Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘আমরা প্রতি শনিবার ফেসবুক লাইভে নিয়োগ দেই’

ইমদাদুল হক
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 02:48:00 আপডেট: 06:02:47

প্রযুক্তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে গত সাত বছরে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান কাজী আইটি সেন্টার লিমিটেড। নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বন্ধকী সম্পদের পুন:সংস্কার, হিসাব সম্পাদন, আইনি সহায়তা এবং মানবস্পদ বিভাগের ভার্চুয়াল সেবা দিচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্মের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মাইক কাজী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তার ধ্যানজ্ঞান দেশকে নিয়েই।
 
পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নের সময়, ১৯৮৭ সালের দিকে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। কয়েক বছর পর তার পরিবার বাংলাদেশে চলে এলেও তিনি থেকে যান সেখানে। তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। ৪০০ ডলারে একটি গাড়ি কিনে তা পরে ১২০০ ডলারে বিক্রি করেন। এই অপ্রত্যাশিত মুনাফা তাকে ব্যবসায় আকর্ষণ করে। ব্যবসার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএম শেষ করেন। এসময় প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করতে গিয়ে প্রযুক্তি ব্যবসা তাকে আকর্ষণ করে। গড়ে তোলেন কাজী আইটি লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ২০১০ সালে বাংলাদেশেও কাজ শুরু করে কাজী আইটি সেন্টার।
 
আজ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন ৭০০ মার্কিন নাগরিক। আর বাংলাদেশে ৬ শতাধিক কর্মী। দিন-দিন এই কর্মী সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীর নিকুঞ্জ ও ধানমণ্ডি ছাড়াও রাজশাহীতেও অফিস থেকেও চলছে প্রাতিষ্ঠানিক আউটসোর্সিং এর কাজ। সেখানে দুই শিফটে কর্মীরা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছেন। মাইক কাজী তার কোম্পানিকে আগামী পাঁচবছরের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হিসেবে দেখতে চান। সম্প্রতি তিনি আমেরিকার বিপিও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হ্যাপি হোমস এলএলসি অধিগ্রহণ করেছেন। আর তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের জন্য ফেসবুক লাইভ-এ চলছে ইন্টারভিউ। 
 
প্রশ্ন: কত টাকায় অধিগ্রহণ করলেন হ্যাপি হোমস?
মাইক: ৭.৩ মিলিয়ন ডলারে। হ্যাপি হোমস ছাড়াও কাজী আইটি এই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আরো চারটি প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করেছে। আর এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
 
প্রশ্ন: প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে?
মাইক: হ্যাপি হোমসে বর্তমানে ২০০ আমেরিকানের সাথে ৭০ জন বাংলাদেশী কাজ করছে। শিগগিরই আরো ১০০ জন বাংলাদেশীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা সব সময় চাই বাংলাদেশের কর্মীরা ভালো করুক। আর এজন্যই এদেশে জনবল পেলে যুক্তরাষ্ট্রে একটা প্রতিষ্ঠান কেনার সাহস পাই আমরা। এভাবে কাজ করলে দুই দিক থেকেই লাভবান হওয়া যায়।
 
প্রশ্ন: হ্যাপি হোমস নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
মাইক: আগামী ২ বছরের মধ্যে আমরা হ্যাপি হোমসকে ২০ মিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করতে চাই। নতুন বছরে আমরা ৫০ মিলিয়ন ডলারের কিছু বড় প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করতে চাই। এসব প্রতিষ্ঠানে অনয়াসে ৫০০-৭০০ কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য কর্মীর পাশাপাশি আমরা বিনিয়োগকারী খুঁজছি।
 
