শিরোনাম:

‘ক্রসফায়ার’ আদালতের অস্তিত্বকে অস্বীকার

স্যোসাল মিডিয়া ডেস্ক
২৪ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 8:36 আপডেট: 8:38
‘ক্রসফায়ার’ আদালতের অস্তিত্বকে অস্বীকার

গত ৯ দিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৪৪ জন। সরকারি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিহতদের ৩৮ জনই মাদক ব্যবসায়ী।

রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক মাদক ব্যবসায়ী বা অস্ত্র ব্যবসায়ী যা-ই হোক, কারো বিচারের দায়িত্বই রাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয় নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব রাষ্ট্রের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। সেই দায়িত্ব ভুলে তারা যখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় এবং আইনি শৃঙ্খলার বারোটা বাজিয়ে মৃত্যুদণ্ডের গায়েবি রায় কার্যকর করে, তখন কার্যত তারা আদালতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে; যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের পৃথকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। এটি কি একভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা আদালতকে অবমাননা করা নয়? যদি সেটা হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়ে সুয়োমোটো রুল জারি হওয়া উচিত।

মাদকের বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি খুবই আশাপ্রদ। এটা বর্তমানে আমাদের দেশের একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা বটে, যদিও এর চেয়ে গুরুতর সমস্যা দেশে আছে। কিন্তু সেই শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি ঝাঁকে ঝাঁকে পাতি মাদক ব্যবসায়ীকে নিধন করে বাস্তবায়ন করা যাবে, সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে এটা যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করেন। এহেন অদক্ষতার জন্য তাঁদের চাকরি থাকাই উচিত নয় বলে মনে করি।

মন্ত্রী-আমলারা নাগরিকদের পয়সায় বিলাসী জীবনযাপন করবেন আর আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য যাকে তাকে লাইসেন্স বিতরণ করে যাবেন, এটা কোনো কাজের কথা হতে পারে না।

একটি স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে এটা আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি, বাংলাদেশ যে একটি গণপ্রজাতন্ত্র, এটা তাঁরা সবসময় মনে রাখবেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2