শিরোনাম:
Ads-Top-1
Ads-Top-2

অটিজম জয়ে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই

আবু সাঈদ সজল
২ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 09:37:00

জ্ঞান, বিবেক ও বুদ্ধির জন্য জগৎশ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ। স্রষ্টার মহাশক্তির রহস্য উদঘাটনে মানব সাফল্য অতি নগণ্য। জীববিজ্ঞানে মানব সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত। জীবন রহস্যের উপর নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব মানবের নেই। বরং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক মহান স্রষ্টা। সকলের প্রত্যাশা ফুটফুটে, সুন্দর ও স্বাভাবিক শিশু। যারা সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর অধিকারী।
 
বিকাশজনিত ক্রটির শিকার মানবশিশু স্বাভাবিক শিশু নয়। তাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষণীয়। এসব বিকাশজনিত ক্রটির শিকার শিশুদেরকে বলা হয় অটিস্ট শিশু। যারা একটি পরিবারের দুঃখ-বেদনা, হতাশা ও যন্ত্রণায় সঙ্গী। আমরা অনেকে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বা সমব্যথী। অন্যদিকে অনেকে তাদের প্রতি প্রদর্শন করি কুৎসা, অবজ্ঞা, অবহেলা বা বঞ্চনা। ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। বাবা-মা এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা না থাকলে এ ধরনের শিশুদের স্বাভাবিক মানুষের কাতারে আসা দুর্বিষহ। তাই প্রয়োজন সবার সচেতনতা ও সহানুভূতির।
 
প্রশিক্ষণ এবং অটিজম এই দুটো শব্দকে যদি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির জীবন ধারণ প্রণালীর ভিতর সঠিকভাবে একই সুতায় গাঁথা যায় তবে নিঃসন্দেহে অটিজমকে জয় করা সম্ভব। অটিজম আক্রান্ত মানুষটি সমাজে বসবাস করার ক্ষেত্রে তার করণীয় সামাজিক আচরণও অপরের সাথে যোগাযোগ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় ভোগে। অটিজমের বৈশিষ্ট্য দুই প্রকার-১) খুব হালকাভাবে অটিস্টিক ২) গুরুতর অটিস্টিক।
 
অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা অটিজমে আক্রান্তের কারণে স্বাভাবিক শিশুদের মত সমাজ বা তার চারপাশের জগৎ থেকে জ্ঞান আহরণ করে , সেই জ্ঞানের ব্যপ্তি প্রশিক্ষণ ব্যতীত ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় না। অটিস্টরা প্রতিবন্ধী নয় আবার এটি কোন রোগও নয় যে, চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে ফেলা যাবে। তাই অন্যান্য ডিজএবেল মানুষের চেয়ে অটিজমদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, কঠিন, চ্যালেঞ্জিং এবং ভিন্ন।
 
সকল অটিজমের ক্ষেত্রে একই প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কাজে লাগবে তা ভুল আবার, এমন কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতিও নেই, যা গবেষণায় সম্পূর্ণ কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত। তবে কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ অটিজমদের অবকাঠামাগত পরির্বতন এনে সমাজের প্রচলিত নিয়ম কানুন মেনে, স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সফলতা অর্জন করেছে। তার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। অটিজমের ক্ষেত্রে সাফল্য মানে তারা কতটা সামাজিক কতটা কর্মক্ষম। উপযুক্ত ও সঠিক প্রশিক্ষণের জন্য যারা এই আওতার মধ্যে পড়েন তারা হলেন, ১) নিউরোডেভেলাপমেন্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান ২) এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট ৩) অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ৪)স্পিচ লেংগুয়েজ প্যাথলজিস্ট ৫) লার্নিং এবং রিডিং স্পেশালিস্ট ৬) স্পেশাল এডুকেটার।
উল্লিখিত ডাক্তার এবং থেরাপিস্টদের সংখ্যা, অটিজমের হারের অনুপাতে আমাদের দেশে দুঃখজনক হলেও অত্যন্ত নগণ্য। তাই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় বাধা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি বা শিশু যেই পরিবারে আছে,তাদের সাথে হতাশা ও সামাজিক বঞ্চনা আঙ্গাআঙ্গিভাবে জড়িত। তবে হতাশার প্রাচীর ডিঙিয়ে সফলতার চাবি কাঠি প্রাপ্তি লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
 
এ প্রত্যয়ে আমরা শপথ নেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাথে পারিবারিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে একই সূত্রে গেথে আমরা অবশ্যই একদিন অটিজমকে জয় করবই।
 
লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 
ব্রেকিংনিউজ/সজল/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2