Ads-Top-1
Ads-Top-2

বাংলাদেশ-ইসরায়েল ‘সম্পর্ক’ বিষয়ে কী জানেন

রাশেদ শাওন
২০ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 01:52:00

বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র রাষ্ট্র, যার সঙ্গে ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ- সব ধরনের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আছে। অথচ এই দুই দেশই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ নৈতিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকার করে না। এইজন্য কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
 
স্বাধীনতাযুদ্ধের পর প্রথমদিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইসরায়েল- ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
 
এখানে ইসরায়েলের অবস্থানটা ছিল ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়; কিন্তু ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা স্বীকার করে না। বঙ্গবন্ধু হিপোক্রেসিটা ধরতে পেরেছিলেন। সরকারের পক্ষে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদ ইসরায়েলকে জানিয়ে দেন- বাংলাদেশ ইসরায়েলের স্বীকৃতি গ্রহণ করবে না।
 
জাতিসংঘের যে ২৯টি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, বাংলাদেশ তার একটি। ওই দেশটিতে ভ্রমণের ব্যাপারেও বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা আছে। ২০০৩ সালে সালেহ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি সাংবাদিক ইসরায়েলে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
 
বাংলাদেশ মূলত একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দাবি করে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান চায়। ইসরায়েল অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।
 
২০১১ সালে জেরুজালেম পোস্টকে ইসরায়েল সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনও সংঘাত নেই। আমরা আলোচনা চাই। বাংলাদেশের ধর্মীয় মনোভাবসম্পন্ন নাগরিকদের পবিত্র ভূমি জেরুজালেম ভ্রমণের আহ্বান জানাই।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর জবাবটা দিয়েছেন ২০১৪ সালে। তিনি বলে দেন, ‘আমরা সব সময়ই ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আমাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছি। তাদের ভূমিতে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’
 
এছাড়া ২০০৬ সালে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়ন পাঠানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে, যেহেতু বাংলাদেশ তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে উপেক্ষা করেই দক্ষিণ লেবাননে সেনা পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
 
সর্বশেষ রোহিঙ্গা সংকটের সময় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা দিতে সরকারের সঙ্গে ‘গোপন চ্যানেলে’ ইসরায়েল যোগাযোগ করেছিল বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে বাংলাদেশ সরকার তাতে অস্বীকৃতি জানায়।
 
ব্রেকিংনিউজ/ আরএস

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2