শিরোনাম:
Ads-Top-1
Ads-Top-2

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে পূর্ণতা দিতে ‘কিছু পদক্ষেপ’ লাগবে

ইমদাদুল হক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 04:31:00 আপডেট: 12:00:00

 সব ঠিক থাকলে আগামী মার্চে কক্ষপথে অবস্থান নেবে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’। দেশের অভ্যন্তরীণ স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি একদিকে যেমন দেশি টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার খরচ কমে আসবে, অন্যদিকে এ বাবদ বিদেশে মোটা অঙ্কের টাকা চলে যাওয়াটাও বন্ধ হবে। কিন্তু সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ব্যাংকক, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ আরো অনেক দেশে সরাসরি সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনায় কারিগরি বাধায় পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রেকিংনিউজ-এর সঙ্গে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আইপিটিভি প্রযুক্তিতে সম্প্রচার জটিলতা দূর করার পাশাপাশি, স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিনিময়ের পরামর্শ দিয়েছেন তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সময় টিভি'র সম্প্রচার ও তথ্যপ্রযু্ক্তি প্রধান সালাউদ্দিন সেলিম। সালাউদ্দিন সেলিম বাংলাদেশের প্রথম আইপিটিভি ও মোবাইল টিভি প্রযুক্তির ডেভেলপ করেছিলেন ২০০৬ সালে। এছাড়াও এসটিভি ইউএস, সিএসবি নিউজ, দেশ টিভি, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর, এশিয়ান টিভি, একুশে টিভি, নাগরিক টিভি সহ দেশের  প্রায় ৮টি টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি সরাসরি কিংবা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন এবং টেলিভিশন চ্যানেলের কারিগরি নকশা ও সম্প্রচার পরিকল্পনায় রয়েছে তার সুনাম। এই তরুণ প্রযুক্তিবিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমদাদুল হক

ব্রেকিংনিউজ: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে কারিগরি সুবিধা ও অসুবিধা বিষয়ে বলবেন কি?
সালাউদ্দিন সেলিম : প্রতিটি স্যাটেলাইটের রয়েছে পৃথিবীতে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সম্প্রচার করার ক্ষমতা, যাকে বলা হয় ‘ফুট-প্রিন্ট’। বাংলাদেশের সীমানায় ভালো ‘ফুট-প্রিন্ট’সুবিধা প্রদানকারী হিসেবে জনপ্রিয় স্যাটেলাইটটি হচ্ছে ‘অ্যাপস্টার-৭ (৭৬.৫ ডিগ্রি)’। এর বিশেষ সুবিধা হলো এটির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ এশিয়ার সব দেশ এবং বাড়তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশেই অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যায়।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অরবিটাল লোকেশন হচ্ছে ১১৯.১ ডিগ্রি। কিন্তু এই অরবিটালে ‘অ্যাপস্টার-৭’-এর মতো সুবিধা পাওয়া যাবে না। এর আওতায় বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান দেখা যাবে না—সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ব্যাংকক, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ আরো অনেক দেশে। এর আওতায় থাকবে শুধু বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া ও বঙ্গোপসাগরের কিছু অঞ্চল, তবে সি-ব্যান্ড এবং কেইউ-ব্যান্ড ভেদে এই ফুট-প্রিন্টে কিছুটা পার্থক্য থাকবে। অথচ প্রবাসী দর্শক হিসেবে এই বাদপড়া দেশগুলোতেই দেশি চ্যানেলের কদর বেশি এবং এ অঞ্চলগুলো থেকে চ্যানেলগুলোও একটি বাড়তি আয়ও করে ।

ব্রেকিংনিউজ: কক্ষপথের সীমাবদ্ধতাটা কোথায়?
সালাউদ্দিন সেলিম: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অরবিটাল ১১৯.১ ডিগ্রি বরাবর হওয়ায় আপলিংক ও ডাউনলিংক এন্টেনা ভূপৃষ্ঠ বরাবর অনেক বেশি হেলে থাকবে, তাই শহর অঞ্চলগুলোতে এন্টেনার সামনে উঁচু বিল্ডিং থাকলে সিগন্যাল পেতেও বেগ পেতে হবে। আমার জানা মতে, দেশের কয়েকটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেল তাদের এন্টেনা এই অরবিটাল বরাবর তাক করাতেই পারবে না। কারণ এই বরাবর রয়েছে উঁচু বিল্ডিং।

