শিরোনাম:
Ads-Top-1
Ads-Top-2

​মাদকের ভয়াবহতা রুখতে হবে

আবু সাঈদ সজল
২২ এপ্রিল ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 02:45:00 আপডেট: 02:51:00

মাদক। শব্দটি শুনলেই যে কারো আঁতকে উঠার কথা। এ নেশা থেকে নিস্তার পাওয়া মৃত্যু ছাড়া বিকল্প পথ খুব সংখ্যক লোকই খুঁজে পেয়েছে। এর ছোবল থেকে রেহাই পেতে গড়ে উঠেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্র। কিন্তু ক জনই বা নিরাময়ে সুস্থ হয়, বেশির ভাগ মাদকাসক্তের শেষ পরিণতি মৃত্যু। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসৎ লোকের ফলে দেশে চোরাচালান করা সম্ভবপর হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশে সত্যিই এটা দুঃখজনক। বাংলাদেশের মানুষ মাদকদ্রব্যের সঙ্গে কম বেশি পরিচিত থাকলেও এদেশে মাদকাসক্তির ব্যাপক প্রসার লক্ষ্য করা যায় স্বাধীনতা উত্তর সময়ে। অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান তিনটি আফিম ও আফিমজাত পণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চলের কাছাকাছি একটি দেশ। এর ফরে ভয়াবহভাবে যুবসমাজের মাঝে এ নেশা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ও জাতির জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে এবং অচিরেই অধঃপাতে যাবে। তাই মাদকের এ ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় সমাজের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ ব্যাধিকে রুখতে হবে।
 
এখন জেনে নেয়া যাক এদেশে কোত্থেকে এলো এ মাদক।  জানাযায়, ১৯১৭ সালে সমবায় ভিত্তিতে নওগাঁ জেলায় সর্বপ্রথম গাঁজার চাষ শুরু হয়। স্বাধীনতাপূর্ব কাল হতে বাংলাদেশে ছিল সীমিতসংখ্যক লাইসেন্সধারী  আফিমসেবী। কিন্তু স্বাধীনতার পর গাঁজা ও মদের প্রচলন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৩-৮৪ সালের আগে এ দেশের কেউ হেরোইন চিনত না। অথচ ব্যাপকভাবে হেরোইন চোরাচালান বৃদ্ধি ও বাংলাদেশে তার বাজারজাতকরণের ফলে ৮৫-৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত হেরোইনসেবীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং ১৯৮৭-৯১ সাল পর্যন্ত বিশেষত তরুণ ছাত্র সমাজের মধ্যে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়। নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও ধরা হয়, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে ইয়াবার আবির্ভাব ঘটে। তবে ২০০৫ সাল থেকে জেলা ও থানা পর্যায়ের তরুণ-তরুণীর হাতে ইয়াবা ট্যাবলেট চলে যায়। এর আগে ২০০০ সাল থেকে সীমান্ত পথে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে চোরাচালান হয়ে তা দেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে।
 
প্রধানত মাদকদ্রব্য উৎপাদনকারী অঞ্চল থাইল্যান্ড, লাওস, বার্মা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক, ভারত ও নেপাল সীমান্তের বাংলাদেশ নিকট প্রতিবেশী। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ও ব্যাপক ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরে মুক্ত ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ সংস্থার কার্যাবলী ও তাদের সন্দেহের বাইরে রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা সুযোগকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ হেরোইনের ব্যাপক চালান আসত বার্মা ও থাইল্যান্ড থেকে। তথ্যমতে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ, ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা কাজে তাদের ব্যবহার করতে থাকে। মাদকের এই নেশার জালে একবার জাড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে মাদকসেবীরা দিনে দিনে আরোও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
 
সারাদেশে মাদকের রমরমা ব্যবসা সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলায় মাদকদ্রব্য বিক্রির কম করে হলেও ৫০টি স্পট রয়েছে। বরগুনা শহরের কমপক্ষে ৩০টি। এখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার হেরোইন, ফেনসিডিল মদ, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ইনজেকশন সবই বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। শেরপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় চলে মাদকের ব্যবসা। বগুড়ার শিবগঞ্জে ও পাবনার ঈশ্বরদীতেও ফেনসিডিল ভয়াবহ আঘাত হেনেছে। সীমান্তবর্তী জেলা নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চোরাইপথে ফেনসিডিল নিয়ে আসার পর তা ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়। এখানে থেকে ট্রেন, বাস, মাইক্রো ও প্রাইভেট গাড়িতে করে এগুলো যায় ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর প্রভৃতি এলাকায়। এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরের প্রায় ২৫০টি ফেনসিডিল বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। যশারের চৌগাছা ও বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন চোরাপথ দিয়ে ফেনসিডিল পাচার হয়ে আসে। পরবর্তীতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয় এ নেশা দ্রব্য।
 
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৩ (তিন) টি কর্মকৌশল বা পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে ১) চাহিদা হ্রাস( উবসধহফ জবফঁপঃরড়হ) ২)সরবরাহ হ্রাস(ঝঁঢ়ঢ়ষু জবফঁপঃরড়হ) ৩) ক্ষতি হ্রাস (ঐধৎস জবফঁপঃরড়হ
এথেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে দেখা গেছে। ১) অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট শাক্তিশালী করার জন্য বিভাগীয় শহর এবং সিটি কর্পোরেশনসমূহে র‌্যাব এর ন্যায় স্ট্রাইকিং ফোর্স সৃষ্টি করা । ২) জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন এনজিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি লিডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা । ৩) ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াকে মাদক বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে সম্পৃক্ত করা। ৪) মাদকাসক্তদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে মাদকাসক্তির চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করা। ৫) সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারে জড়িত অতি দরিদ্রদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সেফটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। ৬) অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশম ও ঝুঁকিভাতা প্রবর্তন করা। ৭) কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার আধুনিকীকরণ করা । ৮) মাদক মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য পৃথক আদালত গঠন। ৯) মাদকের পাচাররোধে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।
 
সর্বোপরি, মাদকাসক্তি একটি সামাজিক সমস্যা, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি, সেই সাথে য্ক্তু হয়েছে জঙ্গি তৎপরতা এতএব এসব কিছুকেই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই নির্মূল করতে হবে। আসুন মাদকের ভয়াবহত রুখতে এর বিরুদ্ধে আমরা সবাই এক হই, অন্তত:এই একটি ক্ষেত্রে আমরা সবাই দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই হাতে হাত ধরে কাজ করি।
 
লেখক :  শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্রেকিংনিউজ/ এমজি

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2