Ads-Top-1
Ads-Top-2

দেহের সুস্থতায় চাই মন ভালো রাখা

আবু সাঈদ সজল
৭ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 09:07:00 আপডেট: 09:11:00

আমাদের মন ভালো থাকলেই শরীর ভালো থাকে। দেহের সুস্থতার থেকে মনের সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি। কারণ আমাদের মনই যে কোনো ব্যাপারে প্রথমে সাড়া দেয়। আর তাই শুধু শারীরিক সুস্থতা ও কায়িক পরিশ্রম দিয়েই একজন মানুষ সবসময় ভালো থাকতে পারে না, যদি তার আত্মিক বা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না হয়। শান্ত থাকা মন ভালো রাখার সবচাইতে উৎকৃষ্ট মাধ্যম। আমরা বেশিভাগ সময়ই নিজেদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। ভবিষ্যতে আমার কী হবে? আমার কী করা উচিত বা অনুচিত? কিন্তু এভাবে দুশ্চিন্তা না করে স্থির থাকুন। এক জায়গায় স্থির হয়ে বসুন। নিজেকে আট বছরের বালক বা বালিকা ভাবুন। নিজেকে নিরপেক্ষ ভেবে নিজের দোষগুণ নিয়ে প্রশ্ন করুন এবং নিজেই উত্তর দিন। নিজেকে বুঝান। নিজের মনকে শান্ত আর স্থির হতে বলুন। একটু পরেই দেখবেন আপনার মন শান্ত  হয়ে গেছে। যখনই অশান্ত হয়ে পড়া সম্ভাবনতা দেখা দিবে তখনই এ বিষয়গুলো কাজে দেবে। 

স্থির হতে ব্যায়াম করা শরীর সুস্থ রাখার আরেকটি উপায়। একটি চেয়ারে বসুন ও পা দুটিকে মেঝেতে রাখুন। চোখ বন্ধ করুন ও মনে মনে চিন্তা করুন যেন আপনার মেরুদন্ড শেষ প্রান্তে, যোগের ভাষায় যাকে কুণ্ডলী বলে, সেখানে একটি বৈদ্যুতিক তার লাগানো রয়েছে। এই বৈদ্যুতিক তার আপনার মাথার ওপরের শান্ত সাগরের মতো পৃথিবীর ঠিক মাঝখান থেকে ঝরনাধারার মতো নেমে এসেছে। এটি আপনার দেহে ঢুকে আপনার দেহের সকল খারাপ কিছু চুষে নিচ্ছে। আপনি নিজেকে খুব হালকা বোধ করছেন। প্রথম প্রথম এটি করতে শান্ত জায়গার প্রয়োজন হবে। পরে আপনি এটি আয়ত্ব করতে পারলে যে কোনো স্থানে বা জায়গায় যেমন- অফিসে, রাস্তায়, লোকালয়ে করতে পারবেন। মন শান্ত রাখার জন্য এটি একটি মহাষৌধ। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। 

তাছাড়া কাউকে ক্ষমা না করতে পারলে বার বার সেই ব্যক্তিটির কথা মনে পরতে থাকবে। আপনার মনের মধ্যে তার ছবি কল্পনা করে ও আপনার উচ্চ সত্তা থেকে ভালোবাসার শক্তি নামিয়ে এনে বার বার বলুন, তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। এক পর্যায়ে আপনি মনে মনে চিন্তা করতে থাকুন যে এই সমস্যাটা ঠিক হয়ে গেছে এবং আপনি লোকটিকে ক্ষমা করতে পেরেছেন। এবং তাকে সহজে ভুলে যাবেন। মাঝে মাঝে নিজের পছন্দের খাবারগুলো খাওয়া মন উৎফুল্ল রাখার একটি যুগান্তকারী উপায়। একা অথবা কাউকে সাথে নিয়ে খেতে চলে যান। মন ভালো রাখতে ভালো স্বাদের খাবার অনেকটাই কার্যকরী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মনটা অনেকাংশে ফুড়ফুরে হয়ে যায়। মন মেজাজ ভালো থাকে। 

আমাদের সম্পূর্ণ দেহের ওপর একটি বলয় আছে যেটিকে ‘সূক্ষ্ম দেহ’ বলে। এই সূক্ষ্ম দেহ অলৌকিক আভা দিয়ে তৈরি, যেটি আমাদের দৈহিক ও আত্মিক সুস্থতা প্রকাশ করে থাকে। আমাদের দেহকে এই অলৌকিক আভা প্রকাশের জন্য পরিষ্কার থাকতে হবে। দেহ পরিষ্কার না থাকলে রোগ দেহে বাসা বাঁধবে ও জীবনটাকে বোঝা ও বিরক্তিকর মনে হবে। রঙ-তুলির আচড় মন ভালোতে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে থাকে। ছোট শিশু মানেই নিষ্পাপ ও পবিত্র কিছু। ছোট শিশুদের মতো রঙপেন্সিল নিয়ে আঁকতে আরম্ভ করুন। 

আপনার যা মন চায় তাই আঁকুন। দেখবেন আপনার মন ভালো হয়ে যাচ্ছে। গাছ লাগানো খুব ভালো একটা অভ্যাস। বাগান করা মনের খোরাক জোগায়। গাছ লাগানো ও গাছের পরিচর্যা আপনাকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাবে, প্রকৃতিপ্রেমিক করে তুলবে, প্রকৃতির মতো উদার হতে সাহায্য করবে। বাড়িতে করা বাগান থেকে আপনি সতেজ বাতাস পাবেন। তাছাড়া, আপনি রান্নার জন্য তাজা সবজি পাবেন। মন খুলে হাসতে হবে। কারণ তা আপনার মনকে যেকোনো খারাপ পরিস্থিতি থেকে ভালো করতে সক্ষম। 

মনোবিজ্ঞানীরা সকলকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট প্রাণ খুলে হাসার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই হাসির কোন সুযোগ পেলে নিজেকে আটকিয়ে রাখবেন না, বরং মন খুলে হাসুন। আপনি আনন্দে থাকতে পারে ঘুরাঘুরি করেও। কারণ সব সময় ব্যস্ত থাকতেও একঘেয়েমি লাগে। প্রিয়জন অথবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যান কোনো পছন্দের জায়গায় তাহলে দেখবেন  আপনার মনে অনেকটাই আলসেমী ও জড়তা কেটে গেছে। 

সর্বোপরি হতাশা আর দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখবেন,আপনি যেমনই হন না কেন আপনার মত পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কেউ কোথাও নেই। পৃথিবীকে দেবার মতন আপনার কাছে এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাই নিজেকে অহেতুক অন্যের চেয়ে ছোট না ভেবে নিজের মত করে বাঁচুন। সুস্থ এবং আনন্দে থাকুন।

লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2