Ads-Top-1
Ads-Top-2

ওবায়েদ আকাশ-এর ৫টি কবিতা

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
২৪ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 09:45:00 আপডেট: 09:50:00

১.
আমি ও হোমার  


অবিশ্বাস্য হলেও তুমি বাঘের খাঁচার ভেতর
হাত ঢুকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলে-- এবং বিস্মিত হয়েছিলে যে
বাঘের ছানারাও মানবশিশুর চেয়ে 
এতটুকু কম আবেদনময়ী নয়

তারা তোমার হাত নোখ লোমে
কোমল নরম ত্বক ঘষে দিয়েছিল
কুট কুট করে কামড়ে দিয়ে খুনসুটি করে প্রমাণ করেছিল--
এ যদি শুধুই মানবকুলের দক্ষতা হতো
ততক্ষণে প্রতিটি হাত রক্তাক্ত হয়ে যেত

আমি দূর থেকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে
যারপরনাই বিস্মিত হয়ে, মাথা ঝাঁকা দিয়ে
কিছু একটা ঝাপসা দেখছি বলে-- চোখ দুটো মুছতে গিয়ে
মণি দুটো ঝুরঝুর করে মাটিতে পড়ে গেল

মুহূর্তে মনে পড়ে গেল-- অন্ধ কবি হোমার
ঠিক এ-রকম করে দেখতে দেখতেই একদিন তার রচনার জ্যোতি
পৃথিবীময় অন্ধকার মুছে আলোকিত করে গেছে

ভাবছি, আমার পরবর্তী রচনাবলি, যদি
তার তাবত রচনার পাশে বসিয়ে দেয়া যেত
তাহলে তা কি জ্বলেপুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে?
নাকি নতুন কোনো আলোয় ভরিয়ে তুলবে পৃথিবী?

একদিন আমি ও হোমার 
মুখোমুখি বসে নিমগ্ন মনে পরস্পরকে ইনিয়েবিনিয়ে দেখি

আর ভাবি মনে মনে-- বিগত কোনো জন্মে প্রিয় কবি হোমার
তুমিও কি বাঘের খাঁচায় হাত ঢুকিয়েছিলে?

২.
তুমিও কোনোদিন


যদি একটি ফুলের মতো আবেদন নিয়ে তোমার কাছে যাই
জানি দ্বিতীয় দিন 
তুমিও কোনো প্রশ্ন করবে না

আজকাল কার্জন হলের সীমানা প্রাচীরে অজস্র ফুলের মন, সুদর্শন দেহ
বেচাকেনা হয়
প্রতিপ্রত্যুষের প্রতিটি ফুলের লেজ ধরে তাড়া দিলে
ঘোড়ার মতো লম্ফঝম্ফ এক অর্বাচীন সুরেলা ব্যাপার

আর তার টগবগে ঘ্রাণ মৈথুনরত
রিকশার চাকায়, হতশ্রী মানুষের সারিবদ্ধ কৃত্রিম ছায়ায়

যখন অর্ঘ্যে লাগে, স্বর্গে লাগে
এবং সন্ধ্যে হলেই শুকিয়ে যাবার জ্ঞাতার্থে ব্যবহৃত হয়
পরম লাবণ্যের ভেতর বিষণ্ণ এক মুখ বুঝে ফেলে যে
সকল কোরক তাদের বিদ্রোহী হয়ে 
অনর্থই ঝরে ঝরে পড়ে যায়--

যেমন তুমিও, শুকনো মরা 
যত্রতত্র ঝরে-পড়া ফুলের-- খবর রাখোনি কোনোদিন
 
৩.
শেষ পর্যন্ত 


শেষ পর্যন্ত তা আর থাকেনি

পথের পর পথ, পথিকের জন্য গাছে গাছে ঝুলে থাকা
অসহ্য অসৌজন্য
গন্তব্যে ভেড়ানোর আগেই অন্যত্র মিলিয়ে গেছে

অথচ তারই জন্য যুগের পর যুগ ধরে অপেক্ষা
দীর্ঘ হেলানো কমলা রঙের সরু বাঁশ কেটে এনে
অন্তত দশ লক্ষ ফুট উঁচুতে তারই জন্য বিনির্মিত মঞ্চ
এখন শুধু মহাশূন্যে ঝুলে থাকাই সার

