Ads-Top-1
Ads-Top-2

জিপি হাঁটছে উল্টো পথে: মিয়া মাসুদ

ইমদাদুল হক
২২ এপ্রিল ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 03:37:00

মুনাফা হচ্ছে। তারপরও চলছে কর্মী ছাঁটাই। এ নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে অসন্তোষ চলছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে গঠিত হয় গ্রামীণফোন এমপ্লয়ী ইউনিয়ন জিপিইইউ। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো: শফিকুর রহমান মাসুদের মুখোমুখি হয়েছিলাম কেন এই অসন্তোষ এবং কীভাবেই বা এই অসন্তোষ প্রশমনে কাজ করছেন তারা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ইমদাদুল হক
 
ব্রেকিংনিউজ: নরওয়েভিত্তিক টেলিনরের সিংহভাগ শেয়ারের এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মুনাফাকারী মোবাইল কোম্পানি হওয়ার পরও কর্মীদের অধিকার পূরণ করছে না বলে মনে হচ্ছে কেন?
শফিকুর রহমান মাসুদ: ১৯৯৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা করে গ্রামীণফোন। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সাড়ে ছয় কোটি গ্রাহককে সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে কর্মীদের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা দিয়ে নিয়োগ করে। কিন্তু অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সুযোগ সুবিধা বাড়ালেও জিপি হেঁটেছে উল্টো পথে। বিগত কয়েক বছর ধরে কোম্পানিটি শুধু জনশক্তি কমায়নি, বরং এর পাশাপাশি কর্মীদের সুযোগ সুবিধাও কমিয়েছে।
 
ব্রেকিংনিউজ: কেন মনে হচ্ছে গ্রামীণফোন কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘন করছে? কীভাবে কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন?
শফিকুর রহমান মাসুদ: ২০১৭ সালে জিপির ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেভিনিউ, নীট লাভ ও ২০৩ শতাংশ ডিভিডেন্ড কর্মীরা নিশ্চিত করলেও জিপি কর্মীরা তার ন্যয্য হিস্যার মজুরি বৃদ্ধি পায়নি।
 
ব্রেকিংনিউজ: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বর্তমানে তো বাড়ছেই..
শফিকুর রহমান মাসুদ: ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়লেও, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিপিতে একজন কর্মীকে চাকরির শুরুতে যে মজুরি দেয়া হত, বর্তমানে চাকরির শুরুতে তার চেয়ে অনেক কম বেতন দেয় জিপি। পাশাপাশি ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রচলিত অনেক সুবিধা কোম্পানি একতরফাভাবে বন্ধ করেছে। এমনকি, সময়ের সাথে সাথে বেতন বৃদ্ধির হারও কমিয়ে দিয়েছে।
 
২০০৯ সালের পর এমপ্লয়ীদের আসবাবপত্র কেনার সুবিধা বন্ধ করা হয়। অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হলেও অনেকেই অতিরিক্ত মজুরি পান না। একসময় ছুটির দিনে কাজ করতে হলে বা রাত ৮ টার পরে কাজ করতে হলেও খাবারের জন্য টাকা দেয়া হত; যেটি একতরফাভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
 
গ্রামীণফোন বিগত পাঁচ বছরে মোট রাজস্ব আয় করেছে ৫৪৭৩৩ (চুয়ান্ন হাজার সাতশত তেত্রিশ) কোটি টাকা এবং নীট মুনাফা করেছে ১০৪১৬ (দশ হাজার চারশত ষোল) কোটি টাকা। সর্বশেষ তিনবছরে মোট রাজস্ব আয় ৩৪৮০৫ কোটি টাকা আর নীট মুনাফা ৬৯৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে কর্মীদের পেছনে ব্যয় করেছে ২৩৪৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে সি ব্যান্ড এবং তদুর্দ্ধ  প্রায় ২৫০ কর্মীদের পেছনে ব্যয় হয় ২০ থেকে ২৫%।
 
