Ads-Top-1
Ads-Top-2

নকলায় বোরো চাষে অর্জন বেশি

শেরপুর প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 09:21:00 আপডেট: 06:02:47
নকলায় বোরো চাষে অর্জন বেশি

শেরপুরের নকলায় যেদিকে দৃষ্টি যায়, শুধু সবুজের সমারোহ। উপজেলার দিগন্তজুড়ে কেবল সবুজ বোরো ধানের মাঠ। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান রোপন হয়েছে। গত বছরের বন্যার ক্ষতি কাটাতে বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নকলা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি এবং ধান উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৬২২ মেট্রিকটন। এতে হাইব্রিড জাতের বিভিন্ন ধানের জন্য সাত হাজার ২০৫ হেক্টর জমি হতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ২৯৫ মেট্রিকটন এবং উফসি জাত বা স্থানীয় জাতের জন্য ছয় হাজার ২৬০ হেক্টর জমি হতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৭ মেট্রিকটন। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চাষে অর্জন হাইব্রিড জাতের ৩৫ হেক্টর বেড়ে হয়েছে সাত হাজার ২৪০ হেক্টর এবং উফসি জাতের কমপক্ষে ১০ হেক্টর বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার ২৭০ হেক্টর জমি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন অনেক বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, এ বছর এসআর-৮, তেজ গোল্ড, এসিআই-৬, জনকরাজ, রুপসী বাংলা, সোনার বাংলা, কৃষিবিদ, হীরা-১, ২, ৩, ৪ ও ৫, ব্যবিলন-১ ও ২, বালিয়া-১ ও ২, ইস্পাহানী-১ ও ২, ময়না, টিয়া, সম্পদ এবং উফসি জাতের ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৫৮, ৬৯ ও ৭৪, নেরিকা মিউট্যান্ট এবং বিআর-২৬ জাতের ধান বেশি চাষ করা হয়েছে। তাছাড়া উপজেলায় ১২০ টি প্রদর্শনী প্লটেও বোরো ধান চাষ হয়েছে, তারমধ্যে বীজ উৎপাদনের জন্য করা হয়েছে ৯০টি।


বানেশ্বরদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই ব্লকের কৃষকরা গত বছরের বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও অতিবৃষ্টিতে বেশ লোকসানে আছেন। তাই কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে অনেক পতিত জমিতেও বোরো ধান রোপন করেছেন।
 
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন বেড়েছে। বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকসহ কৃষি কর্মকর্তারা।
 
ছোট মোজার এলাকার কৃষক নজরুল, বড় মোজার কৃষক আজিজুল, পোলাদেশীর সুরুজ মিয়া, ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ছাইয়েদুল হক, সাধারণ সম্পাদক হেলাল, সদস্য ঈসমাইল, বেলালসহ কয়েকজন জানান, আগামীতে চাষ উপযোগী তাদের সব পতিত জমিতেই বোরো ধানের আবাদ করবেন।
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, পতিত জমিতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
 
কৃষি অফিসের সিটিজেন চার্টারের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৩২ হাজার ৪৫টি কৃষি পরিবার ৭৬ হাজার ৯০০ একর আবাদি জমিতে কৃষি কাজ করেন। তার মধ্যে এক ফসলি জমি দুই হাজার ৭৫০ একর, দুই ফসলি ২২ হাজার ৬০০ একর ও তিন ফসলি জমি নয় হাজার ৬৫০ একর এবং নীট ফসলি জমি ৩৬ হাজার ২৫০ একর।

 
ব্রেকিংনিউজ/মোশারফ/পিআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2