এখন মানুষের পিঠে মানুষ
আকাঙ্ক্ষার পিঠে আকাঙ্ক্ষা
আর মগডালে ঝুলে থাকা বাসনার পুষ্পের জন্য
অন্তত দশ দিনে একবার মাত্র নিঃশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা
যা এক চমৎকার মিউজিয়ামে রূপান্তরিত হয়েছে

আরো তো যুগের পর যুগ এই খেলা চলতেই থাকবে
যা তুমি একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছ--

হেঁটে হেঁটে পরিশ্রান্ত প্রেমিক প্রেমিকার দেহে
পরস্পর মাথা রেখে তারাও সিদ্ধান্তে এসেছে যে
গন্তব্য কখনো গন্তব্যে থাকে না

৪.
তোমার আমার মৃত্যুর কথা 


দীর্ঘ সাঁকোর মাঝখান থেকে কে কোথায়
পালিয়ে গিয়েছিল-- তা নিয়ে কাঁচা রাস্তায় বৃষ্টি পড়ে
বহুবার বহু পথিকের কোমর ভেঙেছে

সাঁকোর এইপারে তুমি আর ঐপারে আমি
সখা, হাত বাড়িয়েছি তুমি আমি আজ মরবো সাঁকোর মাঝামাঝি

রাত্রি হলে উর্ধাকাশে বাড়বে মানুষের ভিড়
আমাদের ভবিষ্য সংসার চালিয়ে নিতে--
জনমানুষের এমন তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমাদের অন্তত
আরো দিন কতক আগেই মরে যাওয়া উচিত ছিল

প্রতিদিনই তো হিসেবের খাতায় খরচের খাত বাড়ছে
তোমার আমার হত্যাদৃশ্য দেখার টিকিটের ক্রয়ক্ষমতা কমছে

বলো তো, কতদিন পর শেক্সপিয়ারের এভন নদীতে
একটিও হাঁস আর ভাসবে না জলে?
কিংবা প্রেমিক প্রেমিকা মৃত্যুর কথা ভুলে
সদ্য-ছাড়া বাসের টিকিট কেটে ফিরবে না অনন্ত যৌবনে?

প্রতিদিন ঘাসফুল থেকে তিসিফুল
মৌমাছি থেকে ভীমরুল-- ছেড়ে দেয়া ষাঁড় 
মাড়িয়ে চলে যাচ্ছে--

ভোরবেলার বাজারে আমিষের তাজা রক্তের ঘ্রাণ
অথচ নিরামিষাশী মানুষের বাজার বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে

সখা, এমন কিছু কি থেমে যেতে পারে
তোমার আমার মৃত্যুর কথা জানাজানি হলে?

৫.
একটি অসম প্রেমের কবিতা


সম্পাদক মহোদয় হেসে বললেন তিনি কাঠবিড়ালির লেজ দেখিয়ে
এক প্রাক-তরুণীর প্রেমে পড়েছেন--
অসম এই ব্যাপার কাঠবিড়ালির লেজের উষ্ণতায় 
দীর্ঘদিনই চাপা পড়ে ছিল

অনেকদিন বাদে-- আজকাল দেখি এসব নিয়ে বেশ কথা উঠছে
সম্পাদক মহোদয় ইয়োগা প্রাকটিস করতে করতে 
যখন রাস্তায় বের হন-- নিচের দিকে মুখ আর
উপরে পা তুলে হাতে ভর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রমনায় চলে যান

আমরা যারা তাকে চিনি-- দৃশ্য দেখে প্রায়শই মুখ ফিরিয়ে
অন্যত্র হেঁটে চলে যাই--
এবং যেখানে সেখানে কাঠবিড়ালি দেখলেই
ঘরে গিয়ে সস্ত্রীক হেসে কুটি কুটি হই

আর যারা তাকে এখনো চেনেনই না-- তার এই উর্ধমুখী হাঁটার দৃশ্য
এক ম্যাজিক্যাল ব্যাপার বলে 
রাস্তাঘাটে তাকে ঘিরে গোট পাকিয়ে বসে

যতই দর্শনীয় হোক না কেন
কাঠবিড়ালির লেজ আজকাল আর মোটেও দুর্লভ কিছু নয়
বরং শেষতক আমরা বন্ধুরা মিলে নাবালিকা মেয়েটির কথা ভাবি
উত্তরাধিকার সূত্রে চাঁদে পাওয়া তার জায়গাজমিনের কথা ভাবি

আর আমার ক্যারিয়ারিস্ট বন্ধুরা নাবালিকার নিশ্বাসের ঘ্রাণে
চাঁদে যাবার টিকিট ক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2