Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘জীবনের নিরাপত্তা এখন হুমকিতে’

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
৫ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 12:52:00

মো: জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ১৯৯০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে প্রত্যক্ষ রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে সার্বিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি থেকে যোগ দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে। ছাত্র ফেডারেশনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৮ সালে সভাপতি হিসেবে হাল ধরেন সংগঠনের। ২০০২ সালে গণসংহতি আন্দোলন গঠিত হয় তাকে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দিয়ে। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি এবং সমাজের গঠনমূলক পরিবর্তনকেই জীবনের একমাত্র করণীয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মীর ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কোন ছেদ কখনোই পড়তে দেননি।
 
বর্তমানে গণসংহতি আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠাকে তার জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। রাজনীতির মাঠের পাশাপাশি গণমাধ্যমে জনগণের পক্ষে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সোচ্চার কণ্ঠে উত্থাপন তাকে সমকালীন রাজনীতির অন্যতম জনপ্রিয় মুখে পরিণত করেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে তিনি পরিবর্তনের রাজনীতির মূর্ত প্রতীক হিসেবে প্রতীয়মান।
 
সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। দীর্ঘ কথোপকথনে উঠে আসে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সাম্প্রতিক রাজনীতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
  
ব্রেকিংনিউজ: কেমন আছেন?
জোনায়েদ সাকি: ভালো না। ভালো থাকার কথাও না। নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন দিতে গড়িমসি করছে।
 
ব্রেকিংনিউজ: দেশের চলমান রাজনীতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
জোনায়েদ সাকি: দেশে এখন সাংবিধানিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে। আমাদের দেশের ক্ষমতার কাঠামোটাই স্বৈরতান্ত্রিক। সে কারণে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এলে তারা স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর সুবিধা ভোগ করে। ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ করে। বর্তমান সরকার সেটা করেছে এবং তারা আরও বিশেষভাবে একচেটিয়া করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে ক্ষমতার শাসন ব্যবস্থার রাষ্ট্রের যতগুলো অঙ্গ থাকে সেগুলো সবগুলোর ওপর সরকার প্রভাব বিস্তার করছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের শাসন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের জবাবদিহিতা থাকে না। সরকার উন্নয়নের দাবি করছে, বড় বড় প্রকল্প করছে কিন্তু জনগণ কি সুবিধা পাচ্ছে, নাগরিকেরা কি ধরনের সেবা পাচ্ছে সেদিক তাকালে দেখা যাবে সে তুলনায় উন্নয়ন হচ্ছে না। মানুষের যে মৌলিক জায়গাগুলো সেইসব জায়গাতে আমরা কোনো দিক থেকেই নাগরিক সুবিধা দেখতে পারছি না বরং দিনের পর দিন জীবনযাপনে আমরা নানা ধরনের বিপদজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। বিশেষভাবে জীবনের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ছিলো নাগিরিকদের নিরাপত্তা দেয়া কিন্তু তারাই এখন নাগরিকদেরকে গুলি করে হত্যা করছে। সেটাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাম দেয়া হয়েছে। সরকার যখন সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ মেরে ফেলে তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সেই সিন্ডিকেটটাকে আড়াল করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটটাকে আড়াল করতেই বন্দুকযুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে বলবো একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি আমরা তৈরি না করতে পারি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি গ্রহণ না করতে পারি তাহলে নাগরিকদের কোনো অধিকার থাকবে না। একসময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তারাও এই ধরনের কাজ করেছে। আমাদের দেশের শাসন ব্যবস্থার যে স্বৈরতান্ত্রিক চরিত্রটা আছে সেইটার সুবিধাভোগী এই দুই দল। তারা এই ব্যবস্থাটাকে বদলাতে চায় না। শুধু ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার পরে সেটাকে পুরোপুরি একচেটিয়া তৈরি করে ফেলে। সেইক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দক্ষতার সাথে একচেটিয়াকরণ করেছে। ফলে তারা তাদের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ বোধ করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার এই নিরঙ্কুশকরণে যতই স্বস্তিবোধ করুক, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এই ধরনের অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী হয় না। ফলে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে নিজেদের স্বার্থে। ফলে আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। জনগণকে গণতান্ত্রিক রাজনীতিমুখি আস্থা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সচেতন করা, সেটা আমরা নির্মাণ করার চেষ্টা করছি। কেবলমাত্র শাসকদের পরিবর্তনেই গণতন্ত্র আসবে না, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জবাবদিহিতামূলক শাসন এবং ক্ষমতাকাঠামো যদি না থাকে তাহলে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব হবে না। সেই ক্ষমতাকাঠামোর জন্য যে সাংবিধানিক সংস্কার দরকার আমরা সেই সব সংস্কারের প্রসঙ্গই সামনে নিয়ে আসছি এবং একটা যথার্থ স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা হবে যেটা শুধু একটি নির্বাচন না বাংলাদেশে পরবর্তী সকল নির্বাচনের জন্য স্থায়ী গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা করতে পারি সেই জায়গাতে আমরা কর্মসূচিগুলো নিচ্ছি এবং জনগণের সামনে এই কর্মসূচির ভিত্তিতেই নতুন গণআন্দোলন, গণজাগরণ তৈরি করার চেষ্টা করছি।
 
