শিরোনাম:

কন্যার একটি অর্থ ‘যে দীপ্তি পায়’

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
৭ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 11:08
কন্যার একটি অর্থ ‘যে দীপ্তি পায়’

 কন্যা শব্দের মূল অর্থ কাম্যা। শব্দটিকে যৌনগন্ধী বলা যেতে পারে। কন্যা যে কাম্যা, তার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মহাভারতের রচয়িতা বেদব্যাস। তিনি লিখেছেন, ‘সর্বান্ কাময়তে যম্মাং।’
 
এদিক থেকে পশ্চিমা নারীদেরও অবস্থা প্রাচ্যের চেয়ে ভালো নয়। কারণ ইংরেজি woman-এর মূলে রয়েছে wifeman। এ শব্দে নারীর স্বতন্ত্র সত্তার স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তবে কন্যা শব্দের আরেকটি মূলানুগ অর্থ হচ্ছে ‘যে দীপ্তি পায়’।
 
আবার ‘mistress’ শব্দটির অর্থ বর্তমান স্তরে পৌঁছতে কয়েকশ বছর লেগে গেছে। শুরুতে mistress শব্দটি দিয়ে অবৈধ প্রেমিকা বুঝাত। ‘madam’ শব্দটিও এক সময় প্রণয়গন্ধী ছিল। কারণ ম্যাডামের মূল অর্থ হচ্ছে my lady- আমার নারী। শব্দটির বিবর্তন এ রকম madam < ma dame < my lady. আগে শব্দটি নারীর প্রতি প্রণয় সম্বোধনে ব্যবহৃত হতো।
 
ইউরোপে রেস্টোরেশন বা রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আমলে (১৬৬০ সালে) ম্যাডাম শব্দের অর্থের বেশ অবনতি ঘটে। তখন ম্যাডাম বলতে বেশ্যাবাড়ির মালিক বুঝাত, বর্তমানে শব্দটির অর্থে একটা শালীন ভাব রয়েছে।
 
যাই হোক, হিন্দুশাস্ত্রে নয় প্রকার কন্যার উল্লেখ আছে। যেমন নটী, কাপালিকী, বেশ্যা, রজকী, নাপিতাঙ্গ না, ব্রাহ্মণী, শূদ্রকন্যা, গোপালকন্যা ও মালাকারকন্যা। আবার বাচস্পত্য অভিধানে অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা ও মন্দোদরী- এ পাঁচজন পঞ্চকন্যা নামে অভিহিত হয়েছেন।

প্রাচীন বাংলায় কন্যা শব্দটির বানান ছিল ‘কণ্যা’। 
 
জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস কন্যা শব্দের অর্থে লিখেছেন ‘যে স্ত্রী পতি কামনা করে’। সাধারণ অর্থে কন্যা মানে দুহিতা, মেয়ে, অবিবাহিতা, কুমারী (কন্যা পাবে কুতুলে, তুমি পাবে দানফল- কবিকঙ্কণ চণ্ডী; কন্যা আছে চোখ বিধুঁনী, দিলাম তোমার দান; সারাটি পালঙ্ক বেড়ি দলমল ঢলে কন্যার মাথার এলোকেশ- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার; জল ভরিতে যাও গো কন্যা তিনসন্ধ্যা বেলা- পূর্ববঙ্গগীতিকা; কি করিলে আমরা দেশের উপযুক্ত কন্যা হইব?- বেগম রোকেয়া; ব্রাহ্মণ বলেন কন্যা কর অবধান- ক্ষেমানন্দ দাস; কন্যাকে গোছল দিল বিরল সুস্থলে- দৌলত উজির বাহরাম খান; কিন্তু ফকীরের রাজকন্যা লাভের বাসনা যে বামনের চাঁদ ধরার আশার মত নিতান্তই অলীক- শেখ ফজলল করিম; ঘরের বাহির হইলে জানিতে কারণ। প্রখর নূপুর দিয়া কন্যার চরণ- দৌলত উজির বাহরাম খান; সেই কন্যা হৈল জান মুখ্য পাটেশ্বরী- সৈয়দ আলাওল; মনের গুমর কন্যা মনে লুকাইয়া গোয়ালিনীর কাছে কয় হাসিয়া হাসিয়া- মৈমনসিংহ গীতিকা)।
 
খনার বচনে কন্যা মানে আশ্বিন মাস। অন্যদিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘৃতকুমারী, বড় এলাচী (স্থূলৈলা), পতিত কাঁকড়ী, কাঁকরোলকে (বন্ধ্যা কর্কটচী) কন্যা বলা হয়।
 
বাংলা একটি প্রবাদে রয়েছে দশ পুত্র সম কন্যা, যদি কন্যা পাত্রে পড়ে।
 
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা স্ল্যাংয়ে কন্যা বা মেয়ের যেসব প্রতিশব্দ পাওয়া যায়, অভ্র বসু তাঁর বাংলা স্ল্যাং অভিধানে একটা তালিকা দিয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছে: আগুন, আনারকলি, কমলি, খরসি, গুড গুডস, গুড়িয়া, গোলাপজাম, চামকি, চাম্পি, চিকনা, চিজ, চিড়িয়া, চুটকি, চুলবুলি, চাঁদনি, ছাম, ছেমড়ি, জিটু, ঝিল্লি, টিশু, তুবড়ি, দুগগি, নল, পাটি, পানসি, পিস, ফান্টুস, ফোরফর্টি, ভাতি, মাল, রঙ্গিলা, লগদা।
 
আবার জ্যোতিষশাস্ত্রে কন্যা (virgo) ষষ্ঠ রাশি। এই রাশি সৌরবন্ধনীর অবস্থান ১৫০তম ডিগ্রি থেকে ১৭৯তম ডিগ্রি নির্দেশ করে। সূর্য এ বন্ধনী বছরের ২৩ আগস্ট থেকে ২২ সেপ্টেম্বর অতিক্রম করে। গ্রীষ্মের শেষে শরতের শুরুতেই কন্যা রাশির অবস্থান।
 
কন্যার সমতুল শব্দ আরবিতে সবীয়াহ।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2