Ads-Top-1
Ads-Top-2

রমজান : এতেকাফ এবং লাইলাতুল কদর

মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান
৩১ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 12:03:00 আপডেট: 12:05:00

ইতেকাফের পরিচয় :
ইতেকাফ   اعتكاف শব্দের অর্থ  اللبث مطلقا শুধু অবস্থান করা, কোন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে ধরে রাখা। কোন জিনিসের উপর নিজেকে শক্তভাবে আটকিয়ে রাখা। যে লোক মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করেছে, তাকে বলা হয় عاكف বা معتكف  অর্থ : অবস্থানকারী।

শরীয়তের পরিভাষায় ইতেকাফ বলতে বুঝায় বলতে বুঝায়,

الاقامة في المسجد واللبث فيه علي وجه التقرب اليہ الله تعالي.

অর্থ : আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদে থাকা ও অবস্থান করা। কুরআন মাজীদে দুইটি আয়াতে ইতেকাফ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

وَعَهِدْنَآ إِلٰىٓ إِبْرٰهِۦمَ وَإِسْمٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَالْعٰكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ

আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর’। (বাক্বারাহ ২/১২৫)

অর্থাৎ,  শব্দগুলো থেকে কতিপয় বিধি-বিধান প্রমাণিত হয়। 
♦প্রথমতঃ কা'বা গৃহ নির্মাণের উদ্দেশ্য তাওয়াফ, ইতেকাফ ও সালাত। 
♦দ্বিতীয়তঃ তাওয়াফ আগে আর সালাত পরে। 
♦তৃতীয়তঃ ফরয হোক কিংবা নফল কা'বা গৃহের অভ্যন্তরে যে কোন সালাত আদায় করা বৈধ ৷

وانتم عا كفون في المساجد.

অর্থঃ তোমরা হচ্ছ মসজিদসমূহে অবস্থানকারী।

ইতিকাফ-এর শাব্দিক অর্থ কোন এক স্থানে অবস্থান করা কুরআন-সুন্নাহর পরিভাষায় কতগুলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। জামা'আত হয় এমন যে কোন মসজিদেই ই’তেকাফ হতে পারে। ইতিকাফের অবস্থায় খানা-পিনার হুকুম সাধারণত সাওম পালনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য নির্দেশেরই অনুরূপ। তবে স্ত্রী সহবাসের ব্যাপারে এ অবস্থায় পৃথক নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইতিকাফ অবস্থায় এটা রাতের বেলায়ও জায়েয নয়।

হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, ইতেকাফকারী মূলত গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। তাকে ইতিকাফের বিনিময়ে এত অধিক পরিমাণ নেকি দেওয়া হবে, যেন সে সমস্ত নেকি অর্জনকারী। (ইবনে মাজা)

বস্তুতঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দুনিয়ার সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে সর্বতোভাবে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করা ইতিকাফের লক্ষ্য।

ইতেকাফের প্রকার সমূহ : ইতেকাফ তিন প্রকার যথা
♦ ওয়াজিব 
♦ তে মুয়াক্কাদা 
♦ মুস্তাহাব।

১ : ওয়াজিব ইতেকাফ : মান্নতের ই'তেকাফ। যে ব্যক্তি ইতেকাফ করার মানত করবে তার উপর ইতিকাফ আদায় করা ওয়াজিব। মান্নতের ই'তিকাফের জন্য সাওম পালন করা শর্ত।  যদি নির্ধারিত কোনো সময় বা স্থানের মানত করে, তাহলে ঐ সময় ও স্থানেই ইতিকাফ করতে হবে।।

২ : সুন্নতে মুঅাক্কাদা : মাহে রমজানের শেষ দশ দিন পড়া সুন্নতে মুঅ়াক্কাদায়ে কেফায়া। প্রতি মহল্লায় কমপক্ষে একজন ইতেকাফ করলে সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। যদি কেউ ইতেকাফ না করে গোটা মহল্লাবাসী গুনাগার হবে।

৩ : মুস্তাহাব :  রমজান মাস ছাড়া অন্য যে কোন সময় মসজিদে ইতিকাফের নিয়ত করে অবস্থান করা মুস্তাহাব। মুস্তাহাব ইতিকাফে সাওম পালন করা শর্ত নয়। মুস্তাহাব ইতেকাফের নির্ধারিত কোন মেয়াদ নেই।

♦রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ এবং এতেকাফ সব মসজিদে করা।

হাদীস শরীফে এসেছে,
আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ

রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন।

♦বুখারী পর্ব ৩৩ : /১ হাঃ ২০২৫,  
♦মুসলিম কিতাবুল ই‘তিকাফ ১৪/১, হাঃ ১১৭১
♦আল লু'লু ওয়াল মারজান, হাদিস নং ৭২৭
♠নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ، حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ

রমাযানের শেষ দশক ই‘তিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এ নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিণীগণও (সে দিনগুলোতে) ই‘তিকাফ করতেন।

♦বুখারী পর্ব ৩৩ : /১ হাঃ ২০২৬,  
♦মুসলিম ১৪/১, হাঃ ১১৭২
♦আল লু'লু ওয়াল মারজান, হাদিস নং ৭২৮।
♠নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা) তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

إِذَا اعْتَكَفَ يُدْنِي إِلَيَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ وَكَانَ لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ.

ই’তিকাফে থাকা অবস্থায় তাঁর শির আমার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন, আমি তাঁর চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দিতাম। আর তিনি হাজতে-ইনসানী (পায়খানা-প্রস্রাবের আবশ্যক) ব্যতীত গৃহে প্রবেশ করতেন না। 
       
♦বুখারী ২০২৯, 
♦মুসলিম ২৯৭
♦মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ৬৭৭।

রমজানের শেষ দশ দিন বিভিন্ন ইবাদতের যথাসাধ্য চেষ্টা করা।
♠আয়িশাহ্ (রাঃ) তিনি বলেন, যখন রমাযানের শেষ দশক আসত তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ

তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।

♦বুখারী পর্ব ৩২: /৫ হাঃ ২০২৪,  
♦মুসলিম ১৪/৩, হাঃ ১১৭৪।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সঠিক ভাবে কুরআন হাদিস বুঝার তৌফিক দান করুক এবং রমযানের শেষ দশদিনে ইতিকাফ করার তৌফিক দান করেন।

আমীন আমীন ছুম্মা আমীন

লেখক
প্রধান শিক্ষক, ধরাধরপুর ফুরকানিয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা সিলেট।



ব্রেকিংনিউজ/ এমজি

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2