Ads-Top-1
Ads-Top-2

ভার্মি সার: খুলনায় বছরে উৎপাদন ৪৭৭ মেট্রিক টন

নিউজ ডেস্ক
৫ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 01:28:00

খুলনায় রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। প্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষক পর্যায়ে চলতি বছরে এর উৎপাদন হয়েছে ৪৭৭ মেট্রিক টন। মাছের খামার, পাট, রবি শস্য, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন শাকসবজিতে এই সার ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এর সাথে জেলার দুইশ’ দশ জন কৃষক-কৃষাণী সম্পৃক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে মহানগরীসহ ছয় উপজেলায় এর কার্যক্রম চলছে।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, প্রথমে মহানগরী ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া রূপসা, দাকোপ, ফুলতলা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় এ কম্পোস্ট চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাঁড়াও মিলেছে বেশ। 
 
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দু’টি। এ প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো মহানগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডস্থ এলাকায় অবস্থিত মৃত্তিকা এগ্রো রিসার্স এন্ড ট্রেড সেন্টার, অপরটি রূপসা উপজেলার জাবুসা এলাকায় অবস্থিত আরেকটি প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে মোট ট্যাংকের সংখ্যা ১৯টি এবং বছরে এ ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন হয় ৫৮ মেট্রিক টন।
 
কৃষক পর্যায়ে বর্তমানে উৎপাদনকারী চাষীর সংখ্যা ২১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৩ এবং মহিলা ১১৭ জন। ট্যাংকের সংখ্যা রয়েছে ২১৩টি। বছরে উৎপাদন হয় ৪১৯ মেট্রিক টন। প্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষক পর্যায়ে বছরে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ মেট্রিক টন। এটি জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
অর্গানিক সবজি চাষসহ ফলজ ও বনজ বৃক্ষ চাষে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্য চাষেও এর ব্যবহার হচ্ছে। মৎস্য চাষে পুকুরে বিঘে প্রতি ২শ’ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ও পিএইচআর নামক ওষুধ প্রয়োগ করলে তিন মাসের মধ্যে ওই পুকুরে কোন খাবারের প্রয়োজন হয় না। এমনই মন্তব্য করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের একজন খামারী। এমন কি এ তিন মাসে পুকুরের তলদেশে জুপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন উৎপাদন হবে এবং এতে অন্য খাবারের কোন প্রয়োজন হবে না। 
   
নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডস্থ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদ আলম বিপ্লব বলেন, ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে একটি জাতীয় পত্রিকায় ভার্মি কম্পোস্ট ওপর একটি প্রতিবেদন দেখে যশোরের লিটু নামে এক ব্যক্তির ফার্মে যান তিনি। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে নভেম্বর মাসে প্রথমে তার বাড়ির আঙ্গিনায় তিনটি ট্যাংকি তৈরি করে যশোর থেকে ১৯ হাজার টাকা দিয়ে ২০ হাজার কেঁচো ক্রয় করেন। এ কেঁচো আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হয়। কেঁচো লাল ও কালো রঙের।
 
তিনি আরও বলেন, পূর্বের কেঁচো থেকেই বিপ্লবের ফার্মে ১২ লাখ কেঁচো উৎপাদন হয়েছে। যার দাম ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে ২১টি ট্যাংকিতে তার প্রতি মাসে ২৪শ’ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন হচ্ছে। যার দাম ৪৮ হাজার টাকা।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে সরকারিভাবে খুলনা মেট্রোতে এবং ডুমুরিয়া উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়া রূপসা, দাকোপ, ফুলতলা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় এ কম্পোস্ট চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাড়াও মিলছে।
 
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাসায়নিক সার যাতে সাশ্রয় হয়, এজন্য কৃষি দপ্তর ভার্মি কম্পোস্টের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কম্পোস্ট ব্যবহারে কৃষকদের আর্থিক সাশ্রয় হবে বলেও তিনি জানান।
 
সার তৈরির পদ্ধতি: প্রথমে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৩ ফুট প্রস্থ ও ১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ট্যাংকি তৈরি করতে হবে। এরপর ওই ট্যাংকির ১১ ইঞ্চি উচ্চতা পরিমাণ জায়গা জুড়ে ২৫-৩০ হাজার কেঁচো, ২৫০ কেজি গোবর দিয়ে পাটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তবে গোবর রোদ্রে হালকা শুকিয়ে নিতে হবে। চল্লিশ দিন পর প্রত্যেক ট্যাংকিতে ২শ’ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন হবে। ট্যাংকি গোলাকার হলেও চলবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2