শিরোনাম:

ইকোট্যুরিজম সাড়া জাগাতে পারেনি বৃহত্তর চট্টগ্রামে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ মে ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 10:06
ইকোট্যুরিজম সাড়া জাগাতে পারেনি বৃহত্তর চট্টগ্রামে

প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে ইকোট্যুরিজম আর ধর্মীয় ট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও তা কাজে লাগাতে পারছে না বৃহত্তর চট্টগ্রাম। অথচ পাহাড় নদী সমুদ্র ও সবুজ অরণ্য- প্রকৃতির এই অনন্য চার নিদর্শনের আধার প্রাচ্যের রানীখ্যাত বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। পৃথিবীর খুব কম দেশেই এমন চারটি গুণের সমাহার রয়েছে।
 
পর্যটন খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,  তিন পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নিয়ে পর্যটন শিল্পের জন্য বিরাট সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবনযাত্রা ও জীবিকার বৈচিত্র্যময় দিক রয়েছে। যাকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে দারুণ ইকোট্যুরিজম। একইসাথে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আদি নিদর্শনগুলোকে কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় ট্যুরিজমও গড়ে তোলা সম্ভব।
 
কিন্তু এতসব সম্ভাবনা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যকর অবকাঠামোর অভাবে বিকশিত হচ্ছে না চট্টগ্রামের ইকোট্যুরিজম খাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি, পর্যটক আকর্ষণের বহুমাত্রিকতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধান এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকেও এই খাতে বছরে বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন সাবেক সভাপতি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ভ্রমণ করছে। যার পেছনে ধর্মীয় উদ্দেশ্য যেমন জড়িত তেমনি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ কিংবা প্রকৃতি উপভোগ করাও অন্যতম। অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা উপজাতিদের ব্যতিক্রমী জীবনধারা অনেকের কাছে আকর্ষণের আবহ তৈরি হতো। এসব নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ইকোট্যুরিজম শিল্প বিশেষ করে ধর্মীয় ট্যুরিজমের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে সৃজনশীল পরিকল্পনা ও যথাযথ উদ্যোগের অভাবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না।
 
চেম্বার সভাপতি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিদেশী ব্যবসায়ীদের কাছেও আমাদের দেশে বিনিয়োগের প্রাক্কালে ইকো-ট্যুরিজম বিষয়ে তাদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করি। তারাও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে বিমোহিত। চট্টগ্রাম অঞ্চলের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অন্যদিকে কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে রয়েছে দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও স্বতন্ত্র জাতিসত্তা। ইকো-ট্যুরিজমে এসব বিষয় আমাদের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করবে।
 
তিনি বলেন, ভারত শ্রীলংকা কিংবা নেপাল-মালদ্বীপ এসব দেশের অর্থনীতির প্রধান উৎস পর্যটন ব্যবসা। তারা কৃত্রিমভাবে পর্যটনকেন্দ্র বানিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। অথচ আমাদের এখানে পাহাড়, নদী, সমুদ্র সবই আছে। কিন্তু বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না।
অন্যদিকে রিলিজিয়াস ট্যুরিজম (ধর্মীয় পর্যটন) চট্টগ্রামে পর্যটন সম্ভাবনার আরেক দিক উল্লেখ করে চট্টগ্রামের আরেক ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুল হক শাহ বলেন, তিন পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের জন্য বিরাট সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। যেখানে ধর্মীয় পর্যটন শিল্পে দারুণ সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। এশিয়ার বৃহত্তম লেক রয়েছে রাঙামাটিতে। অথচ মানুষ জানেই না। এসবের জন্য কোন ব্র্যান্ডিং নেই।
 
তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় থাইল্যান্ড, চীন এবং জাপান থেকে প্রচুর ধর্মীয় পর্যটক আনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড পাহাড়, আদিনাথ মন্দির, চন্দ্রনাথ মন্দির, স্বর্ণমন্দির ও লামার বৌদ্ধ মন্দিরকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলংকার কাছে তুলে ধরা গেলেও প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসবে।
 
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক-তৃতীয়াংশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন শিল্প। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত পর্যটনের পাশাপাশি সুনির্দ্দিষ্ট পর্যটকের (টার্গেট ভিজিটর) প্রতি মনোনিবেশ বাড়াতে হবে। এতে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের প্রসার যেমন হবে তেমনি দেশের কর্মসংস্থানও বাড়বে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সেক্টর, যেমন পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম থেকে পৃথিবীর অনেক দেশ প্রতি বছর প্রচুর রাজস্ব আয় করে। যা অন্য যে কোনো বড় শিল্প থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশকে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে এ শিল্পকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা জরুরি। সুতরাং বিদেশী পর্যটক ছাড়াও অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারলেও পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও প্রচুর লাভবান হবে বাংলাদেশ।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2