শিরোনাম:
Ads-Top-1
Ads-Top-2

সন্ধীপ: নৌপথে জানের নিরাপত্তা কে দেবে?

মিনহাজ তুহিন
২৫ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 12:41:00

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি দ্বীপ উপজেলা ‘সন্দ্বীপ’। এটি মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপ্রাচীন একটি দ্বীপ। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের দূরত্ব প্রায় দশ মাইল। নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড সন্দ্বীপ থেকে প্রায় ১২মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। সন্দ্বীপের প্রায় বিশ মাইল পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপের অবস্থান। সন্দ্বীপের সীমানা হচ্ছে উত্তরে বামনী নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী ও তার ও পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপ, পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল এবং চ্যানেলের পূর্ব পাড়ে চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।
 
সন্দ্বীপের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন মতামত শোনা যায়। কারও কারও মতে ১২ আওলিয়ারা চট্টগ্রাম যাত্রার সময় এই দ্বীপটি জনমানবহীন অবস্থায় আবিষ্কার করেন এবং নামকরণ করেন শুন্যদ্বীপ যা পরবর্তীতে ‘সন্দ্বীপে’ রূপ নেয়। ইতিহাসবেত্তা বেভারিজের মতে চন্দ্র দেবতা সোম এর নামানুসারে এই এলাকার নাম সোম দ্বীপ হয়েছিল যা পরবর্তীতে সন্দ্বীপে রূপ নেয়। কেউ কেউ দ্বীপের উর্বরতা ও প্রাচুর্যের কারণে দ্বীপটিকে স্বর্ণদ্বীপ আখ্যা প্রদান করে থাকেন। এ স্বর্ণদ্বীপ হতে সন্দ্বীপ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলেও ধারণা করা হয়।
 
দ্বীপের নামকরণের আরেকটি মত হচ্ছে, পাশ্চাত্য ইউরোপীয় জাতিগণ বাংলাদেশে আগমনের সময় দূর থেকে দেখে এই দ্বীপকে বালির স্তুপ বা তাদের ভাষায় স্যান্ড-হীপ (Sand-Heap) নামে অভিহিত করেন এবং তা থেকে বর্তমান নাম সন্দ্বীপ। যাইহোক, বিভিন্ন কারণে ইতিহাসে সন্দ্বীপের একটি গৌরবোজ্জ্বল স্থান রয়েছে। প্রাচীনকালে এটি বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত ছিলো জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য। সন্দ্বীপের বাসিন্দারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিটেন্সের বিশাল একটা অংশ আসে এই সন্দ্বীপেরই বাসিন্দাদের থেকে। সন্দ্বীপে এমন পরিবার খুব কমই আছে,  যাদের পরিবারের অন্তত একজন সদস্য প্রবাসে নেই।  কিন্তু এতদসত্বেও বরাবরের মতোই সন্দ্বীপবাসী সব সময় উপেক্ষিত। পাচ্ছে না নূন্যতম নাগরিক সুবিধাটুকুও, বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা। দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে তথা চট্টগ্রামের সাথে সন্দ্বীপের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো নৌপথ। এটি ছাড়া সন্দ্বীপের সাথে যোগাযোগ পুরাপুরিই অসম্ভব (যদিও হেলিকপ্টার রয়েছে, তা সবার পক্ষে সম্ভব নয়)।
 

সন্দ্বীপবাসীর একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধুমাত্র অনিরাপদই নয়; যেন একটি মরণ ফাঁদ। বর্তমানে সন্দ্বীপের তিন লাখ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিরাপদ কোন পরিবহন নেই। যা রয়েছে তা হলো, মালের বোট, সার্ভিস নামে পরিচিত কাঠের তৈরি বোট এবং কয়েকটি স্পিড বোট।  এসব কিছু অন্যান্য মৌসুমে কোনমতে চলাচল করলেও বর্ষার মৌসুমে সবসময় চলাচল করতে পারে না। মাঝেমধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সন্দ্বীপের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
 
গতবছর সন্দ্বীপ চ্যানেলে সি-ট্রাক থেকে লাল বোট নামক ছোট বোটে করে দেড়’শ গজ দূরে গুপ্তছড়া ঘাটে পৌঁছে দেয়ার সময় যাত্রীবাহী নৌকা উল্টে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ৩০জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এতে ১৮ জনের লাশ পাওয়া যায়। এত বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও উচ্চ পর্যায় থেকে উদ্ধার তৎপরতায় তেমন একটা সাহায্য করেনি। যা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং অমানবিকও বটে। সন্দ্বীপে নৌ-দুর্ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে আরো বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে।
 
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, ১৯৫৬ সালের ২ জুন বাদুরা জাহাজডুবি। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ২০০০ সালের ১ জুন বাউরিয়া-বাড়বকুণ্ড ফেরিঘাট ট্রলারডুবিতে সন্দ্বীপ থেকে নির্বাচিত বর্তমান সাংসদের দাদী-ফুফুসহ নাম না জানা দ্বীপের শতাধিক স্বজনের প্রাণহানি ঘটে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে শত শত মায়ের বুক খালি হলেও সরকার দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
 
লেখক: দপ্তর সম্পাদক, সন্দ্বীপ ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2