শিরোনাম:

মরিচে মরক, মাথায় হাত কৃষকের

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী
১৪ মে ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 10:04 আপডেট: 10:04
মরিচে মরক, মাথায় হাত কৃষকের
ছবি: ব্রেকিংনিউজ

রাজশাহীতে শিলাবৃষ্টি ও টানা বর্ষণে বিভিন্ন উপজেলায় মরিচগাছে মরক লেগেছ। যেসব গাছ এখনো বেঁচে আছে সেগুলো বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। চারা গাছ মরে যাওয়ায় চাষিদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

গত মৌসুমে উৎপাদন ও দাম ভাল এবং কৃষকের আগ্রহ থাকায় এবারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত মৌসুমের অর্জনের চেয়ে বেশী জমিতে মরিচ চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৭ হেক্টর। এবারে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩১১ হেক্টর। 
 
পবা উপজেলার একাধিক মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর কাঁচা মরিচের দাম ভাল থাকায় চাষীরা এবার ব্যাপক জমিতে মরিচ রোপন করেছেন। এখনো মরিচ গাছ রোপন চলমান আছে। গতবার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মরিচের দাম ভাল ছিল। শুরুতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে একপর্যায়ে তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ওঠে। এরপর উঠে ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। দামের পাশাপাশি সেবার ফলনও ভালো পেয়েছে চাষিরা। 
কিন্তু এবারে মৌসুমের শুরতেই হোচট খাচ্ছে মরিচ চাষিরা। গতবারের লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন অনেক চাষি। কিন্তু গত কয়েক দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত শিলাবৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন ধুয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মরিচের খেত ঘুরে দেখা গেছে, শিলাবর্ষণে চারা মরিচ গাছের মাজা ভেঙ্গে দিয়েছে। আবার গোড়ায় পানি জমে যাওয়ায় বেশির ভাগ মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে।

মোহনপুর উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মরিচ চাষি মোবারক হোসেন। গতবার দেড় বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। ফলন ভালই হয়েছিল। দামও ভালই পেয়েছিলেন। এবারে তিনি আড়াই বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। কিন্তু আজানা কান্ডপচা রোগে তার ক্ষেতের অর্ধেক চারা গাছ মরে গেছে। এখনো মরে যাচ্ছে। চারা মরে যাওয়া স্থানে আবারো নতুনভাবে চারা রোপন করছেন তিনি।



মৌসুমের শুরুতে শিলাবর্ষণে কাঁচা মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ মৌসুমে নতুন মরিচ পেতে দেরি হবে বলে জানান চাষিরা। আবার গাছ মরে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হবে। পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের মরিচ চাষি আফাজ উদ্দিন সরকার ব্রেকিংনিউজকে জানান, তিনি তার ক্ষেতে প্রায় ১৫ হাজার মরিচ গাছ রোপন করেছিলেন। এ মাসের শুরুতে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেতে বর্তমানে অর্ধেক গাছ আছে। গুজা (গাছ মরা স্থানে নতুন চারা রোপন) দেয়ার জন্য নতুনভাবে আবারো বীজ ফেলা হয়েছে। গাছ মরে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা তিনশো’ টাকার মরিচ চারার দাম নিচ্ছেন ১ হাজার ৩শ’ টাকা। দামে না পুষানোর জন্য আবারো নতুনভাবে চারা তৈরির জন্য বীজ ফেলা হয়েছে। তবে এর মাঝেও অনেকের ক্ষেত ভাল আছে বলে জানান তিনি।
 
মরিচ চারা মরে যাওয়া বিষয়ে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা জানান, এ সময়ে সাধারণত ভারি বৃষ্টিপাত হয় না। কিন্তু এবার তার বিপরীত হয়েছে। শিলা-ঝড়-বৃষ্টি একই সাথে হয়েছে। ফলে শিলার আঘাতে মরিচের গাছ নষ্ট হয়েছে। তবে এখনো সময় থাকায় চাষিরা মরিচ চারা আবারো রোপন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, মরিচ গাছ অনেকটা লাজুক প্রকৃতির। তাই গাছের গোড়াই পানি জমলেও চারা মরে যাবে। আর কান্ড পচা রোগে কোম্পানিয়ন, কমোলাক্স, কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে পচা রোগ কমে যাবে।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দেব দুলাল ঢালী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু গাছ নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এটাকে বিপর্যয় বলা যাবে না।’ আবার এই মৌসুমে মরিচের চারা রোপনের এখনো সময় থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ মরিচক্ষেতের সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী তিনি। 

ব্রেকিংনিউজ/এসডিএম/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2