Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘প্রকৌশলীরা দেশের উন্নয়নে সব সময় প্রস্তুত’

এ কে এম ইমরান হোসাইন
৪ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 11:30:00

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র থাকাকালীন প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ভাল সংগঠক হওয়ায় দায়িত্ব পান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির। এই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেন। ছাত্রজীবন শেষ করে জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর ঢাকা কেন্দ্রের পর পর চার বার ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি ভাল সংগঠক হওয়ায় বাংলাদেশ পানি ও বিদ্যুৎ প্রকৌশলী সমিতির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আইইবির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও খুব দক্ষতা এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা এবং মেধামননে প্রকৌশল সমাজ মুগ্ধ হয়ে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেন।
 
সম্প্রতি ব্রেকিংনিউজকমবিডিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকৌশলীদের নিয়ে তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা, বাংলাদেশে প্রকৌশলীদের মানউন্নয়ন, প্রকৌশল খাতে ব্রেন-ড্রেন কেন হয়? এর থেকে পরিত্রাণের উপায়সহ প্রকৌশলীদের নানান বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজকমবিডি’র নিজস্ব প্রতিবেদক এ কে এম ইমরান হোসাইন
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনার মেয়াদ কালকে প্রকৌশলীরা কেন মনে রাখবেন?
প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ: আমার ভবিষ্যত অগ্রাধিকারমূলক কাজ হবে প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সব প্রকৌশলীকে আইইবির ছত্রছায়ায় আনা। কেন্দ্র, উপকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা। আইইবিকে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তিমূলে প্রতিষ্ঠান করা, পর্যাপ্ত প্রকাশনা, জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্যতম নির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। আমি মনে করি সফলভাবে এসব কাজগুলো সম্পূর্ণ হলে আমার মেয়াদ কালকে প্রকৌশলীরা অবশ্যই মনে রাখবেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: প্রকৌশলীদের পেশাগত মানোন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি?
 
প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ: প্রকৌশলীদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং দক্ষতা অর্জন ও বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, সেমিনার কনফারেন্স ও সর্বোপরি লার্নেড সোসাইটি কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সমকক্ষ অন্যান্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জাতীয় উন্নয়নে যৌথ অবদান রাখার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে উৎসাহ প্রদান, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিময় এবং আত্তীকরণে সরকারকে সময়ে সময়ে এবং নিয়মিতভাবে কার্যকর পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদানের কার্যক্রম জোরদার করা হবে, প্রকৌশলী পেশাগত মান উন্নয়নের জন্যই।
 

ব্রেকিংনিউজ: প্রকৌশলীদের জন্য ফাউন্ডেশন কোর্স কেন জরুরি বলে মনে করেন? এই খাতে আইইবির ভূমিকা কেমন?
প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ: বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে হাঁটছে। উন্নত জগত গঠন করার মিশন নিয়েই আইইবির জন্ম। উন্নত জগত গঠন করতে হলে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন দক্ষ প্রকৌশলী। আর দক্ষ প্রকৌশলী হতে হলে প্রয়োজন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয়ে দৃঢ় ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন। উন্নত প্রযুক্তি আত্তীকরণের সহায়ক তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক কারিকুলাম প্রণয়ন ও প্রকৌশল শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের সুপারিশের মাধ্যমে এই খাতে আইইবির ভূমিকা রয়েছে। আর বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীরা যেকোনো কাজ করতে সব সময় প্রস্তুত।
 
ব্রেকিংনিউজ: প্রকৌশল খাতে মাঝে মাঝে ব্রেন-ড্রেন বা মেধাপাচার কথা শোনা যায়। এটি রোধের পন্থা কি অথবা আপনার পরিকল্পনা কি?
প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ: বিগত সরকারগুলো প্রকৌশলীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কর্মক্ষেত্র গবেষণাগার সৃষ্টি করতে না পারার কারণে দেশের মেধাবী সন্তানের বিদেশমুখী হতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রকৌশলীবান্ধব সরকার ‘১৯৯৬-২০০১’ মেয়াদে এবং ২০০৯ সাল হতে আজ অবধি প্রকৌশলীদের ন্যায্য দাবিসমূহ পূরণ করে চলেছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলোতে স্বয়ংসম্পূর্ণ অত্যাধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করছে। পর্যাপ্তসংখ্যক প্রকৌশল সংস্থা প্রধানদের  পদকে গ্রেড-১ এ উন্নীত করেছে। আর অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিধায় বর্তমানে মেধাপাচার অনেক কমে গেছে, ভবিষ্যতে আর থাকবে না।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনি একজন সংগঠক হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিতে চান?
 
প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ: সমাজের অগ্রসর শ্রেণী হিসেবে দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অপরিসীম। পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন উৎকর্ষতা সাধন এবং আমাদের মনন ও মেধার সর্বোত্তম প্রয়োগের মাধ্যমে সেই দায়িত্বপালনে সফল হওয়া সম্ভব। অন্যথায় নিরঙ্কুশ পেশাগত আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতাই আমাদের মর্যাদা অর্জন এবং সার্বিক সাফল্য লাভের একমাত্র সোপান। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের জোরালো ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রকৌশলী সমাজ সব সময় দেশের সকল উন্নয়নমূলক কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। এছাড়া দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীরা সব ধরনের কাজ করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই যে কাজের জন্য ডাকবেন তখনই সেই কাজে আমাদের পাবেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা প্রকৌশলীরা এই দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
 
প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ: আপনাকে এবং ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/আইএইচ/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2