প্রশ্ন: কীভাবে কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে?
মাইক: কর্মী নিয়োগের জন্য আমরা প্রতি শনিবার সকাল ১১ টায় ফেসবুক লাইভে থাকছি। এখানে চাকরিপ্রার্থীরা যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছে। পর্যাপ্ত দক্ষ লোকের অভাবের কারণে আমরা অনেক কাজই করতে পারছি না। এজন্য আমাদের তরুণ-তরুণীদেরকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। সরকারকে এবিষয়ে আরো বেশি করে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুধু সরকারই নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।
 
প্রশ্ন: স্নাতক শেষ করা চাকরি প্রার্থীদের জন্য কী করছেন? 
মাইক: যারা গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে, তাদের বিষয়টি আমরা সব সময়ই প্রাধান্য দিই। আমাদের হিউম্যান রিসোর্স টিম সব সময়ই এ বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করে। আমরা শত শত চাকরি প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করতে পারি যদি তাদের মাঝে ইংরেজি বিষয়ক দক্ষতা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।  

 
প্রশ্ন: দক্ষতা উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
মাইক: এজন্য আমরা গত বছর একটি ক্যারিয়ার বুটক্যাম্প করেছি। প্রথমবার বুটক্যাম্প করে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। আমরা দেখছি, তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক আগ্রহ ছিলো বুটক্যাম্প ঘিরে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা অংশগ্রহণ করেছে। এসব তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাই এবছরও আরো বড় পরিসরে বুটক্যাম্পের পরিকল্পনা করছি। চলতি বছরের ১২ মে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তজাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আবারো অনুষ্ঠিত হবে বুটক্যাম্প। যেখানে সরাসরি অংশগ্রহনের সুযোগ পাবেন চাকরি প্রত্যাশীরা। এছাড়া যেকোন জায়গা থেকে অনলাইনে কাজী আইটি ফেসবুক পেজে (https://www.facebook.com/ilovekaziit) সরাসরি যুক্ত থেকেও একই রকম সুযোগ পাবেন তারা। 
 
প্রশ্ন: তার মানে আপনার প্রতিষ্ঠানে তো ব্যাপক কাজের চাহিদা রয়েছে?
মাইক: আমাদের যে কাজ আসছে তার ১৫ শতাংশও আমরা শেষ করতে পারছি না। আমাদের ৬০-৭০ শতাংশ বাকি আছে মার্কেট ম্যাচিউরিটি করার জন্য।
 
প্রশ্ন: তাহলে তো আপনাদের প্রচুর কর্মী দরকার। কাদের অগ্রাধিকার দেবেন?
 
মাইক: হ্যাঁ, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমি কাজী আইটিকে দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হিসেবে দেখতে চাই। তাই বেশি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আর যুবকরা আমার সম্পদ, তাদেরই আমরা খুঁজছি। ফ্রেশ গ্রাজুয়েট বা যারা গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে, তাদের আমাদের খোঁজা লাগবে না। উল্টো আমি তাদের খুঁজছি। আমাদের এইচআর টিম আছে। ফেসবুকে আমরা কয়েক হাজার ডলার মাসে খরচ করি তাদের খোঁজার জন্য। তাদের ওয়ান বাই ওয়ান খুঁজছি। তারা যদি নিজেরাই আসে তাহলে তাড়াতাড়ি হতো।
 
প্রশ্ন: অর্থাৎ নিয়োগ দেয়ার জন্য আপনারা এখন মুখিয়ে আছেন?
মাইক: আমাদের কাজের অভাব নেই। আজ যদি আপনি ১০০ লোক দেন আমি সবাইকে নিয়োগ দিতে পারব। শুধু দেখব তারা ভালো ইংরেজি পড়তে, লিখতে ও বুঝতে পারে। ইংরেজিতে স্পিকিং অতটা লাগবে না। এমন যোগ্যতার আমাকে ১০০ লোক দিন, আমি তাদের নিয়োগ দেব। আমি তাদের জন্য কালকে আমেরিকায় আরেকটা কোম্পানি কিনব। কিনে আবার ১০০ লোক নিয়োগ দিতে পারব।
 
ব্রেকিংনিউজ/ইহক/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2