Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘শৃঙ্খলিত ভাষা পরিবর্তিত হতে পারেনা বলেই মরে যায়’

স্যোসাল মিডিয়া ডেস্ক
১৮ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 10:29:00

আমরা যারা শিক্ষিত ‘ভদ্রলোক’ তারা আমাদের নিত্যদিনের ভাষায় ‘সংস্কৃত’ আর ‘বিকৃত’ বলে দুটি শব্দ ব্যবহার করে চলেছি। মূলে এদুটোই একই ভাব প্রকাশ করে। যা সংস্কার করা হয়েছে তাই ‘সংস্কৃত’, আর যা বিশেষ রূপে কৃত বা করা হয়েছে তাই বিকৃত। দুটোতেই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। আমরা সংস্কৃত বলে যে ভাষার নাম দিয়েছি তা সংস্কারকৃত ভাষা। প্রচলিত ভাষা যা ‘প্রাকৃত’ অর্থাৎ প্রকৃতিজাত, সাধারণ মানুষ নিত্যদিন যা ব্যবহার করে চলেছে, তাকেই সংস্কার করে সংস্কৃত ভাষার সৃষ্টি। সে ভাষা শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ভাষা। সাধারণের ভাষা নয়। সে ভাষাতেই কাব্য, শিল্প, দর্শন, বিজ্ঞান, নীতি-নিয়ম- প্রথা-পদ্ধতি সংস্থাপিত। 

কিন্তু বলা হয়েছে সংস্কৃত ভাষা মৃত ভাষা। অন্য দিকে ‘ বিকৃত ভাষা’ , যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে, তাকেই মানুষ নিত্যদিনের ক্রিয়া-কর্মে ব্যবহার করে চলেছে। আমরা প্রতিনিয়ত সে ভাষাকে পরিবর্তিত করে চলেছি বলেই সে ভাষা বিকৃত। সে ভাষাতেই আমাদের প্রয়োজন মেটে। আমরা তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখিনা, উপেক্ষা করি, অথচ কাজে লাগাই। যেমন আমাদের কর্মজীবনে শ্রমজীবী মানুষের সংযোগ না হলে চলেনা, তেমনি বিকৃত ভাষা না-হলেও আমাদের চলেনা। সংস্কৃত বা সংস্কারকৃত বা শিক্ষিত-মার্জিত লোকের বাংলা ভাষাও আমাদের উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক রূপে বিবেচিত হয়ে চলেছে। সংস্কৃত ভাষা লিখিত রূপ-লাভ করেই মরে যায়। তার মাঝে যা পরিবর্তিত হয়, সেটাও পুনরায় সংস্কারকৃত বা বিকৃত। সে-ভাষার নিয়ম-নীতি এমন ভাবে প্রবর্তন করা হয় যাতে করে সে পরিবর্তিত হতে না পারে। পরিবর্তিত হলেও তা নিয়ম মেনে পরিবর্তিত। সে নিয়মেরই প্রচলিত নাম ‘ব্যাকরণ’। 

ব্যাকরণের নিয়মকে মানতে হয়। নিয়মের বাইরে গেলেই তা অশুদ্ধ। ব্যাকরণের সংজ্ঞাতেই বলা হয়: ‘ যে পুস্তক পাঠ করিলে ভাষা শুদ্ধ রূপে লিখিতে পড়িতে বলিতে পারা যায় তাহাই ব্যাকরণ।’ অথচ ব্যাকরণতো হওয়া উচিত: ভাষার বিজ্ঞান-সম্মত বিশ্লেষণ। ব্যাকরণের নিয়ম-নীতি মেনে কিছুদিন হয়ত চলে, বেশি দিন চলেনা। 

ব্যাকরণতো ভাষার পায়ে শৃঙ্খল পরায়। শৃঙ্খলিত ভাষা পরিবর্তিত হতে পারেনা বলেই মরে যায়। আমরা জীবের জীবনের ক্ষেত্রেও তাই দেখি। জীবের জীবনের বৃদ্ধি যখন থেমে যায় তখনিই তার মৃত্যু ঘটে। তাই ভাষাকে বিশ্বের সকল কিছুর মতই চলতে দিতে হবে। যে চলে বা পরিবর্তিত হতে থাকে সেই বেঁচে যায়, বেঁচে থাকে। মানুষের স্বভাবই হল প্রচলিত অবস্থাকে ধরে রাখা বা ধরে রাখতে চাওয়া। কিন্তু তা পারা যায় না বলেই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড গতিশীল বা পরিবর্তনশীল। অতীতকে কখনোই ফিরিয়ে আনা যাবে না। যারা চেষ্টা করে অতীতকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদেরকেই বলা হয় প্রতিক্রিয়াশীল। বর্তমানকে ভিত্তি করে যারা নতুনকে প্রতিষ্ঠাদানে সক্ষম হয় তারাই প্রগতিশীল। [লেখকের ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া]

লেখক: শিক্ষক, চিন্তক, সাহিত্যিক

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2