তাছাড়া, তিন বছরে শ্রম আইনের অধীনে প্রদত্ত মুনাফা আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকা এবং স্বেচ্ছা অবসরজনিত খরচ ২০০ কোটি টাকা বাদ দিলে বিগত তিন বছরে ডি ব্যান্ড এবং তার নীচের র্কীদের পেছনে অর্থাৎ প্রায় ২১০০ কর্মীর পেছনে তিন বছরে ব্যয় হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা বা তার কিছু বেশি, যার মধ্যে রয়েছে বেতন, প্রশিক্ষণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি ও অন্যান্য খরচ।
 
ব্রেকিংনিউজ: গ্রামীণফোন আসলে তার কর্মীদের পেছনে কত ব্যয় করছে?
শফিকুর রহমান মাসুদ: আপনার অবাক হবেন, বিগত দুই বছরে ৬২৪ জন্য কর্মীকে স্বেচ্ছা অবসরের নামে চাকুরী থেকে অবসর দেয়া হয়, যার পেছনে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই অবসরজনিত কারণে বর্তমান কর্মীদের উপর কাজের বোঝা বেড়েছে; আবার এই ২০০ কোটি টাকা খরচের ফলে কর্মীদের একদিকে যেমন মুনাফা কমেছে, অপরদিকে এমপ্লয়ীদের বেতনবৃদ্ধির হার কমানো কমানো হয়।
 
বিগত ২০১৫ সালে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০% বাড়ানো হয়। তাছাড়া অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রভাব পড়ে বাজারে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিকালে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। শিক্ষা, যাতায়াত সবক্ষেত্রেই খরচ বৃদ্ধির কারণে, গ্রামীণফোনের কর্মীদের সরাসরি ভোটি নির্বাচিত গ্রামীণফোন পিপল কাউন্সিল (জিপিপিসি) এর নেতৃবৃন্দ গ্রামীণফোন সাম্প্রতিক বছরের আয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ও অন্যান্য খরচের কথা বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

গ্রামীণফোন এখন কর্মী সংকটে নেই, বরং অনেকেই এখনও গ্রামীণফোনের চাকরির জন্য মুখিয়ে আছে এবং কোম্পানির মুনাফা বা রাজস্ব যতই বাড়ুক না কেন, মার্কেটে অন্যান্য কোম্পানি যেই হারে বেতন সেই হারের বেশি বেতন বৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে, জিপিপিসির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।
 
গ্রামীণফোনের এই সর্বোচ্চ আয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান এর কর্মীদের। এমতাবস্থায়, জিপিপিসির দাবি প্রত্যাখ্যান করে জিপি ম্যানেজমেন্ট যে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে, জিপিই্ইউ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে এবং জিপিপিসি’র প্রস্তাবনা অনুসারে যৌক্তিক বেতনবৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছে।
 
ব্রেকিংনিউজ: কোন প্রেক্ষাপটে গ্রামীণফোন পিপল কাউন্সিল (জিপিপিসি) গঠন করা হলো? গঠনের পর কর্মীদের জন্য কী করেছে?
শফিকুর রহমান মাসুদ: গ্রামীণফোন ২০১৩ সালে জিপিপিসি গঠন করে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কাউন্সিলের সদস্যগন কর্মীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন এর বিকল্প হিসেবে এবং একে প্রতিহত করার জন্য জিপি এটি গঠন করে। পরামর্শ প্রদান করা ছাড়া অর কোন অধিকার নাই।
 
ব্রেকিংনিউজ: জিপিপিসির সেক্রেটারিতো এখন বরখাস্ত? 
শফিকুর রহমান মাসুদ: জি বেআইনিভাবে। জিপিপিসির বর্তমান সেক্রেটারি বিএম জাহিদুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাও এবার এমন একটি ইস্যু দেখিয়ে, যা রীতিমত হাস্যকর। কেননা এ পর্যন্ত যতবারই তিনি নির্বাচন হয়েছেন, প্রত্যেকবারই এমপ্লয়ীদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
 
ব্রেকিংনিউজ: কেন এবং কীভাবে তাকে বরখাস্ত করা হলো?
শফিকুর রহমান মাসুদ: ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে একটি যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হলে তাকে একটি শো-কজ নোটিশ দেয়া হয় এবং যথাসময়ে তিনি তার জবাবও দেন। এরপর আইন অনুসারে এনকোয়ারি কমিটি গঠন হয় এবং নির্ধারিত তারিখে তাকে উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু অভিযোগের কোন ভিত্তি না থাকায়, আর কোন কার্যক্রম গ্রহণ না করায় আইন নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে বিষয়টি শেষ হয়ে যায়।
 
