শিরোনাম:

রংপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
৬ জুন ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 6:12 আপডেট: 6:16
রংপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে জমে উঠেছে উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরের ঈদের বাজার। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল পর্যন্ত সবখানেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।
 


প্রতিটি মার্কেটে হাজার ক্রেতার ভিড়। ক্রেতাদের চাপে নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছে না বিক্রেতারাও। আর এ সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কাপড়সহ তৈরি পোশাক বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত মুনাফা।
 
সরেজমিনে রংপুর মহানগরীর সালেক মার্কেট, শাহ জামাল মার্কেট, সুপার মার্কেট, রংগন, জাহাজ কোম্পানি শপিং সেন্টার, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, হনুমানতলা এরশাদ হকার্স মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেটে ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট দেখা গেছে।
 
রমজানের প্রথম থেকেই ঈদের কেনাকাটার জন্য নগরীর সালেক মার্কেটে ও শাহ জামাল মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। সেই সঙ্গে নগরীর হনুমানতলা এরশাদ হকার্স মার্কেট, ভাঙ্গা মসজিদ মার্কেট ও স্টেশন বাজারেও প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের ভিড় লেগেই আছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষ কেনাকাটার জন্য এই সব মার্কেটকে বেছে নিচ্ছেন। আর যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য ফুটপাতই ভরসা। এর ফলে বেচাবিক্রির কমতি নেই ফুটপাতেও।
 
আর অভিজাত শ্রেণির মার্কেট হিসাবে পরিচিত নগরীর সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টার, রংগন, সিটি প্লাজা, দর্জিবাড়ী, জাহাজ কোম্পানী শপিং সেন্টার, মায়া বাজারসহ অভিজাত বিপণী বিতানগুলোতে কেনাকাটার ধুম লেগেছে।
 
নগরীর বেশ কয়েক পোশাক বিক্রেতারা জানান, সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রচুর লোকের সমাগম হচ্ছে মার্কেটগুলোতে। ক্রেতারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী শাড়ি, থ্রি-পিস ও ছিট, শার্ট ও প্যান্ট, জুতা, স্যান্ডেল, পাঞ্জাবিসহ অন্যান্য জিনিস কিনছেন।
 
পোশাক বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জামদানি ৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা, মেয়েদের পাগলু, বিপাশা বসু, জান্নাত-টু, আশিকী-২, জিপসি ৩৫০ থেকে ২৮ হাজার ৫শ’ টাকা, ছেলেদের কার্গো জিন্স, থাই, ডিসকার্ড-২, সিম ফিট, ফরমাল টি শার্ট ৭৫০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
 
ছোটদের লেহেঙ্গা, মাসাক্কালী, সিঙ্গেল টপ, টপসেট, গেঞ্জিসেট ১ হাজার ২শ’ থেকে ৭ হাজার টাকা। পাঞ্জাবির মধ্যে বড়দের ছোটদের ধুতি কাতান, ৩৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার এবং আকর্ষণীয় শেরওয়ানি ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে বাজারে এসেছে ছেলেদের বাহুবলী, বজরঙ্গী ভাইজান ও রইস পাঞ্জাবী।
 
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, পোশাকের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। সুপার মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা তামপাট চেয়ারম্যানপাড়ার শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, গত বছর ঈদের আগে যে পোশাক হাজার টাকায় কিনেছি, এবার সেই একই মানের পোশাকের দাম ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা বলছেন বিক্রেতারা। কোনও কোনও কাপড়ের ক্ষেত্রে আবার দ্বি-গুণ দাম ধরা হচ্ছে।
 
আরেক ক্রেতা পীরগঞ্জের খালাশপীর এলাকার বীনা আক্তার বলেন, বছর ঘুরে আবার সামনে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে আগেভাগেই পরিবার, কাজের লোকসহ সবার জন্য নতুন কাপড় কিনতে এসেছি। যাতে সবার সাথে ঈদ ভাল কাটে। ব্যবসায়ীরা বেশি দাম চাচ্ছেন। কিন্তু ঈদে পোশাক তো কিনতেই হবে। তাই আমার সাধ্যের মধ্যে যা ভালো লেগেছে তাই কিনছি।
 
মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতির রফিকুল ইসলাম ও লিজা বলেন, ঈদে নতুন পোশাক না হলে বেমানান লাগে। তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাবা-মায়ের জন্য নতুন কাপড় কিনতে এসেছি। বাবা-মা’র জন্য ভালো পোশাকটাই কিনবো। দাম বেশি হলেও কিনবো।
 
এদিকে, নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের শাহ-আমানত মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা সাদেক হোসেন দাম বেশি নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বেশি দাম নেয়ার কোনও সুযোগ নেই। এটা আমাদের ব্যবসা। তবে কিছু কাপড়ের দাম বেড়ে গেছে। যেটা পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হয় সেটা খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
 
শাহ সালেক মার্কেট ব্যবসায়ী সমতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, রমজানের শুরুতে বেচাকেনা খুব একটা না হলেও কয়েকদিন ধরে বেচাকেনা ভাল হচ্ছে।
 
ব্রেকিংনিউজ/এসআর/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2