ব্রেকিংনিউজ: সাম্প্রতিক কোটা আন্দোলন কি সমন্বয়ের দাবি?
জোনায়েদ সাকি: আমরা বরাবরই বলেছি, কোটা সংস্কার একটা সময়ের দাবি এবং কতগুলো ক্ষেত্রে কোটা থাকা প্রয়োজন আছে তবে এই কোটা যেভাবে আছে সেটা কমিয়ে আনা সম্ভব। আমি মনে করি শতকরা ২০ ভাবে কমিয়ে আনা দরকার। কমিয়ে আনার জন্যই কিন্তু ছাত্ররা আন্দোলন করে। ছাত্রদের আন্দোলন ন্যায্য আন্দোলন ছিল এবং সে কারণে আমরা আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছি। কোটা আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। এই আন্দোলনে পুলিশ বাহিনী ও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন যেভাবে হামলা করেছে তার মধ্য দিয়েই তাদের চরিত্রটা প্রকাশ করেছে। ছাত্রদের একটা নিজস্ব আন্দোলনকে তারা সামনে এগোতে দিতে চায় না এবং আন্দোলনের যৌক্তিকতা বোঝার চাইতে আন্দোলন কিভাবে নস্যাৎ করা যায় তারা সেদিকে নজর দিয়েছে এবং তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিলেন কোনো কোটাই থাকবে না এটা কোনো যথাযথ বক্তব্য নয়। আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি একটা কমিশন গঠন করে কোটা সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়া উচিত।
 
ব্রেকিংনিউজ: সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বন্দুকযুদ্ধ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
জোনায়েদ সাকি: মাদক কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। এই ব্যবসা তো রাস্তার হকাররা করতে পারে না। এই ব্যবসার বিশাল চেইন আছে, সিন্ডিকেট আছে। মাদক ব্যবসায়ীরা এখন আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবাই ভাগ-বাটোয়ারা পাচ্ছে। অথচ অনেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আটক করে মামলা দেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক যোগসাজশে মাদক ব্যবসায়ীদের যে চক্রটা তৈরি হয়েছে সেটাকে অটুট রেখে কিছু লোক মারার মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। এটার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে। একটা রাষ্ট্রের বল প্রয়োগ করার যে ক্ষমতা আছে সেটা আছে সংবিধানের ভিত্তিতে। সংবিধানে দেশের জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনকে বল প্রয়োগের অধিকার দেয়া হয়েছে এবং বল প্রয়োগ করতে পারবেন একটা আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে। কিন্তু তারা নিজেরা যদি আইন ভঙ্গ করে তখন তাদের কি বল প্রয়োগের ন্যায্যতা থাকে? রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে ন্যায্যতা সেই ন্যায্যতাই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

 

বাস্তবে মাদক ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করার কোনো তৎপরতা দেখছি না। মাদকের সরবরাহ কিন্তু বন্ধ হয়নি, শুধু দাম বেড়েছে কিছুটা। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের আরও লাভবান করে দিচ্ছে। মাদকের যদি চক্র ভেঙ্গে দেয়া যায়, রাষ্ট্র যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা না করে তাহলে মাদক ব্যবসা প্রায় ৭০% কমে আসবে। বাকি ৩০% আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলে ধীরে ধীরে সেটাও কমে আসবে। মানুষ মেরে ফেলার মধ্য দিয়ে মাদক সমস্যা সমাধান হবে না। যারা মূলত অপরাধী তাদের বিচারের আওতায় আনলে অনেকাংশে কমে যাবে মাদক সমস্যা।
 
