Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘আগামীদিনে দেশীয় প্রকৌশলীরা বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে’

এ কে এম ইমরান হোসাইন
৩ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 04:30:00 আপডেট: 04:36:00

প্রকৌশল সমাজের প্রিয় মানুষ প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। তিনি সব সময় দেশীয় প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে কাজ করেন। সেই সাথে প্রকৌশলীদের সকল ধরনের সমস্যা সমাধানে সবার আগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাই প্রকৌশলীরাও দেন তাঁকে তাঁর যথাযথ মর্যাদা। প্রকৌশলীদের এই প্রিয় মানুষটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন সম্মানী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এর আগে তিনি আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ফেডারেশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন্স অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা এবং দক্ষতার সাথে পালন করায় বর্তমানে তিনি আইইবির প্রেসিডেন্ট।
 
সম্প্রতি ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকৌশলীদের নিয়ে তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা, বাংলাদেশে প্রকৌশলীদের মানউন্নয়নসহ নতুন প্রকৌশলীদের করণীয় কি, তা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র নিজস্ব প্রতিবেদক এ কে এম ইমরান হোসাইন
 
ব্রেকিংনিউজ: প্রকৌশলীদের সার্বিক উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি?
প্রকৌশলী মো.আবদুস সবুর: ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ১৯৪৮ সালের ৭ মে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সদস্যদের উন্নত জীবন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা সদস্যদের সার্বিক উন্নয়ন সম্পর্কিত কাজ ছাড়াও সেমিনার আয়োজন করি। পেশাগত মান উন্নয়নে বিশ্বের নিত্য নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন আমাদের প্রকৌশলীরা যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য এসব সেমিনার এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বলা যায়, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির যত ধরনের নতুন প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার, সেটা আমরা করে থাকি। আমাদের সামাজিক কার্যক্রমও বেশ পরিচ্ছন্ন ও অভিনন্দিত। আমাদের কোন প্রকৌশলী যদি মারা যান অথবা অসুস্থ হন, তাহলে তাদের সহযোগিতা করা হয় আইইবির পক্ষ থেকে এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানকে পাঁচ হাজার করে দশ হাজার টাকা প্রতিমাসে দেয়া হয় লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এছাড়া প্রকৌশলীদের চাকরির ক্ষেত্রে যদি কোন ধরনের সমস্যা হয় তাহলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। একই সাথে বিদেশে গিয়ে যেন আমাদের প্রকৌশলীরা ভাল অবস্থান তৈরি করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে, সেই জন্য আমরা সহযোগিতাসহ প্রশিক্ষণ দেই। আমরা আগামী বছরের জুনে ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের সদস্য পদ পেতে যাচ্ছি। এটা পেলে আইইবির সদস্যরা বিদেশের মাটিতেও ‘আন্তর্জাতিক প্রকৌশলী’ হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনার পরিকল্পনার সাথে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ভিশন ’৪১ এর মিল কোথায়?
প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর: আমি প্রথমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। কারণ ১৯৭৫ সালের পরে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে একটি আলোকিত ভিশন দিয়েছেন, প্রয়োগধর্মী দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ২০২১ সাল এবং ২০৪১ সালের ভিশন দিয়েছেন। এই ভিশনের কারণে বাংলাদেশ আজ উন্নয়শীল দেশে উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ যখন ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন আমাদের প্রকৌশলীরাই মাত্র ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যদিও আওয়ামী লীগ সরকার ১৬০০ মেগাওয়াট থেকে ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। যখন আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতা নেয় তখন মাত্র ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল।  এই ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে যে আজ ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে মাত্র আট বছরে যা ৩৭ বছরেও পারেনি। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান। সেই জায়গায় আমাদের প্রকৌশলীরা সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি প্রকৌশলীদের সেই পরিবেশ দিয়েছেন, সক্ষমতাটা করে দিয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার এবং ভয়ভীতিহীনভাবে কাজ করার পরিবেশ দিয়েছেন বলেই আমাদের প্রকৌশলীরা এই কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া পদ্মসেতু, কর্ণফুলী টানেল, এমআরপি, বাস রেপিড ট্রানজিট, ফ্লাইওভার, গ্রামীণ অর্থনীতি, মেট্রোরেল- এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমাদের প্রকৌশলীদের স্পর্শ নেই। এই প্রকৌশলীরাই তো এতো দিন ছিল। এই প্রকৌশলীরাই তো আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করছেন। প্রকৌশলীদের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা আর বিশ্বাস আছে বলেই আমরা কাজ করতে পেরেছি। পৃথিবীর মধ্যে ৫৭তম দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এই মাসেই উৎক্ষেপণ করা হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র- এগুলোর সাথে আমাদের প্রকৌশলীরা যুক্ত। আমি বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু কন্যা যদি ক্ষমতায় থাকেন, ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত দেশে উন্নীত হবো। সেই জায়গায় আমাদের প্রকৌশলীরা নিবেদিতভাবে কাজ করে যাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশনের সাথে আমাদের কাজের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।
 

