Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘খালেদার কারাবাস দীর্ঘ করতে সময় চাওয়া হচ্ছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 04:50:00

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের আচরণ ন্যায়বিচারের পক্ষে না বলে অভিযোগ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার জন্য এ ধরণের আচরণ করেছে। এ আচরণ কখনোই ন্যায়বিচারের পক্ষে না। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংশামূলক।’         

কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। আদালত জামিন শুনানি বিষয়ে আগামী ১০ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার এক আবেদনে (কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে বিষয়ে ক্ষমতা আইনের মামলা) জজ কোর্ট বলেছে, যেহেতু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে, কিন্তু ওয়ারেন্ট তামিল হয়নি সেহেতু তার জামিন আবেদন শোনা যাবে না। এর বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছি।’

একই ধরনের অন্য একটি মামলায় হাইকোর্টের আদেশের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘গতকাল হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের আদালত থেকে একটি রায় বেরিয়েছে। সেখানে তিনি আদেশ দিয়েছেন, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল হয় না, এই কারণে জামিন আবেদন শোনা যাবে না এটা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভুল পদক্ষেপ। সে পদক্ষেপ আইনগতভাবে সঠিক না। সেজন্য বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের আদালত আমাদের আবেদন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং জামিন আবেদনের শুনানি করতে বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকের আবেদনেও সেই একই আদেশে চেয়েছিলাম। যাতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যায়। কারণ তিনি একজন বৃদ্ধা মহিলা। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন মামলার আসামিও মহিলা হলে তাকে আদালত জামিন দেন। এ কারণে আমাদের আসামি জামিন পেতে পারেন। কিন্তু এই অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন তিনি হাইকোর্টের আদেশটি দেখেননি। তাই রবিবার পর্যন্ত সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের লজ্জা হয়, আমাদের ঘৃণা হয়। আজ আদালত বলেছেন, অন্য একটি বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছেন সেই আদেশ আমরাও কি পালন করতে বাধ্য? আমরাও আদালতকে বললাম, হ্যাঁ আপনারা বাধ্য, আপনারা আমাদের জামিন আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পাঠিয়ে দিন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম হাজির হলেন।’

তিনি বললেন, ‘হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চের রায়টি এখনো আমার পড়া সম্ভব হয়নি। ওই রায়টি আমাকে দেখতে হবে, তারপর এ মামলায় শুনানি হবে। এ কারণে আদালত আগামী রবিবার মামলার শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছি, অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন আচরণে আমরা মর্মাহত এবং এটা দুঃখজনক। যেখানে সমগ্র সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ভুল আচরণের পদক্ষেপের বিষয়টি এসেছে, অথচ এটা তার জানা নেই। আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলকে সে রায়ের কপিও দিয়েছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার কারাবরণ দীর্ঘায়িত করার জন্য এ ধরণের আচরণ করছেন। এ আচরণ কখনোই ন্যায়বিচারের পক্ষে না। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংশামূলক আচরণ।’        

এর আগে দুপুর ১২টায় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন। অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানির জন্য সময় চান। এরপর শুনানি আগামী রবিবার (১০ জুন) পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত।

ব্রেকিংনিউজ/এমকে/এইচএ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2