Ads-Top-1
Ads-Top-2

কতই না ট্যালেন্ট আমরা!

স্যোসাল মিডিয়া ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 04:17:00

ভয়ে ভয়ে একটা স্ট্যাটাস দিতে চাই, বন্ধুরা। বাণের জলরে বাঁধ দিয়া ঠেকানো দায়, জানি।তবুও বলি। স্টিফেন হকিং মারা গেছেন। তার অন্তিমে আমরা শ্রদ্ধা জানাই, প্রার্থনা মাগি। রেওয়াজ। ঠিকাছে।

ফেসবুক দেখে আমার মনে হইল যে, আমরা খুব শিক্ষিত আর বিজ্ঞানমনষ্ক হয়া উঠছি। এইটা হইতে পারলে তো খুব ভালোই হইত।

এই যে আমরা প্রায় সবাই স্টিফেন হকিংয়ের ছবি দিয়া, তারে উদ্ধৃত কইরা ফেবুতে পোস্টাইতেছি সত্যি সত্যি আমরা তার বইপত্র পড়ছি, না কথাবার্তা শুনছি, না মানছি? কন তো! না, স্টিফেন পোস্টানো মোটেও দোষের না। কিন্তু প্রশ্ন জাগে।

স্টিফেন হকিং যদি এতই প্রভাব রাখত আমাদের মনে ও মগজে তাইলে আমাদের 
জাতীয় আচরণ কেমন হওয়ার কথা? চুন থিকা পান খসলেই তো দেখি ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত লাগে। মদিনা সনদ বাস্তবায়ন যেখানে ছহি স্বপ্ন সেখানে স্টিফেন হকিংরে একটু বেমানান লাগে না? দুইয়ে মিলে খুব?

আমরা অনেক কিছু পারি। এই দেশে চান্দে সাঈদীরে দেখা যাইতেছে বিশ্বাস করি, আবার হকিং নিয়াও মাতামাতি করি। এইসব দেইখ্যা মনে হয় আমড়া গাছে আম কেন, জাম্বুরাও ফলতে পারে!

কতই না ট্যালেন্ট আমরা!

আমি ক্ষুদ্র একখান জরিপ চালাইলাম একটু আগে।আমার বন্ধু তালিকায় ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বন্ধুদের টাইম লাইনে ঢুঁ মারা। আচানক মনে হইতে পারে, কিন্তু সত্যি হইল, এদের একজনরেও হকিং-এর ছবি দিয়া পোস্টাইতে দেখতে পাই নাই। তারা কি জানে না খবরটা? জানে নিশ্চয়ই।

অবস্থাদৃষ্টে, এদের তুলনায় আমরা কতই না শিক্ষিত আর বিজ্ঞানমনষ্ক! কতই না মানবিক আমরা! খুন-গুম-ধর্ষণ, বস্তি পোড়ানো, সাংবাদিক নির্যাতন, রিমাণ্ডে নখ তুইলা নির্যাতন কইরা মাইরা ফেলা এইসব আরও কতকিছু এক লগে পারি আমরা! কতই না প্রতিভাবান!

ভাবলেই, এক লাফে চান্দে যাইতে মুঞ্চায়।

কেবল আদিখ্যেতা নয়, সত্যি সত্যি যদি স্টিফেন পড়ি আমরা, যদি তারে বুঝতে পারি, বিজ্ঞানে মন দেই তাইলে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা দিলেও দিতে পারে। 

জয়গুরু।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2