শিরোনাম:

বাজেটে দাম বাড়ছে-কমছে যেসব পণ্যে

নিউজ ডেস্ক
৭ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 5:32 আপডেট: 8:31
বাজেটে দাম বাড়ছে-কমছে যেসব পণ্যে

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। আবার কিছু পণ্যের দাম কমানোও হচ্ছে। পেশকৃত বাজেটের তালিকা তুলে ধরা হলো।

প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে:
আমদানি করা চালের ওপর রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে সব ধরনের চাল আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ ও রেগুলেটরি শুল্ক ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। ফলে আমদানি করা চালের দাম বাড়তে পারে।
 
আগামী অর্থবছর থেকে ছোট ফ্ল্যাট (১ থেকে ১১০০ বর্গফুট) কেনায় খরচ বাড়তে পারে। তবে মাঝারি আকারের (১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট) ফ্ল্যাট কেনার খরচ কমতে পারে। কেননা বর্তমানে ১ থেকে ১১০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আর ১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ভ্যাটের হার রয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই দুই ধরনের ফ্ল্যাটের নিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে বড় ফ্ল্যাট (১৬০১ থেকে বেশি) নিবন্ধনের ভ্যাট হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এদিকে যারা পুরনো ফ্ল্যাট কিনবেন তাদেরও খরচ বাড়তে পারে। কারণ নতুন অর্থবছরে পুরনো ফ্ল্যাট পুনঃনিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।
 
ফ্ল্যাট কেনার পর ঘর সাজানোর আসবাবপত্র কিনতে গেলে আগামী অর্থবছর বাড়তি চাপে পড়তে হতে পারে ক্রেতাদের। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আসবাবপত্র উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ১ শতাংশ করে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে আসবাবপত্র উৎপাদন পর্যায়ে ৬ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী অর্থবছর থেকে তা ৭ শতাংশ হারে প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর বিপণন পর্যায়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট পরিবর্তন করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
 
বর্তমানে নিজস্ব ব্র্যান্ড সংবলিত তৈরি পোশাক বিক্রিতে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আছে। সরকার আগামী অর্থবছর থেকে এ খাতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য ব্র্যান্ডবিহীন পোশাক পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হবে।
 
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর বর্তমানে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ভ্যাট হার ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। সম্প্রতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাত্রা বেড়েছে। এতে মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বাড়তে পারে।
 
বর্তমানে ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা অনেক বেড়েছে। এভাবে পণ্য ও সেবার পরিসর আরও বাড়াতে ‘ভার্চুয়াল বিজনেস’ নামে একটি সংজ্ঞা দেয়া হচ্ছে বাজেটে।
 
অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর এ সেবার আওতাভুক্ত হবে। এই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে তার ওপর ভ্যাট আরোপ করে। ট্যারিফ ভ্যালু সাধারণত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম হয়। ফলে একই হারে ভ্যাট আরোপ হলেও আমদানি পণ্যের চেয়ে দেশি পণ্যের ভ্যাট দিতে হয় কম। আসছে বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। 
 
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরি শাল, গ্রিন টি, শেভিং ব্লেড, শেভিং জেল, চুলের ক্রিম, চশমার ফ্রেম, সানগ্লাস, লুব্রিকেটিং অয়েল, বিভিন্ন রকম পেপার, সানস্ক্রিন, সিরামিক বাথটাব, কাজুবাদাম, ক্যালন্ডোর, পোস্টার, জার্সি, শীতের পোশাক, মোবাইল, ব্যাটারি, চার্জার, ইউপিএস, আইপিএস, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, ল্যাম্প হোল্ডার এবং নারিকেলের। এছাড়া হেলিকপ্টার সেবার উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ থাকছে। মদ-বিয়ারের ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি ও জর্দা-গুলের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।

দাম কমছে যেসব পণ্যের:
মোটরসাইকেল উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড মোটরগাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ পণ্যগুলোর দাম কমতে পারে।

ওষুধশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, ক্যানসার নিরোধক ওষুধ প্রস্তুতের জন্য আমদানি পর্যায়ে কতিপয় উপকরণের রেয়াতি সুবিধা প্রদান এবং ওষুধশিল্পের উৎপাদনের ব্যবহৃত কাঁচামালের রাসায়নিকে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওষুধ পণ্যের দাম কমতে পারে।

পোলট্রি ফিডের প্রয়োজনীয় উপকরণ সয়াবিন ওয়েল, ফ্লাওয়ারের ওপর শুল্ক হ্রাস করে শূন্য করা হয়েছে তবে রেগুলেটরি ডিউটি ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফিশিং নেট আমদানিতে শুল্ক প্রণোদনার প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। গুঁড়া দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল ফিল্ড মিল্ক পাউডার বাল্ক আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মধ্যে কার্বন রডের শুল্ক কমেছে। কর্নফ্লাওয়ার, অ্যালুমিনিয়ামের তার আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। দেশীয় মুদ্রণশিল্প রক্ষায় মুদ্রণশিল্পের কাঁচামালে শুল্ক ১০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

বল পয়েন্ট কলমের কালি আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি ছাপানোর পণ্যসামগ্রীতে শুল্ক কমানো হয়েছে। ফ্লাক্স ফাইবারে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এছাড়াও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে দাম কমছে পাউরুটি, বনরুটি, হাতে তৈরি বিস্কুট, কেক, দেশীয় মোটরসাইকেল, প্লাস্টিক ও রাবারের চপ্পলের। এছাড়াও ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ কমবে।

ব্যাংকিং খাতে করপোরেট কর কমানো হচ্ছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে পারে সুদের হার। আরও কমবে কৃষিজমিতে রেজিস্ট্রেশনের খরচ।

এছাড়াও কমবে এনার্জি সেইভিং লাইট, টমেটো সস, ফলের জুস, গুড়ো দুধ, শিশু খাদ্য, স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি রেফ্রিজারেটর, এসি, মোটর সাইকেল ও আমদানিকৃত হাইব্রিড গাড়ি ও টায়ারের দাম।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের পঞ্চম বাজেটটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। 

আগের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরও সংশোধন করা হয়েছে বাজেটের আকার। ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা কমিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের সংশোধিত আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এ থেকে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বড় বাজেট দিতে যাচ্ছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। 

আয় কাঠামোর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা ও করবহির্ভূত ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণনির্ভরতাও বাড়ছে এবারের বাজেটে। ঘাটতি বাজেটের অর্থসংস্থানে ঋণের দিকে ঝুঁকছে সরকার।

দেশের ইতিহাসে ৪৭তম এ বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ১২তম ও বাংলাদেশের ৪৭তম বাজেট এটি। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2