জনাব জাহিদ গ্রামীনফোনের একটি জিপিসি’র হেড (গুলশান লাউঞ্জ)। জিপিসির সারা বাংলাদেশে মোট স্থায়ী কর্মী সংখ্যা আনুমানিক ৯০ জন, যার মধ্যে কিছুদিন আগে ৪০ জন কর্মীকে ভিত্তিহীন অভিযোগে শো-কজ করা হলে জনাব জাহিদের নেতৃত্বে জিপিপিসির মনোনীত একটি টিম প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিলে কর্তৃপক্ষ তাদের আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। এতে কমপ্লায়েন্স শাখার প্রধানসহ আরো অনেকেই তার উপর ক্ষিপ্ত হন।
 
ব্রেকিংনিউজ: তার মানে কর্মীদের পক্ষে কাজ করায় তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে?
শফিকুর রহমান মাসুদ: ঠিক ধরেছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে শো-কজ দেয়া হয়, কিন্তু কোন ভিত্তি না থাকায় কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাছাড়াও কাউন্সিলের পক্ষ থেকে উক্ত কমপ্লায়েন্স শাখার প্রধানের বিরুদ্ধে তার অযোগ্যতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে কাউন্সিলের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান দুটি অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেন। জনাব জাহিদ বিভিন্ন স্থানে উক্ত কমপ্লায়েন্স শাখার প্রধানের বিরুদ্ধে তার অযোগ্যতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। যে কারণে তিনি জনাব জাহিদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: এক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন কী কোনো ভূমিকা রেখেছে?
শফিকুর রহমান মাসুদ: সম্প্রতি জিপিপিসির চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে একটি টিম কর্মীদের এই বছরের সম্ভাব্য বেতনবৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন। কিন্তু, সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সহযোগিতা না থাকায় এবং একটি খসড়া শেয়ার করার পর, জিপিপিসি একটি যৌক্তিক বেতনবৃদ্ধির পক্ষে তার কঠোর অবস্থানের কথা সকল কর্মীকে ডেকে জানিয়ে দেয়। মূলত জনাব জাহিদ পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন। ফলে, ম্যানেজমেন্ট তার উপর ক্ষিপ্ত হয়।
 

এক পর্যায়ে জিপিপিসির কঠোর অবস্থানে ম্যানেজমেন্ট জানান, কোম্পানি কিছু জনশক্তি কমাতে চায় এবং তাতে সহযোগিতা করতে হবে। এক্ষেত্রে, স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, বেআইনিভাবে কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। সাম্প্রতিক এই ঘটনায়, ম্যানেজমেন্ট ক্ষিপ্ত হলে তার সুযোগ নেন কমপ্লায়েন্স হেড।
 
জনাব জাহিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে না পারায়, সম্প্রতি ২০১৬ সালের যৌন হয়রানির অভিযোগটি আবার চালু করেন। এবার তিনি শ্রম আইন বাদ দিয়ে ২০০৯ সালের মহামান্য হাইকোর্টের একটি গাইডলাইনকে ব্যবহার করেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: তারপর কী হয়?
শফিকুর রহমান মাসুদ: জনাব জাহিদকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে একটি গ্রামীণফোন যৌন হয়রানি কমিটি  গঠন করেন এবং জাহিদকে কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়। আইনত একটি অভিযোগের বিচার হয়ে গেলে, সেই একই অভিযোগে একই ব্যক্তির আবার বিচার করা যায় না। তাছাড়া, ২০১৬ সালে জনাব জাহিদের বিরুদ্ধে ইস্যুকৃত নোটিশে আনীত অভিযোগ কোড অব কন্ডাক্ট এবং দেশীয় আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয় এবং কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বলে জানতে চাওয়া হয়। মহামান্য হাইকোর্টের গাইডলাইনে যে সকল কাজ যৌন হয়রানিমূলক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো কোন কোম্পানির অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা বিধানে অপরাধ না হলে, কমিটি গঠনের প্রয়োজন হয়।
 