ব্রেকিংনিউজ: তাহলে আমাদের জন্য কোন অরবিটাল লোকেশনটি ভালো?
সালাউদ্দিন সেলিম: স্যাটেলাইট পাঠানোর জন্য প্রতিটি দেশের একটি নির্ধারিত কৌণিক দূরত্ব ও অবস্থান রয়েছে, যাকে বলা হয় অরবিটাল লোকেশন। এই অরবিটাল নির্ধারণ করে থাকে ‘আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন)’। প্রতিটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন অনুযায়ী এই অরবিটাল লোকেশন নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী অরবিটাল হওয়ার কথা ছিল ৭৪ ডিগ্রি অথবা তার কাছাকাছি কোনো একটি। কিন্তু ৭৪ ডিগ্রি বরাবর রীতিমতো ভারতীয় একটি স্যাটেলাইট রয়েছে- যার নাম ‘ইনস্যাট’। এটি বাংলাদেশের অজান্তেই স্থাপন করা হয়েছে অথবা কোনো কারণে সেটি হাতছাড়া হয়েছে। তবে ৭৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত যেকোনো অবস্থানেই হতে পারত আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত অরবিটাল লোকেশন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ৭৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রিতে অনেক দিন আগেই স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৩৩টি স্যাটেলাইট।  কোনো কারণে আমরা যদি ১১৯.১ ডিগ্রি অরবিটাল হাতছাড়া করি, তাহলে আর কোনো দিনই আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সুযোগ থাকবে না।
 
ব্রেকিংনিউজ: আমাদের স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ চাহিদা কতটুকু?
সালাউদ্দিন সেলিম: স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে ৩০টি টিভি চ্যানেল চলমান (বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ টিভি আলাদাভাবে)। চলমান এই ৩০টি চ্যানেলের বেশির ভাগই ব্যবহার করছে ৬ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ এবং কেউ কেউ কমও ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে এই ৩০টি টিভি চ্যানেল প্রায় ১৬৩ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে। এবং চলমান একটি ডিটিএইচ প্রায় ১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ (কেইউ-ব্যান্ড) ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রয়োজন আছে প্রায় ২৬৩ মেগাহার্জ স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৫০টিতে এবং সে ক্ষেত্রে বাড়তি আরো প্রয়োজন হবে ১০০ মেগাহার্জ। এ ছাড়া আরো একটি ডিটিএইচ আসার অপেক্ষায়, তাদেরও প্রয়োজন হবে প্রায় ১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ। অর্থাৎ সব মিলিয়ে আগামী দিনে প্রায় ৪৬৩ মেগাহার্জ স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের চাহিদা রয়েছে।


ব্রেকিংনিউজ: স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথ বাবদ কত টাকা বিদেশে যাচ্ছে?
সালাউদ্দিন সেলিম:  ৩০টি চলমান টিভি চ্যানেলের মধ্যে ২৭টি চ্যানেলই ব্যবহার করছে ‘অ্যাপস্টার-৭’ স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথ এবং শুধু বিটিভি ১৫ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ নিয়ে সম্প্রচার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ‘এশিয়া স্যাট-৭’-এর মাধ্যমে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১৪৮ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথই হলো ‘অ্যাপস্টার-৭’-এর দখলে আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফ্রিকোয়েন্সির মূল্য কয়েক দফায় বৃদ্ধি করেছে তারা। বর্তমানে তারা প্রতি মেগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সির জন্য দাম নিচ্ছে চার হাজার ইউএস ডলার প্রতি মাসে। এবং প্রতিটি টিভি চ্যানেল প্রতি মাসে শুধু স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের ভাড়াই দেয় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। এবং সেই হিসাবে ২৭টি টিভি চ্যানেলে ব্যবহৃত ১৪৮ মেগাহার্জ স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের জন্য প্রতি মাসে গুনতে হয় প্রায় ‘পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ইউএস ডলার, যা টাকায় প্রায় চার কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং প্রতিবছর হিসাবে এই খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

ব্রেকিংনিউজ: এই পরিস্থিতিতে আমরা কি করতে পারি?
সালাউদ্দিন সেলিম: এই পরিস্থিতিতে আমাদের হাতে জোড় সমাধান রয়েছে। একইসঙ্গে  স্যাটেলাইটের বিকল্প হিসেবে আইপিটিভ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিনিময় করা।

ব্রেকিংনিউজ: কীভাবে আইপিটিভি স্যাটেলাইট টিভির বিকল্প হবে বলে মনে করেন?
সালাউদ্দিন সেলিম: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহারের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত অন্য দেশগুলোতেও ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব সহজেই বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই আইপি প্রযুক্তি মূলত স্যাটেলাইটের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং দেশের প্রত্যেকটি চ্যানেলকে বিশ্বের যেকোন কেবল অপারেটর কিংবা যে কোন প্রান্তে পৌছে দেওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে অডিও-ভিডিও কোয়ালিটিতে হবে না কোন প্রকার তারতম্য বরং স্যাটেলাইটের তুলনায় আরও বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রচার প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে এক হয়ে কাজ করতে হবে দেশের সকল টিভি চ্যানেলের মালিকদেরকে। 