ব্রেকিংনিউজ: এদেশে বাম ধারার রাজনীতির গন্তব্য কোথায়?
জোনায়েদ সাকি: আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য লড়াই করছি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা জনগণের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এর বিকল্প নেই। সরকার যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো করছে এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে বিপুল দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করছে। এটা তাদের মুখ থেকেও মাঝে মাঝে স্বীকৃতি চলে আসে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘বড় প্রকল্প মানে বড় দান মারা।’ এগুলোর কিন্তু কোনো জবাবদিহিতা নেই। একটা কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, গুনাগুণ মান রক্ষা করে হচ্ছে কিনা সেটারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। আজকে ফ্লাইওভারের উপর পানি জমে থাকে কিন্তু কোনো জবাবদিহিতা নেই। দিনের পর দিন ঢাকা শহরে যে জলাবদ্ধতা সেটার কোন জবাবদিহিতা নেই। এসব সমস্যা সমাধানের পথ জানা আছে, উপায় আছে কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। এতে অনেকের পকেট ভারী হচ্ছে। কাজেই তারা এই অবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখছে। এতে জনগণ অসহায় হয়ে পড়ছে। জনগণের সহায় হওয়ার জায়গা হচ্ছে সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা। সেই জায়গাটা সৃষ্টি করার জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ খুব জরুরি। সেইটা ছাড়া কোনো জনস্বার্থভিত্তিক সংগঠন এগোতে পারবে না।
  
ব্রেকিংনিউজ: একজন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজচিন্তক হিসেবে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার ম্যাসেজ কী?
জোনায়েদ সাকি: রাষ্ট্র যদি মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেয় তাহলে ওই মানুষটি সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতি যে দায়িত্ব আছে সেই দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হন। এই যে মানুষের অধিকার এবং দায়িত্বের লেনাদেনার মধ্য দিয়ে একজন সুনাগরিক প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেন। নাগরিককে মর্যাদা দেয়া মানে তার অধিকারগুলোকে নিশ্চিত করা এবং সেটা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নাগরিককে সমাজ গঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নাগরিকের মর্যাদার জায়গা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইনসাফ না প্রতিষ্ঠা করলে সমাজ ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী হয়ে উঠবে। সাম্যের একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর জবাবদিহিতামূলক একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং সেটা রাখতে গেলে ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখা। সেই রাজনৈতিক লক্ষ নিয়ে আজকে নতুনভাবে জনজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে এবং সেগুলো করতে যদি আমরা সক্ষম হই তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনাদের দলের নিবন্ধনের সর্বশেষ কি অবস্থা?
জোনায়েদ সাকি: নতুন দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন একটা রোডম্যাপ দিয়েছিল। তারা বলেছিলেন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে, জানুয়ারিতে তারা যাচাই-বাছাই করবে এবং মার্চের মধ্যে তারা কারা নিবন্ধন পাচ্ছে তা জানিয়ে দেবে। আমরা ৩১ ডিসেম্বর আবেদন করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খবর নাই। গত এপ্রিল মাসে নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েছিল আমাদের গঠনতন্ত্রে দুটি জিনিস যুক্ত করার জন্য। আমরা সেই দুটি জিনিস যুক্ত করে আবার জমা দিয়েছি। মার্চের পরে খুলনা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা হয়। এরমধ্যে খুলনায় নির্বাচন হয়ে গেছে গাজীপুরে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন কয়েকদিন আগে আরও ৩টি সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এখন সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমরা দলগতভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন না দিলে তো আমরা প্রতীক পাচ্ছি না। ফলে মার্চে ঘোষিত তফসিলগুলোতে এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছি না। আমরা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা দাবি রাখি আমাদের বঞ্চিত না করে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন না। নিবন্ধন পাওয়া যে গণতান্ত্রিক অধিকার সে অধিকার যেন খর্ব না হয় আমরা আশা রাখি এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখবে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন আমাদের দেশে বাস্তবতা এখনও সৃষ্টি হয়নি। ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগ দাবি করেছিল যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এমন কোনো কথা নয়। নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, ভূমিকা, চরিত্র কি হবে সে নিয়ে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে একটা ঐক্যমত হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশনের যে ক্ষমতার এখতিয়ার তার আইনি বিধান থাকা দরকার। বাংলাদেশে একটা স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা করতে হলে যে সাংবিধানিক স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর বদল দরকার। সেই বদলের জন্য আমাদের যে প্রস্তাবনা আছে সেগুলো আমরা ইতিমধ্যে হাজির করেছি। আমরা মনে করি প্রত্যকটি সাংবিধানিক পদে সাংবিধানিক কমিশন গঠন করে নিয়োগ দিতে হবে। যে সাংবিধানিক কমিশন সরকারি দল-বিরোধী দল বিচার বিভাগের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে গড়ে তোলা দরকার। ১ ভোট বেশি পেয়ে গেলে সমস্ত কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে যাচ্ছেন এই বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থাটা পরিবর্তন করে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় আমাদের যাওয়া দরকার। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনে অধিকতর গণতন্ত্র, অধিকতর মানুষের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থাকে। এর ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য অনেক বেশি বজায় থাকবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/টিটি/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2