Ads-Top-1
Ads-Top-2

সালতা নদী খননে নানা অনিয়ম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
৩০ মে ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 04:15:00 আপডেট: 04:20:00

নদী,খাল, জলাশয় খনন করতে হলে আগেই একটি পরিকল্পনা থাকতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মানচিত্র, সীমানা নির্ধারণ করে তবেই সরকারী কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
 
কিন্তু সালতা নদী খননে এমন কোনও পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ নিয়েছে কিনা মনেই হচ্ছে না। খননকৃত অংশে কোথাও সরু, কোথায় চওড়া, কোথাও সমান্তরাল আবার কোথাও হঠাৎ বেঁকে গেছে খনন কার্য। ঠিকাদার বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আবার পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের চাপের কারণে সঠিকভাবে খনন কাজ করতে পারছি না। তাই কিছুটা নকঁশার পরিবর্তন করে খনন কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া নদী খননের মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া ও বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
নদী খননের অনিয়ম ও নকশা বর্হিভূত খনন কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার নদী খনন কাজ পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ভদ্রা ও সালতা নদীতে পলিপড়ে ভরাট হযে যায়। নদী দুটি খননের জন্য স্থানীয় অধিবাসীরা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তোলে। স্থানীয় সংসদ সদস্য কয়েকদফা বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্যও তুলে ধরেন। কথা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে। মৎস্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালনকালে তার চেষ্টায় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে নদী দুটি খননের জন্য প্রকল্প জমা দেয়া হয়।
 
প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৬- ২০১৭ অর্থ বছরে খনন কাজ শুরু হয়েছে। শেষ করার কথা রয়েছে ২০১৮-২০১৯ মোট ৩ অর্থবছরে। ইতোমধ্যে খনন কাজ প্রায় ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রমতে ভদ্রা নদীর দক্ষিণ অংশে ডুমুরিয়ার দিঘলিয়া (স্থানীয় নাম দিঘেলা) থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তরাংশের তেলিগাতি হতে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন করা হবে। দিঘেলার ভদ্রার মুখে ১০ ভেন্টের স্লুইজ গেট নির্মাণ করা হবে। তেলিগাতিওে একটি স্লুইজ গেট নির্মিত হবে। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯ কিলোমিটার খনন হয়ে শৈলমারি নদীতে সংযুক্ত করা হচ্ছে।


 













সালতা নদী খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সালতা নদীটি খনন কাজে নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না। সালতা নদী খননে ডুমুরিয়া সদরে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম দেখা গেছে। অবৈধ দখলবাজদের দখল বজায় রেখে নদীটি আঁকাবাকাভাবে খনন করা হচ্ছে। সালতা নদীর মধ্যে উপজেলা কৃষক লীগের নেতা মোল্লা সেলিম হোসেনের মুরগীর ফার্ম ও বাগান রেখে ৫০ ফুট বেঁকে নদীটি খনন করা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট পোল্ডারের এসও (সেকশন অফিসার) মো. হাসনাতুজ্জামান জানান, সালতা ও ভদ্রা খনন সঠিকভাবেই হচ্ছে। তবে উপজেলা সদরে খনন কাজ করতে গিয়ে কিছুটা জটিলতায় পড়তে হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের কারনে সঠিকভাবে কাজ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পও র-১ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সালতা নদী খননে কোনও রকম অনিয়ম হচ্ছে না। খনন কাজ তদারকি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি নদী খননে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।
 
নঁকশা পরিবর্তনও অবৈধ দখলদারদের রেখে নদী খনন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনস্বার্থে খনন কাজ কিছুটা পরিবর্তন করা হচ্ছে। মাটি রাখার জায়গা হচ্ছে না। তাই হয়তো স্থানীয়রা নিয়ে যাচ্ছে।
 
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ভদ্রা ও সালতা নদী খনন কাজ করতে নকঁশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। কোনও রকম অনিয়ম হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ অন্যদেরকে ডেকেছি। সব বিষয় শুনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আকা- বাঁকা খনন ও খাসজমিতে অবৈধ দখলদারদের রেখে ব্যক্তি মালিকানার জমির উপর দিয়ে খনন কাজের স্থান পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/এসএইচ/আরএ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2