Ads-Top-1
Ads-Top-2

মরিচ ক্ষেতে ব্যস্ত চাষী

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী
১ জুন ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 05:10:00

রাজশাহীতে আগাম লাগানো গাছে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। মরিচ ক্ষেতের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। যদিও এবারে শিলা বর্ষণে মরিচ ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। তবে চাষীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মরে যাওয়া স্থানপূরণে নতুন করে চারা রোপন করেছেন।
 
উৎপাদন ভাল কৃষকের আগ্রহ থাকায় এবারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত মৌসুমের অর্জনের চেয়ে বেশী জমিতে মরিচ চাষের লক্ষমাত্রা ধরেছে। গত মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৭ হেক্টর। এবারে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫শ’ হেক্টর। এখনও নতুনভাবে মচির গাছ রোপন করছেন চাষীরা।
  
পবা উপজেলার একাধিক মরিচ চাষী ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর কাঁচা মরিচের দাম ভাল থাকায় চাষীরা এবার ব্যাপক জমিতে মরিচ রোপন করেছেন। গতবার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মরিচের দাম ভাল ছিল। শুরুতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে একপর্যায়ে তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ওঠে। এরপর উঠে ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। সেবার দামের পাশাপাশি এবার ফলনও ভালো হয়। কিন্তু এবারে মৌসুমের শুরুতেই হোচট খেয়েছে চাষীরা। 

তবে নতুনভাবে গাছ লাগানোর ফলে তেমন ক্ষতি হবে না বলে জানান চাষীরা। আবার দাম ভাল থাকলে লাভের মুখ দেখবেন বলে জানিয়েছেন চাষীরা। পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের মজিবর সরকার বলেন, আগে এ সময় থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত আমরা মরিচ গাছ লাগিয়েছি। এখন গভীর নলকুপের পানি পাওয়ার জন্য আগেই লাগানো হচ্ছে। 

মোহনপুর উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মরিচ চাষী আব্দুস সামাদ জানান, গতবার এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। ফলন ভালই হয়েছিল। দামও ভালই পেয়েছিলেন। এবারে তিনি দেড় বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। কিন্তু অজানা কান্ডপচা রোগে তার ক্ষেতের অনেক চারা গাছ মরে গেছে। এখনো কিছু কিছু করে মরে যাচ্ছে। চারা মরে যাওয়া স্থানে আবারো নতুনভাবে চারা রোপন  করেছেন তিনি।



মৌসুমের শুরুতে শিলাবর্ষণে কাঁচা মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ মৌসুমে আগাম লাগানো গাছে নতুন মরিচ ধরতে শুরু করেছে। আবার গাছ মরে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশংকা করছেন চাষিরা। পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের মরিচ চাষি আফাজ উদ্দিন সরকার বলেন, তিনি তার ক্ষেতে প্রায় ১৫ হাজার মরিচ গাছ রোপন করেছিলেন। শুরুতে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেতে বর্তমানে অর্ধেক গাছ আছে। গুজা (গাছ মরা স্থানে নতুন চারা রোপন) দেয়ার জন্য নতুনভাবে আবারো বীজ ফেলা হয়েছে। এ সপ্তাহে তিনিও ক্ষেতের মরে যাওয়া ফাঁকা স্থানে নতুনভাবে গাছ রোপন করবেন বলে জানান। তবে এর মাঝেও অনেকের ক্ষেত ভাল আছে বলে জানান তিনি।
 
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা জানান, সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত হলে মরিচ গাছের ক্ষতি হয়। এবারে মৌসুমের শুরুতে শিলার আঘাতে মরিচের গাছ কিছুটা নষ্ট হয়েছে। সময় থাকায় চাষিরা মরিচ চারা আবারো রোপন করেছেন। তিনি কান্ড পচা রোগে কোম্পানিয়ন, কমোলাক্স, কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে পচা রোগ কমে যাবে বলে জানান। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দেব দুলাল ঢালী বলেন, শিলের আঘাতে কিছুটা গাছ নষ্ট হয়েছে সত্য। কিন্তু এটাকে বিপর্যয় বলা যাবে না। বর্তমানে আবারো মরিচ চারা রোপন করেছেন চাষিরা। চাষিরা ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন। লক্ষমাত্রা অর্জনসহ মরিচ ক্ষেতের সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এসডিএম/এইচএ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2