কাউনের বীজ বপনের সময়, আর কাটা-মাড়াই শুরু হয় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। এরই মধ্যে উপজেলার হাটবাজারগুলোয় কাউন বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী, পান্তাপাড়া চরের কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা কাউন চাষে তাদের আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন পেয়েছেন আট মণ। আর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাউন থেকে সুস্বাদু পায়েস, পোলাও, ভুনা খিচুড়ি, নাড়ু ও বিস্কুট তৈরি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। গম বা চালের মতো কাউনে বেশি মাত্রায় শর্করা না থাকায় স্বাস্থ্য সচেতনরাও কাউনের তৈরি খাবার পছন্দ করছেন।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদুুজ্জামান বলেন, যমুনা নদীর দুই পাড়ের ভূমিহীন মানুষরা এ কাউন চাষ করে থাকে। কাউন চাষে তেমন খরচ হয় না। বন্যায় জমিতে পলি মাটি পড়ায় এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হওয়ায় এবার কাউনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত মানুষগুলো ভাতের বিকল্প হিসেবে কাউন ব্যবহার করে। এ কাউন চালের মতো হাটবাজারে বিক্রি হয়। আগের থেকে কাউন চাষ জেলায় বেড়েছে। সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় কাউন চাষ হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এমজি

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2