ব্রেকিংনিউজ: প্রকৌশলখাতে আপনি বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান?
প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর: বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হয়ে ৪৮ বছরের দিকে যাচ্ছে। আমার মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছি। আগামীতে আমরা উন্নত দেশে উন্নীত হব। আমাদের প্রকৌশলীরাই আজ বিশ্বমানের প্রকৌশলী হিসেবে বেড়ে উঠছেন। আমাদের প্রকৌশলীরা সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আইটি সেক্টরে কাজ করছে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশের প্রকৌশলীরা বিশ্বের অন্য দেশের প্রকৌশলীদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। বরং অনেক অংশে এগিয়ে আছে। আগামীদিনে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা বিশ্বে নেতৃত্ব দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
 
ব্রেকিংনিউজ: বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতে আপনার দেখা প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা কি কি?
প্রকৌশলী মো.আবদুস সবুর: আমাদের আমলাতান্ত্রিক কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালের কারণে সঠিক কাজটা হয় না। যে কোন কাজ করতে হলে পরিকল্পনা দরকার। যেকোন কাজ করতে হলে প্রযুক্তিগত দিকটা দেখা দরকার। কিন্তু অনেক কিছুই আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আমি মনে করি যেই জায়গায় যার সার্বভৌমত্ব আছে সেই জায়গায় তাকে দিয়েই যদি কাজ করানো যায় তাহলে উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।
ব্রেকিংনিউজ: এসব সমস্যা দূর করতে আপনারা কিভাবে কাজ করতে চান?
প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর: এই সব সমস্যা দূর করতে হলে একটি কাজ করতে হবে, সেটা হল প্রযুক্তিবিদদের আমলাতান্ত্রিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। কারণ প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিকে সব সময় মুক্ত রাখতে হয়। আবার প্রকৌশলীরাও এক ধরনের প্রশাসন চালায়। সেই জায়গায় প্রকৌশলীদের ক্ষমতা দিতে হবে। এখানে নন টেকনিক্যাল মানুষ যদি প্রকৌশলীদের পরিচালনা করতে চায় তাহলে কখনো সঠিক ফলটা পাওয়া যাবে না। যেমন আমি প্রকৌশলী, আমাকে দিয়ে ডাক্তারের কাজ করা সম্ভব নয়। আবার বাংলার শিক্ষককে দিয়েও প্রযুক্তির জটিল জিনিস বুঝানো সম্ভব নয়। যার যে কাজ তাকে দিয়েই তার কাজ করানো উচিত বলে আমি মনে করি। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়, যার কারণে কাজের গতি কমে যায়।
 
ব্রেকিংনিউজ: নতুন প্রকৌশলীদের ব্যাপারে আপনার ম্যাসেজ কি?
প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর: আমাদের প্রকৌশলীদের পূর্বসূরীরা উন্নত জগত গঠনের যে চিন্তা চেতনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু কন্যার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ, সেটা বাস্তরায়ন করতে হলে আমাদের বিশ্বমানের প্রকৌশলী হতে হবে। বিশ্বমানের প্রকৌশলী হতে হলে নিবেদিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। সেই সাথে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।
 
ব্রেকিংনিউজ: মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
প্রকৌশলী মো.আবদুস সবুর: আপনাকে এবং ব্রেকিংনিউজ পরিবারকে ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/আইএইচ/জিসা
 
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2