Ads-Top-1
Ads-Top-2

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

মাইদুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 07:28:00 আপডেট: 07:32:00

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ মোট ৫৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শিক্ষাখাতে।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে চলমান কার্যক্রমসমূহের সময়ানুগ ও দক্ষ বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নোত্তর মানোন্নয়ন এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মানসম্পন্ন ও প্রশস্ত করার জন্য আমরা ১০টি সড়ক জোনভিত্তিক ১০টি গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ৩ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৪৬৫ কিলোমিটার সড়ক চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত হয়েছে। আরো ৪৩৬ কিলোমিটার সড়ককে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি চলাচলের সুযোগ তৈরির জন্য আমরা ঢাকা ইস্টওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত থাকবে। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ততা রোধ করার ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। সে লক্ষ্যে, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি স্হানে এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন স্থাপন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য ৬১টি সেতু নির্মাণ/পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ঢাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (Strategic Transport Plan) গ্রহণ করা হয়েছিল। আমরা ২০১৬ সালে এটিকে হালনাগাদ করেছি। সংশোধিত পরিকল্পনায় ৫টি Mass Rapid Transit (MRT), ২টি Bus Rapid Transit (BRT), ৩ স্তর বিশিষ্ট রিং রোড, ৮টি রেডিয়াল সড়ক, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি ট্রান্সপোর্টেশান হাব নির্মাণ এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠনের সংস্থান রয়েছে।’

এছাড়া পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলওয়ে একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব মাধ্যম। রেলখাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতোঃপূর্বে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি রেলওয়ে মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করা হয়েছে। উক্ত পরিকল্পনার আওতায় ২০৪৫ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ২৩০টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক বাণিজ্যে আমাদের এখন প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমুদ্র-নদী-স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত অবকাঠামো ও দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ামক ভূমিকা রাখে। এদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সকল ধরনের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছি। নৌ-রুটের নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং ড্রেজিং করা হচ্ছে। নিরাপদ বেসামরিক বিমান চলাচল, যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরসমূহের সক্ষমতা ও সেবা সুবিধা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত রেখেছি।’

উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে ৪৭তম এ বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ১২তম ও বাংলাদেশের ৪৭তম বাজেট এটি। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআই/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2