শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে মাছ ধরা বন্ধ, এখনো সহায়তা পায়নি জেলেরা

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি
২৬ মে ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 4:51 আপডেট: 4:53
কাপ্তাইয়ে মাছ ধরা বন্ধ, এখনো সহায়তা পায়নি জেলেরা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধারা কাপ্তাই হ্রদই স্থানীয় জেলেদের একমাত্র জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। গত ৩০ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে এ হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা জারির এক মাস শেষ হতে চললেও এখনো সরকারিভাবে রবাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ডের খাদ্যশস্য হাতে পায়নি জেলেরা। অন্যদিকে, বেকার অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে তারা।

কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময়ে হ্রদে মৎস্য আহরণ করা প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার জেলেকে ডিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেয় সরকার।

সাধারণত বছরের নয় মাস মৎস্য আহরণের মাধ্যমে জেলেদের পরিবারের স্বচ্ছলতা থাকলেও মাছ আহরণ বন্ধকালীন এ তিন মাস তাদের দোটানায় কাটে। হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অনেকেই এখন বেকার জীবনযাপন করছে। কেউ কেউ করছে দিন মজুরের কাজও। 

অন্যদিকে, এ জেলেরা ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় জালসহ অন্যান্য উপকরণ কেনেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা পরিশোধ করেন তারা। কিন্তু এ সময়ে কোনও ধরনের আয়ের উৎস্য না থাকায় ঋণের জালে আটকে পড়তে হয় তাদের।



জানা গেছে, ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটির ১৯ হাজার ৪৭৩ জেলে পরিবারের জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক বরাবর ৩৮৯ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা রাঙ্গামাটির আট উপজেলার ১৯ হাজার ৪৭৩ দুঃস্থ ও প্রকৃত জেলে পরিবারের জন্য প্রতিমাসে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মে ও জুন মাসে এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। রাঙ্গামাটি সদরের ৫ হাজার ৪৩, লংগদুতে ৬ হাজার ৫৪৩, বরকলে ২ হাজার ৯৫৭, বাঘাইছড়িতে এক হাজার ৭৪৩, জুরাছড়িতে ৪০৭, নানিয়ারচরে এক হাজার ৫১৯, কাপ্তাইয়ে ৬২৫ ও বিলাইছড়িতে ৬৩৬ জেলে পরিবার এ সহায়তা পাবে।

গত বছরে রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে এ খাদ্য শস্য সহায়তা পাননি তারা। এ বছর বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে এবছর তারা খাদ্যশস্য সহায়তা পাবে। তবে এখনো এ খাদ্যশস্য সহায়তা না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলো এবারও শঙ্কায় ভূগছে। 

রিজার্ভবাজার জেলে পাড়ায় জেলে বিক্রম দাশ বলেন, ‘গত বছরে আমাদের খাদ্যশস্য দেয়া হবে বলা হলেও পরে আর সরকার তা দেয়নি। এ বছরও একমাস চলে যাচ্ছে এখনো কোনও খবর পাচ্ছি না।’

আরেক জেলে নিতাই জল দাশ বলেন, ‘আমরা এখন বেকার-জীবনযাপন করছি। উঠা-বসায় দিন কাটছে না, তাই জালগুলো মেরামত করছি। ছেড়া ও কাটা জালগুলো দেখে সামনের দিনে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুত করছি।’

জেলে পাড়ায় রীনা দাশ বলেন, ‘এসময় আমাদের সংসার চলে দোটানায়। স্বামীরা বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে অন্যান্য কাজ খুঁজে নেয়। কেউ রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রির ও দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালায়। আমরা নিজেরা কিছু না খেলেও ছেলেমেয়েদের মুখে তো অন্ন তুলে দিতে হয়।’

শ্যামল দাশ বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে সরকারি ভাবে আমাদের ভিজিএফের কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনো এ সহায়তা পাইনি। গেলো বছরেও দিবে দিবে বলে আর দেয়নি সরকার। এমনি ভাবে আর আমাদের সংসার চলবেনা, অনেকেই বাধ্য হয়ে চুরি করে মাছ ধরবে।’

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদুজ্জামান জানান, ‘আমরা জেলেদের তালিকা সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা খাদ্যশস্য বরাদ্দ পেয়েছি। রাঙ্গামাটির আট উপজেলার সাড়ে ১৯ হাজার জেলেকে এ খাদ্যশস্য দেয়া হবে।’

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘আমরা জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পেয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় তা পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই ভিডিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বন্টন করা হবে। ’

ব্রেকিংনিউজ/এইচএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2