শিরোনাম:

রামগড়ে বিজিপি স্মৃতিসৌধ দেখে আসুন

নিউজ ডেস্ক
২৮ মে ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 9:09
রামগড়ে বিজিপি স্মৃতিসৌধ  দেখে আসুন

 বাংলাদেশে দর্শনীয় স্থান বিবেচিত হতে পারে রামগড়ে অবস্থিত বিজিবি (সাবেক বিডিআর) স্মৃতিসৌধ। বর্তমান বিজিপির গোড়াপত্তন হয় রামগড়ে। বিজিপির ইতিহাস নিম্নরূপ:
 
রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন (১৭৯৫-১৮৬০): ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে সৃষ্টি হয় এ বাহিনী। যার সৈন্য সংখ্যা ছিলো মাত্র ৪৪৮ জন। সীমান্ত সমস্যা বৃদ্ধি পেলে এ বাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘকালীন অভিযানে অংশ নেয়। ৬ পাউন্ড গোলার ৪টি কামান ও দু’টি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল নিয়ে গঠিত হয় সেদিনের রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন।
 
ফ্রন্টিয়ার গার্ডস (১৮৬১-১৮৯০): ১৮৬১ সালে পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত ও অনিয়মিত পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন পুনর্গঠিত হয়। যার নামকরণ করা হয় ফ্রন্টিয়ার গার্ডস। সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৫৮জন এবং সদর দপ্তর ছিলো চট্টগ্রামে। যার মধ্যে কামরূপ, গোয়ালপাড়া, লক্ষ্মীপুর, সিলেট ও ত্রিপুরার সীমান্ত ফাঁড়িগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৭৯ সালে স্পেশাল রিজার্ভ কোম্পানির নামে এ বাহিনীর তৎকালীন সদস্যগণকে নিয়ে পিলখানায় প্রথম ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। সে থেকে অদ্যাবধি পিলখানায় রাইফেলস সদস্যদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে।
বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ (১৮৯১-১৯১৯): ১৮৯১ সালে বাহিনীর নতুন নামরকণ করা হয় বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ। ব্যাটালিয়নকে ৪টি কোম্পানিতে ভাগ করা হয়। ঢাকা, খুলনা, ভাগলপুর ও গ্যাংটকে কোম্পানিগুলো স্থানান্তর করে একজন ইউরোপিয়ান সুবেদারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
 
ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস্ (১৯২০-১৯৪৬): ১৯২০ সালে কালের বিবর্তনে বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশের পুনঃ নামরকণ করা হয় ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস্ এবং একে ১৬টি প্লাটুনে বিভক্ত করে সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্ত রক্ষায় নিয়োজিত করা হয়।
 
ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ (১৯৪৭-১৯৭১): ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর এ বাহিনীর নামরকণ করা হয় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ বা সংক্ষেপে ইপিআর। কোলকাতা মেট্রোপলিটন আর্মড পুলিশের একটি দল কতিপয় বাঙ্গালি এবং তদানিন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের এক হাজার প্রাক্তন সৈনিক এ বাহিনীতে যোগ দেয়। পরবর্তীতে আরও তিন হাজার বাঙ্গালীকে নিয়োগ করে এ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করা হয়। দক্ষ নেতৃত্ব এবং দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে অফিসার নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৮ সালে এ বাহিনীকে প্রদান করা হয় চোরাচালান দমনের দায়িত্ব। দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ১৯৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১নম্বর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মেজর তোফায়েল আহম্মেদ জীবন উৎসর্গ করে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় খেতাব নিশান-ই-হায়দার অর্জন করেছিলেন। প্লাটুন কমান্ডার শহীদ নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ আজম অর্জন করেছিলেন সিতারা-ই জরাত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এ বাহিনীর ১৪২জন সদস্য জাতীয় বীরত্বপূর্ণ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। যার মধ্যে মরণোত্তর বীর শ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন শহীদ ল্যান্সনায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ। বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ৯জন, বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ৪০জন এবং বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ৯১জন।
 
বাংলাদেশ রাইফেলস্ বা বিডিআর (১৯৭২ সাল থেকে):  দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ইপিআর এর নতুন নামকরণ করা হয় বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস্)। রামগড়ে বাংলাদেশ রাইফেলস্ এর জন্ম উপলক্ষে একটি মনোরম স্মৃতিফলক রয়েছে। যাতে বিডিআর এর ধারাবাহিক ইতিহাস দেয়াল চিত্রের মাধ্যমে বিধৃত করা হয়েছে। আর ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের পর বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ১ মার্চ এ-সংক্রান্ত খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০১০ সালের ১২ জুলাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-এর খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল-২০১০’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। গেজেট প্রকাশিত হয় ২৬ ডিসেম্বর।
 
কিভাবে যাওয়া যায়: বিজিপির জন্ম সম্পর্কিত ঐতিহাসিক স্থানটি রামগড় উপজেলা পরিষদের পাশে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2