Ads-Top-1
Ads-Top-2

ঝালকাঠিতে সেচ সংকটে কৃষকেরা

আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি
২ মার্চ ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 09:50:00 আপডেট: 12:00:00
ঝালকাঠিতে সেচ সংকটে কৃষকেরা

ছোট বড় খাল ভরাটের কারণে ঝালকাঠিতে বোরো আবাদে সেচ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। যদিও বিগত নয় বছরে বিএডিসি সেচ কর্তৃপক্ষ ৯৭ কিমি খাল খননের জন্য প্রায় ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। কিছু প্রকল্পের সিকিভাগ কাজ হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ম্যানেজ করে বিল তুলে নিচ্ছে ঠিকদাররা। খাল খনন না করায় কৃষকরা সেচের পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। তাই ধান রোপনের আগে চারা সবুজ থাকলেও পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।
 
ঝালকাঠি ও নলছিটির অধিকাংশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী ডোবা নালা থেকে হাতে সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছে কৃষকরা। বিএডিসির আওতায় ১৬ টি সেচ নালার কাজ সমাপ্ত হলেও এখন পর্যন্ত চালু করা যায়নি বিদ্যুতের অভাবে। এড়ারা ব্লকের আরও কিছু পাম্প বসানোর পর অকেজ হয়ে পরে থাকায় সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছে না কৃষকরা।
 
নলছিটি উপজেলার ষাটপাকিয়া ইউনিয়নের দেড় কুরা জমির মালিক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় গত বছর এবং এ বছর মাটির নিচে পানির লাইন বসালেও বেশির ভাগ এলাকায় তা চালু হয়নি। সেচের এই মৌসুমে পানি না পেলে কৃষকরা এগুলো দিয়ে কি করবে।’
 
কৃষকরা জানান, সরকার কৃষকদের উপকারের জন্য এসব দিলেও বিএডিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে এর সুফল সময়মত কৃষকরা পাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন না দেয়ায় অনেক নালা চালু করা যাচ্ছে না।
 
কৃষক আবদুল হালিম মিয়া জানান, তাদের নিজস্ব প্রচেষ্ঠায় মেশিন দিয়ে খাল থেকে পানি উঠিয়ে সেচ দিতে বিঘা প্রতি খরচ পরে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। অথচ বিএডিসির মাধ্যমে ব্লকে পানির বিনিময়ে কাঠিপারা ব্লক ম্যানেজার আলী আকবর যে ধান কেটে নিয়ে যায় তার দাম পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। তিনি নিজেই জমি থেকে ধান কেটে নিয়ে যান। এ কারণেও অনেক কৃষক বোরো আবাদ করছে না।

 
এসব বিষয়ে ঝালকাঠি বিএডিসি সেচ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও কৃষকদের অভিযোগ। কৃষ্ণকাঠি এলাকার কৃষক লাবু সিকদার, নয়াবাড়ি এলাকার আবদুস ছবুর মিয়া, আবদুল আজিজসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকার ছোটবড় খালগুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অনেক খালের জায়গা বেদখল করা হয়েছে।’
 
ঝালকাঠি বিএডিসি সেচ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৭২টি সেচ নালা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চালু আছে ৫৬টি। বাকি ১৬টি নালা বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ৪৬ হাজার মিটার সেচ নালার মাধ্যমে এক লাখ ২০ হজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। এছারা পাঁচ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৯-১৭ পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আট হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
ঝালকাঠি বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঝালকাঠির ভরাট খালগুলো সেচ কমিটির মাধ্যমে তালিকা করে খনন করা হবে। এছাড়া ২০টি স্কিমে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে সংযোগ পেলে সেগুলো চালু হলেও কৃষক সেচ সুবিধা পাবে।
 
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার বোরো আবাদ বেশি হচ্ছে। কৃষকদেরকে সেচ ও সুষম সার প্রয়োগের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রায় শতাধিক ভরাট খালের তালিকা প্রতি বছর বিএডিসি সেচ বিভাগে ও এলজিইডিতে দেয়া হয়। এগুলো সেচের আওতায় এনে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।
 
ব্রেকিংনিউজি/আমিনুল/পিআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2