ব্রেকিংনিউজ: আইপিটিভি প্রযুক্তিতে যেতে আমাদের কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি?
সালাউদ্দিন সেলিম: কিছুদিন আগে বিটিআরসি এর পক্ষ থেকে দেশে সকল আইএসপিকে আইপিটিভি সার্ভিস বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এটা একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। যেখানে এখন সারা বিশ্ব চলছে আইপিটিভি প্রযুক্তির মাধ্যমে সেখানে আমরা এটাকে বন্ধ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি। ইউটিউব কিংবা ফেসবুকের ভিডিও সার্ভিসও এক ধরনের আইপিটিভি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দেশের প্রায় প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেলই স্যাটেলাইটের পাশাপাশি ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিংবা ওয়েবসাইট ও অ্যাপস এর মাধ্যমে টিভি দেখার সুবিধা দিয়ে থাকে, এটাও এক ধরনের আইপিটিভি প্রযুক্তি। তাই আইপিটিভি সার্ভিস যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে অনেক কিছু থেকেই আমরা বঞ্চিত হবো। তাই আইপিটিভি প্রযুক্তিকে আরও ভালোভাবে কীভাবে সেবা দেওয়া যায় সেব্যাপারে বিটিআরসি সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আইপিটিভি প্রযুক্তি শুধু সম্প্রচার পরিধিই বাড়াবে না এটা থেকে টিভি চ্যানেলগুলোর বাড়তি আয়ও এনে দিবে।

ব্রেকিংনিউজ: স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিনিময় প্রস্তাবটা একটু খোলাসা করে জানতে চাই।
সালাউদ্দিন সেলিম: যেহেতু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠানোর জন্য মহাশূন্যে জায়গা কেনাসহ কারিগরি সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং আমাদের কাঙিক্ষত অরবিটাল বরাবর কোন জায়গাও খালি নেই, তাই দেশীয় টিভি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের যে প্রতিবন্ধকতা তা দূর করার জন্য অন্য স্যাটেলাইটের সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যান্ডইউথ বিনিময় প্রস্তাব করা যেতে পারে। অর্থাৎ আমাদের জন্য উপযোগী এমন একটি অরবিটাল লোকেশনে থাকা স্যাটেলাইটের সাথে আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইথ অদল-বদল করার প্রস্তাব করা যেতে পারে। (বিটিআরসি সূত্রমতে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে এবং যেখানে বাংলাদেশ মাত্র ১২টি ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হবে।) 

ব্রেকিংনিউজ: কাদের সঙ্গে এই বিনিময় করা যেতে পারে?
সালাউদ্দিন সেলিম: আমাদের চাহিদা ভালোভাবে মেটাতে পারে এমন একটি স্যাটেলাইট হলো ‘ইয়ামাল (Yamal)'।  এই স্যাটেলাইটটির কথা বলছি এই কারণে যে, এটার মালিকও রাশিয়া এবং আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর উৎক্ষেপণের জন্য যে জায়গাটি ব্যবহৃত হবে সেটাও রাশিয়া থেকেই কেনা হয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাথে ইয়ামাল স্যাটেলাইটের সাথে শুধু বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইথ বিনিময়ের একটি প্রস্তাব করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে চলমান টিভি চ্যানেলগুলোর সেবা দেয়ার জন্য প্রায় ২৬৩ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ চ্যানেলগুলোর কথা চিন্তা করলে ধরে নিচ্ছি সবমিলিয়ে ৩৫০ মেগাহার্টজ পরিমাণ ব্যান্ডউইথ বিনিময় করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

ব্রেকিংনিউজ: স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের খরচ কমানোর কোনো আধুনিক পদ্ধতি আছে কি?
সালাউদ্দিন সেলিম: সামান্য একটু কৌশল খাটিয়েই এই খরচ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। অবাক শুনালেও এটি অসম্ভব কিছু নয়। এই প্রযুক্তির নাম হলো- মাল্টিপ্লেক্সিং পদ্ধতি, এটি ‘টেলিপোর্ট’ নামেও পরিচিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলগুলোই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চলে।

