Ads-Top-1
Ads-Top-2

গাইবান্ধা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি

প্রতিবেদনটি এক বছরেও আলোর মুখ দেখেনি

মিলন খন্দকার, গাইবান্ধা
১৪ মার্চ ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 10:13:00
প্রতিবেদনটি এক বছরেও আলোর মুখ দেখেনি

গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাল দলিল রেজিস্ট্রেশনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সরেজমিন তদন্তের এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। ফলে এই অফিসে জাল দলিল রেজিস্ট্রি, বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া, ফাটা, সংযোজনের মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মনিরুজ্জামান গেল বছরের ১২ মার্চ এসব ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করেন।
 
গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার মো. আইয়ুব আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এক বছর আগে আইন মন্ত্রণালয় গঠিত সলিসিটর উইং বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাল দলিল রেজিস্ট্রেশসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন কি না তা আমার জানা নেই।’
 
শহরের খানকা শরীফ এলাকার বাসিন্দা ফুল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, ‘দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুরে হাবিব টিটন গত বছরের ৯ মার্চ তার ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী দিয়ে তাকে সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে তার উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমির দলিলে সই নেয় টিটন বাহিনী।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আমার ঘটনাটি লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু প্রতিকার পাইনি। বরং টিটন বাহিনী আমাকে মেরে ফেলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে।’
 
সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী দিনমজুর মোন্নাফ মিয়া বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী তছলিম উদ্দিন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুরে হাবিব টিটনের সাথে চুক্তি করে আমার সই জাল করে আমার বাস্তুভিটার (২৪ শতক) দলিল রেজিস্ট্রি করেন। এই অভিযোগে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলেও কোনো লাভ হয়নি।’
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র দলিল লেখক বলেন, ‘উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই আবার টিটন বাহিনী নানা অপকর্ম শুরু করে। এখন সমিতির চাঁদার নামে দলিল প্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। কোনো দলিল লেখক চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে লাঞ্ছিত করে টিটন বাহিনী।
 
প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়টি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কার্যালয়টি গাইবান্ধা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সমিতির সভাপতি নুর এ হাবিব টিটন তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কার্যালয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তিনি সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে মহিলাদের বসার একটি কক্ষ দখল করে সমিতির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। দলিল প্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা না দিলে কোনো জমি রেজিস্ট্রি করতে দেয়া হয় না। কোনো দলিল লেখক প্রতিবাদ করলে তার লাইসেন্স বাতিল করাসহ নানা রকমের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়। খারিজ ছাড়া প্রতি দলিল রেজিস্ট্রি করতে ঘুষ দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ছত্রছায়ায় জাল দলিল সম্পাদন, বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া-ফাটা সংযোজনসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ পর্যায়ের ওই তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
 
ব্রেকিংনিউজ/মিলন/পিআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2