সুতরাং, যেহেতু একটি মীমাংসিত বিষয়ে দ্বিতীয়বার বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাই জনাব জাহিদ তার ব্যাখ্যা চাইলেও কমপ্লায়েন্স হেডের প্ররোচনায় উক্ত কমিটি বারবার নোটিশ দিতে থাকে। ফলে, বাধ্য হয়ে জনাব জাহিদ মাননীয় শ্রম আদালতে একটি মামলা করেন। উক্ত মামলায় কমিটির কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও, পরবর্তীতে জনাব জাহিদ আদালতে উপস্থিত নেই এই অজুহাতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।
 
অথচ জনাব জাহিদ মাননীয় আদালতে হাজিরা দেন। তার নিযুক্ত আইনজীবী বেলা দেড়টা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা বর্ধিত না করায় জনাব জাহিদ পুনরায় আদালতে শরণাপন্ন হন। একই দিন কমিটির সামনে তার হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল।  গ্রামীণফোন ও জনাব জাহিদের পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কি আদেশ দিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। অর্থাৎ গ্রামীণফোনও জানে না আদেশে কী আছে। এমতাবস্থায়, তাকে বরখাস্ত করা একদিকে যেমন বেআইনি, অপরদিকে অনৈতিকও বটে। তাছাড়া, আদালতের আদেশ আসার আগেই এরকম হীন সিদ্ধান্ত নেয়া আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
 
কর্তৃপক্ষের  ক্ষমতার দাপটের কারণে জনাব জাহিদ কোম্পানিকে জানান, তিনি উচ্চ আদালতে ব্যবস্থা নিবেন এবং সেই মর্মে তার আইনজীবীর সার্টিফিকেটও পাঠান। কিন্তু কোম্পানি সেটিও অগ্রাহ্য করেন, যা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানোর শামিল।
 
মূলত কর্তৃপক্ষ উক্ত কমিটিকে ব্যবহার করে, জনাব জাহিদের বক্তব্য না শুনে বা তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে, এমনকি কোন সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র ক্রোধের বশবর্তী হয়ে জাহিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: তাহলে কী জিপিপিসি এখন মালিক পক্ষের হয়ে কাজ করবে?
শফিকুর রহমান মাসুদ: না। কারণ এখানে নির্বাচিত অধিকাংশই জিপিইইউ মনোনীত।
 
ব্রেকিংনিউজ: জিপি হাউসে চাকরিচ্যুতির ঘটনার পর জিপিইউ গঠন হয়। কীভাবে শুরু হয়?
শফিকুর রহমান মাসুদ: ২০১২ সালে চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিপিইইউ গঠিত হয় ১৪ জুন। ২৩ জুলাই রেজিস্ট্রেশন আবেদন করার পরেরদিন গভীর রাতে ১৬২ জন কর্মীকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। আইনের বিধান মেনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করলেও বেআইনিভাবে আবেদনটি সরকার প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে আদালতে আপীল করা হয়। আদালতের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সর্বশেষ মাননীয় শ্রম আপীল আদালত জিপিইইউকে রেজিস্ট্রেশনের প্রত্যয়ন এর আদেশ দিলে, প্রথমবারের মতো শ্রম মন্ত্রণালয় কোন একটি ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আদালতের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে রীট পিটিশন দায়ের করেন। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে আমাদের ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন আজও অপেক্ষমান।
 
ব্রেকিংনিউজ: ইউনিয়নের আপনাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্নে বাধা কোথায়?
শফিকুর রহমান মাসুদ: মন্ত্রণালয় ও জিপির অসহযোগিতা বা বাধা প্রদানের কারণে আমরা আমাদের এই সাংবিধানিক অধিকারটুকুর স্বীকৃতিও পাচ্ছি না।
 
ব্রেকিংনিউজ: দাবি পূরণে আপনারা সামনে কী পদক্ষেপ নেবেন?
শফিকুর রহমান মাসুদ: ন্যায্যহিস্যা ও অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত জিপির সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের ঘোষিত যেকোন কঠোর কর্মসূচিতে জিপিইইউ পাশে থাকবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/ইহক/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2