ব্রেকিংনিউজ: টেলিপোর্ট ও মাল্টিপ্লেক্সিং পদ্ধতিতে খরচ কীভাবে কমবে?
সালাউদ্দিন সেলিম: একাধিক টিভি চ্যানেলের ফিডকে এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করে একটি মাত্র আর্থস্টেশনের মাধ্যমে স্যাটেলাইট বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেলের রয়েছে আলাদা নিজস্ব আর্থস্টেশন যা বিটিআরসি এর পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবং টিভি স্টেশন সেটআপের ক্ষেত্রে বড় অংকের একটি খরচ এই আর্থস্টেশনে চলে যায়। কিন্তু টেলিপোর্ট পদ্ধতিতে টিভি স্টেশনগুলোর জন্য দরকার নেই কোন প্রকার আর্থস্টেশনের। সেক্ষেত্রে আর্থস্টেশনের সবরকম সুবিধাই থাকবে টেলিপোর্ট স্টেশনে এবং এবং প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেল থেকে ফাইবার অপটিক কিংবা রেডিও লিংকের মাধ্যমে অডিও-ভিডিও সিগন্যাল পাঠিয়ে দেওয়া হবে টেলিপোর্ট স্টেশনে। সেখান থেকে সবগুলো সিগনাল একত্রিত করে সম্প্রচার করা হবে। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় মাল্টিপ্লেক্সিং।
 
আসলে এই টেলিপোর্ট সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যান্ডউইথ খরচ কমে যাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। বর্তমানে ৩০ টি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার প্রক্রিয়া চালাতে যেখানে প্রায় ১৬৩ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে সেখানে টেলিপোর্ট সিস্টেমে এই ৩০টি চ্যানেল সম্প্রচার চালাতে ৮০ থেকে ৯০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইথই যথেষ্ট।

ব্রেকিংনিউজ: এটা কীভাবে সম্ভব?
সালাউদ্দিন সেলিম: প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটা অসম্ভব কিছু না। এই পদ্ধতিটির নাম হচ্ছে- “ইনটেলিজেন্স ভিবিআর সিস্টেম”।  সাধারণত টিভিতে আমরা যখন কোন অনুষ্ঠান দেখি সেখানে যত বেশি মোশন (চলমান) ভিডিও থাকবে তার জন্য তত বেশি ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হয় এবং স্থির ভিডিওর জন্য কম ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হয়। এই “ইনটেলিজেন্স ভিবিআর সিস্টেম” মূলত প্রতিটি মুহূর্তে চ্যানেলগুলো স্বয়ংক্রিভাবে মনিটর করতে থাকে এবং যখন যে চ্যানেলের যতটুকু ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হয় শুধু ততটুকুই সরবরাহ করে। অর্থ্যাৎ সবগুলো চ্যানেলকে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে স্যাটেলাইট বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং উক্ত স্যাটেলাইটে সবগুলো চ্যানেল অর্থ্যাৎ উক্ত পাইপলাইনের জন্য একটি থোক ব্যান্ডউইথ নির্ধারণ করা থাকে। এরপর ঐ থোক ব্যান্ডউইথ থেকেই “ইনটেলিজেন্স ভিবিআর সিস্টেম” এর মাধ্যমে সবগুলো চ্যানেলের মধ্যে উক্ত ব্যান্ডউইথ ভাগাভাগি করে দেয়া হয়। এ ছাড়াও ফিকোয়েন্সী মডিলিউশন প্রযুক্তিতে একটু কৌশল খাটিয়ে অডিও ভিডিও কোয়ালিটি ঠিক রেখে কম ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যার নাম ‘এইট-পি-এসকে মড্যুলেশন’। বিশ্বের অনেক দেশেই এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।  বিটিআরসি যদি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাথে বাড়তি হিসেবে এ ধরনের টেলিপোর্ট সুবিধা রাখতে পারে তাহলে সবাই হয়তো বাড়তি সুবিধা হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহারে আগ্রহী হবে।

ব্রেকিংনিউজ: তাহলে বিটিআরসি'র এখন কী করা উচিত?
সালাউদ্দিন সেলিম: বিটিআরসির উচিত হবে টিভি চ্যানেলগুলোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও এই স্যাটেলাইটের সুবিধা অসুবিধাগুলো তুলে ধরা, যাতে করে তারা আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। তা ছাড়া আনুমানিক কবে নাগাদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে তার একটি আগাম বার্তা সকল টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা উচিত। কারণ প্রতিটি টিভি চ্যানেলই কোন না কোন স্যাটেলাইটের সাথে চুক্তিবদ্ধ। এবং বেশির ভাগ চুক্তির মেয়াদ হয়ে থাকে প্রায় ২ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত। এই চুক্তি লঙ্ঘন করলেও গুনতে হবে মোটা অংকের জরিমানা। তাই টিভি চ্যানেলগুলো স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ কিংবা পুরনো চুক্তি নবায়ন করার আগেই যদি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আগাম খবরটি জানতে পারেন তাহলে অন্য স্যাটেলাইটের সাথে চুক্তি করার ক্ষেত্রে মেয়াদসীমাটা নির্ধারণ করে নিতে সুবিধা হবে।

ব্রেকিংনিউজ/ইহক/জিসা
 
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2